চিয়াং কাইশেক: চীন প্রজাতন্ত্রের অর্ধ শতাব্দীর একচ্ছত্র শাসক

তিনি পরিচিত ছিলেন ‘লাল জেনারেল’ নামে, যদিও পশ্চিমা প্রচারমাধ্যমে তিনি পরিচিতি লাভ করেছিলেন ‘জেনারেলিসিমো’ হিসেবে। তিনি ছিলেন জাপানি সেনাবাহিনীর একজন সদস্য, অথচ জাপানের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে তিনি জাপানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। সরকারবিরোধী বিপ্লবী থেকে পরিণত হয়েছিলেন নগণ্য অপরাধীতে, আবার সেখান থেকেই পৌঁছে যান রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে। একসময় তিনি ছিলেন কমিউনিস্টদের মিত্র, কিন্তু পরবর্তীতে তার বাকি জীবন ব্যয় হয় কমিউনিজমের বিরুদ্ধে সংগ্রামে। প্রায় অর্ধ শতাব্দীব্যাপী তিনি ছিলেন চীন প্রজাতন্ত্রের হর্তা-কর্তা-বিধাতা, কিন্তু চীনের মূল ভূখণ্ডে আজও তিনি ‘মহা খলনায়ক’ হিসেবে পরিচিত। এই বিচিত্র ব্যক্তিটি হলেন চিয়াং কাইশেক, যিনি জীবনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে পরিচিত হয়েছেন, এবং উচ্চারণভেদে যাকে ‘জিয়াং জিয়েশি’ বা ‘ছিয়াং ছিয়েশি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

১৮৮৭ সালের ৩১ অক্টোবর তদানীন্তন চিং সাম্রাজ্যের ছেছিয়াং প্রদেশের ক্ষুদ্র শহর সিকোছেনে চিয়াং জন্মগ্রহণ করেন। তাদের পরিবারটি ছিল ‘উ’ (Wu) সম্প্রদায়ভুক্ত, যারা হান চীনাদের একটি শাখা। তার বাবা ছিলেন একজন লবণ ব্যবসায়ী। তার যখন মাত্র ৮ বছর বয়স, তখন তার বাবার মৃত্যু ঘটে। এরপর মায়ের কাছেই বড় হন। ছোটবেলায় খুবই দুষ্ট প্রকৃতির ছিলেন। একইসঙ্গে সামরিক বিষয়াবলির প্রতি তার বিশেষ আকর্ষণ ছিল। এজন্য চিয়াং সামরিক বাহিনীতে যোগদানের উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।

১৯০৬ সালে তিনি ‘বাওদিং সামরিক অ্যাকাডেমি’তে ভর্তি হন, এবং পরবর্তী বছর সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য জাপানে যান। সেখানে তিনি ‘টোকিও শিনবু গাক্কো’য় ভর্তি হন। এটি ছিল জাপানি সেনাবাহিনীতে প্রবেশের জন্য প্রস্তুতিমূলক একটি স্কুল। এখান থেকে উত্তীর্ণ হয়ে ১৯০৮ সালে তিনি জাপানি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন, এবং ১৯১১ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সেসময় চিং সাম্রাজ্যের নাগরিকরা জাপানি সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে পারত।

১৯২০–এর দশকের প্রথমদিকে চিয়াং কাইশেক; Source: Wikimedia Commons

এই সময়টি ছিল চীনের জন্য একটি জাতীয় বিপর্যয়ের সময়। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সংঘটিত আফিম যুদ্ধের পর থেকে বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তি ও জাপান সামরিকভাবে দুর্বল চিং সাম্রাজ্যকে পরাস্ত করে তাদের ভূমি দখল ও অন্যান্য সুবিধা আদায় করে নিচ্ছিল। বৈদেশিক আক্রমণ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ, দুর্নীতি ও অপশাসনের ফলে মাঞ্চু–নিয়ন্ত্রিত চিং সাম্রাজ্য ক্রমশ পতনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এসময় চীনে নানা ধরনের গুপ্ত সংগঠন গড়ে উঠেছিল, যাদের উদ্দেশ্য ছিল চিং রাজবংশের পতন ঘটানো। এরকমই একটি গুপ্ত সংগঠন ছিল তংমেংহু, যেটি বিখ্যাত চীনা রাষ্ট্রনায়ক সান ইয়াৎ সেন ও অন্যান্যরা ১৯০৫ সালে গঠন করেছিলেন। এটির মূল উদ্দেশ্য ছিল চিং বংশকে উৎখাত করে চীনে সংখ্যাগরিষ্ঠ হান–নিয়ন্ত্রিত একটি প্রজাতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

সংগঠনটি জাপানে সক্রিয় ছিল, এবং জাপানি সেনাবাহিনীতে থাকা অবস্থায় চিয়াং সংগঠনটির সদস্য হন। ১৯১১ সালে চীনে বিপ্লব শুরু হলে চিয়াং বিপ্লবে অংশগ্রহণের জন্য জাপান থেকে চীনে চলে আসেন এবং সরকারবিরোধী বিপ্লবীদের একজন নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। বিপ্লব সফল হওয়ার পর সান ইয়াৎ সেন ‘জাতীয়তাবাদী দল’ নামক একটি দল গঠন করেন, এবং চিয়াং ছিলেন দলটির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। দলটি চীনা সম্রাটের বিরুদ্ধে একটি বিকল্প সরকার গঠন করে, এবং ১৯১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে চিং বংশের সর্বশেষ সম্রাট পদত্যাগ করেন।

চীন প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ইউয়ান শিকাই চীনের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, কিন্তু তিনি চীনে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে নিজেকে চীনের সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন, যদিও কার্যত তিনি কখনো সিংহাসনে আরোহণ করেননি। ১৯১৩ সালে সান ইয়াৎ সেনের নেতৃত্বে চীনা জাতীয়তাবাদীরা শিকাইকে উৎখাত করার চেষ্টা করে, এবং এই প্রচেষ্টায় চিয়াং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এবং দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯১৪ সালে সান তার দলের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘চীনা বিপ্লবী দল’। চিয়াং এই দলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং একপর্যায়ে দলটির সাংহাই শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

চীনা রাষ্ট্রনায়ক সান ইয়াৎ সেনের পাশে দাঁড়ানো চিয়াং কাইশেক; Source: Wikimedia Commons

এই পর্যায়ে চিয়াং চীনা রাজনীতির একজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব থেকে কার্যত একজন নগণ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। সাংহাইয়ে অবস্থানকালে তিনি সেখানকার একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন, যেটি ‘গ্রিন গ্যাং’ নামে পরিচিত ছিল। এই চক্রটি বিভিন্ন অর্থসংক্রান্ত অপরাধে যুক্ত ছিল। সেসময় সাংহাইয়ের একাংশ ব্রিটিশ ও মার্কিন নিয়ন্ত্রণাধীনে ছিল, এবং তাদের পুলিশ বাহিনী চিয়াংয়ের ওপর নজর রাখত।

১৯১৬ সালে ইউয়ান শিকাইয়ের মৃত্যু হয় এবং চীন কার্যত বিভিন্ন খণ্ডে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একেক প্রদেশে একেকজন যুদ্ধবাজ নেতা (warlord) প্রায় স্বাধীনভাবে রাজত্ব করতে থাকে, এবং তাদের ওপর বেইজিংকেন্দ্রিক সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এমতাবস্থায় সান ইয়াৎ সেন ১৯১৭ সালে বিদেশে নির্বাসন থেকে ক্যান্টনে (বর্তমান গুয়াংঝো) প্রত্যাবর্তন করেন এবং ১৯১৮ সালে চিয়াং তার সঙ্গে যোগদান করেন। এই সময়ে চিয়াং প্রায় সঙ্গীহীন সান ইয়াৎ সেনের একনিষ্ঠ সহযোগীতে পরিণত হন এবং এটি তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নিশ্চিত করে।

১৯১৯ সালে সান ইয়াৎ সেন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘ঝোঙ্গুয়ো গুয়োমিনদাং’ বা ‘চীনা জাতীয়তাবাদী দলে’ চিয়াং একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। এসময় সান একটি বেইজিংকেন্দ্রিক সরকারের বিরুদ্ধে একটি বিপ্লবী সরকার গঠন করেন এবং সামরিক পদ্ধতিতে সমগ্র চীনকে একত্রিত করার চেষ্টা করতে থাকেন। এসময় কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন চীনা জাতীয়তাবাদীদের লক্ষ্যের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল, এবং তারা প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র, অর্থ ও সামরিক উপদেষ্টা সরবরাহ করে তাদেরকে সহায়তা করে। একই সময়ে চীনে কমিউনিজম বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে, এবং চীনা জাতীয়তাবাদী দলে কমিউনিস্টদের যোগদানের অনুমতি প্রদান করা হয়।

১৯২৩ সালে সান চিয়াংকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রেরণ করেন। চিয়াং বিশেষত সোভিয়েত লাল ফৌজ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ছিলেন। সেখানে তিনি লিয়ন ত্রৎস্কি ও অন্যান্য শীর্ষ সোভিয়েত নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, কিন্তু সামগ্রিকভাবে চিয়াংয়ের মনে হয়েছিল যে, সোভিয়েত ব্যবস্থা চীনের সমস্যার উপযুক্ত সমাধান নয়। চার মাস মস্কোয় অবস্থানের পর তিনি চীনে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯২৪ সালে চিয়াংকে ক্যান্টনের নিকটবর্তী হাম্পোয়া সামরিক অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ নিযুক্ত করা হয়। এদিকে ১৯২৫ সালের ১২ মার্চ সান মৃত্যুবরণ করেন।

১৯২৭ সালে সাংহাইয়ে একদল কমিউনিস্টকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে; Source: Wikimedia Commons

সান ইয়াৎ সেনের মৃত্যুর পর নেতৃত্ব নিয়ে দলটিতে বিরোধ দেখা দেয়, এবং চীনা জাতীয়তাবাদী দলটি কার্যত বামপন্থী ও ডানপন্থী এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। চিয়াং ছিলেন দলের ডানপন্থী অংশের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি চীনা জমিদার ও ব্যবসায়ীদের সমর্থন লাভ করেন। চীনা ‘জাতীয় বিপ্লবী সেনাবাহিনী’র সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিনি ছিলেন তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বেশি ক্ষমতাধর। চিয়াং কমিউনিস্টদের নিজস্ব ক্ষমতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতেন, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কারণ, চীনকে একত্রিত করার জন্য তার সোভিয়েত সহায়তার প্রয়োজন ছিল। এজন্য তিনি কখনো কমিউনিস্টদের প্রতি কঠোর নীতি গ্রহণ করেন, আবার কখনো তাদের প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শন করেন, এবং এই পুরো সময় জুড়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন যাতে তাকে সমর্থন প্রদান অব্যাহত রাখে সেটি চাতুর্যের সঙ্গে নিশ্চিত করেন।

এসময় চীনা জাতীয়তাবাদী সরকার মূলত দক্ষিণ চীনকেন্দ্রিক ছিল। উত্তর চীন তাদের আওতার বাইরে ছিল। এজন্য চিয়াং ১৯২৬ সালে সোভিয়েত সহায়তায় ‘উত্তরাঞ্চলীয় অভিযান’ (Northern Expedition) আরম্ভ করেন, যেটির উদ্দেশ্য ছিল উত্তর চীনের যুদ্ধবাজ নেতাদের এবং বেইজিংকেন্দ্রিক সরকারকে পরাজিত করে সমগ্র চীনকে একত্রিত করা। এই অভিযান চলাকালেই ১৯২৭ সালে চিয়াং আকস্মিকভাবে চীনা কমিউনিস্টদের ওপর গণহত্যা চালাতে শুরু করেন এবং সোভিয়েত উপদেষ্টাদের বহিষ্কার করেন। এমতাবস্থায় কমিউনিস্টরা ১৯২৭ সালের ১ আগস্ট বিদ্রোহ করে এবং নিজস্ব সরকার ও সেনাবাহিনী গঠন করে। তারা গ্রামাঞ্চলে শক্ত ঘাঁটি স্থাপন করে এবং চীনা জাতীয়তাবাদী সরকারকে উৎখাত করার প্রচেষ্টা শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে চীনা গৃহযুদ্ধের প্রথম ধাপ আরম্ভ হয়।

এদিকে ১৯২৮ সালের মধ্যে চীনা জাতীয়তাবাদী সৈন্যরা উত্তর চীনের যুদ্ধবাজ নেতাদের পরাজিত করে ও বেইজিং দখল করে নেয়। এর মধ্য দিয়ে অন্তত আনুষ্ঠানিকভাবে চীন পুনরায় একত্রিত হয়। নানচিংয়ে চীনা কেন্দ্রীয় সরকারের রাজধানী স্থাপিত হয়। এসময় থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত চিয়াং বিভিন্ন মেয়াদে চীনের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চিয়াং চীনে বিস্তৃত সামাজিক সংস্কার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু সেগুলোর সিংহভাগই বাস্তবায়িত হয়নি। তদুপরি, চিয়াংয়ের সরকার ছিল ব্যাপকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত, এবং চীনের জনসাধারণের প্রায় ৯০% কৃষক হওয়া সত্ত্বেও চিয়াং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

১৯৩১ সালে ‘টাইম’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে চিয়াং কাইশেক ও তার স্ত্রী; Source: Wikimedia Commons

একই সময়ে চিয়াং রাষ্ট্রীয়ভাবে কনফুসিয়াসের মতবাদকে আদর্শ হিসেবে প্রচার করতে থাকেন। ১৯৩৪ সালে তার উদ্যোগে চীনে ‘নিউ লাইফ মুভমেন্ট’ আরম্ভ হয়, যেটির উদ্দেশ্য ছিল চীনা জনসাধারণের মধ্যে কনফুসীয় আদর্শ ও নৈতিকতার বিস্তার ঘটানো। চিয়াং খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু কিছু কিছু পশ্চিমা প্রভাবকে তিনি ভালো চোখে দেখতেন না।

চিয়াংয়ের পুরো শাসনকাল ছিল রক্তক্ষয়ী অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং বৈদেশিক আক্রমণে পরিপূর্ণ। ১৯২৭ সালে চীনা গৃহযুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পরের বছরগুলোতে চীনা জাতীয়তাবাদীরা প্রায় তিন লক্ষ বেসামরিক চীনাকে কমিউনিস্ট সন্দেহে খুন করে, কিন্তু কমিউনিস্টদের দমন করা চিয়াংয়ের পক্ষে সম্ভব হয়নি। চিয়াং কমিউনিস্টদের দমন করার জন্য পরপর ৬টি বড় মাত্রার সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন, এবং এই অভিযানগুলোতে উভয় পক্ষেরই প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়, কিন্তু কমিউনিস্টরা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়নি। তদুপরি, চিয়াং যেসব যুদ্ধবাজ নেতাকে পরাজিত করেছিলেন, তাদের ক্ষমতা পুরোপুরি লুপ্ত হয়নি এবং গৃহযুদ্ধের সুযোগে তারা অনেকটা নিজেদের মতো নিজ নিজ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে।

১৯২৯ সালে মাঞ্চুরিয়ায় অবস্থিত ‘চীনা পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথ’ (Chinese Eastern Railway) নিয়ে চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ হয়, এবং চীনা জাতীয়তাবাদী সৈন্যরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ১৯৩১ সালে জাপান মাঞ্চুরিয়া দখল করে নেয় এবং সেখানে ‘মাঞ্চুকুয়ো’ নামক একটি বাহ্যিকভাবে স্বাধীন কিন্তু কার্যত জাপানি–নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে, কিন্তু চিয়াং তাদেরকে সক্রিয়ভাবে কোনো বাধা প্রদান করেননি। ১৯৩০–এর দশকে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চল কার্যত একটি অনানুষ্ঠানিক সোভিয়েত প্রদেশে পরিণত হয় এবং সোভিয়েতরা ১৯৩৪ ও ১৯৩৭ সালে সেখানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে চীনা জাতীয়তাবাদী সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এক্ষেত্রেও চিয়াং কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এদিকে মাঞ্চুরিয়া দখলের পর জাপান চীনের বাকি অংশ দখলের প্রচেষ্টা শুরু করে এবং চীনা জাতীয়তাবাদী সৈন্যদের সঙ্গে জাপানিদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ শুরু হয়, কিন্তু তবুও চিয়াং এদিকে দৃষ্টিপাত করতে ইচ্ছুক ছিলেন না।

প্রতিদ্বন্দ্বী মাও জেদংয়ের সঙ্গে চিয়াং কাইশেক; Source: Wikimedia Commons

বস্তুত চিয়াং কমিউনিস্টদেরকে তার জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতেন এবং সর্বাগ্রে তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে ইচ্ছুক ছিলেন। তিনি একবার মন্তব্য করেছিলেন, “জাপানিরা হচ্ছে চর্মরোগ, আর কমিউনিস্টরা হচ্ছে হৃদরোগ!” কিন্তু চিয়াংয়ের বৈদেশিক আগ্রাসন মোকাবিলা না করে অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করাকে চীনা জনসাধারণ ভালোভাবে নেয়নি। এমনকি চিয়াংয়ের নিজস্ব দলের অনেকেও এই ব্যাপারটি মেনে নিতে পারছিল না। ফলে ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বরে একজন চীনা জাতীয়তাবাদী জেনারেল চিয়াংকে অপহরণ করেন এবং জাপানি আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য কমিউনিস্টদের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপনের জন্য চিয়াংকে বাধ্য করেন। এর মধ্য দিয়ে চীনা গৃহযুদ্ধের প্রথম ধাপের অবসান ঘটে।

১৯৩৭ সালের জুলাইয়ে চীন ও জাপানের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়, এবং চীনাদের তীব্র প্রতিরোধ সত্ত্বেও জাপানিরা ক্রমশ চীনের এক বিস্তীর্ণ অংশ দখল করে নিতে সক্ষম হয়। চিয়াংকে তার জাতীয়তাবাদী সৈন্যদল নিয়ে ক্রমশ পশ্চাৎপসরণ করতে হয়। জাপানিরা চীনে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এবং লক্ষ লক্ষ বেসামরিক চীনা নাগরিক জাপানিদের হাতে প্রাণ হারায়। কিন্তু চীনের বিশালত্ব ও জাপানিদের জনবলের সীমাবদ্ধতা চিয়াংকে পরিপূর্ণ পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। ফলে চীনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে নিতে সক্ষম হলেও জাপানিদের পক্ষে চীনকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধ প্রলম্বিত রূপ ধারণ করে, এবং ১৯৪১ সালে জাপান কর্তৃক পার্ল হারবার আক্রমণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও মিত্রশক্তির অন্যান্য রাষ্ট্র (সোভিয়েত ইউনিয়ন বাদে) জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদান করে।

যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে চিয়াংয়ের সরকার চরম অকর্মণ্যতার পরিচয় দেয়, এবং যুদ্ধের সময়ও তাদের দুর্নীতি হ্রাস পায়নি। তারা চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ থেকে বেঁচে যায় ঠিকই, কিন্তু হারানো ভূমি পুনরুদ্ধার বা জাপানকে পরাজিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। লক্ষ লক্ষ চীনা সৈন্য জাপানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত হয়। তদুপরি, চিয়াংয়ের সরকারের কার্যক্রম চীনা জনসাধারণের দুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি করে। ১৯৩৮ সালে জাপানিদের অগ্রগতি রুদ্ধ করার লক্ষ্যে চীনা জাতীয়তাবাদী সৈন্যরা পীত নদীর বাঁধ ভেঙে দেয় এবং এর ফলে প্রায় ১০ লক্ষ বেসামরিক চীনা নাগরিক জলমগ্ন হয়ে মৃত্যুবরণ করে। ১৯৪১–১৯৪৩ সালে চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ফলে হেনান প্রদেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং প্রায় ২০ থেকে ৩০ লক্ষ মানুষ এই দুর্ভিক্ষের ফলে প্রাণ হারায়। তদুপরি, চিয়াং সকল চীনা পুরুষের জন্য সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করেন, এবং তরুণদের বলপূর্বক সামরিক বাহিনীতে ভর্তির প্রচেষ্টা ও অন্যান্য কারণে লক্ষ লক্ষ বেসামরিক চীনা প্রাণ হারায়।

চীনা জাতীয়তাবাদী সরকারের রাজধানী নানচিং দখলের পর শহরটিতে একদল জাপানি সৈন্য; Source: Pinterest

১৯৪৫ সালে মিত্রশক্তির নিকট জাপান পরাজিত হয় এবং চীন বিশ্বের চার বৃহৎ শক্তির মধ্যে একটি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের একটি হিসেবে চীন প্রজাতন্ত্র আবির্ভূত হয়। যুদ্ধে বিজয়ী শক্তি হিসেবে চীন জাপান কর্তৃক দখলকৃত সকল ভূমি (তাইওয়ান–সহ) ফিরে পায়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে হওয়া ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি চীনা জাতীয়তাবাদী সৈন্যবাহিনীকে মারাত্মক এক দুর্বল অবস্থানে ফেলে দেয়, যেটি চিয়াংয়ের জন্য বিপর্যয়কর হয়ে দাঁড়ায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে চিয়াংয়ের সঙ্গে কমিউনিস্টদের মৈত্রী দ্রুত ভেঙে পড়ে। ১৯৪৫ সালের অক্টোবর থেকে চীনা জাতীয়তাবাদী ও কমিউনিস্টদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়, এবং ১৯৪৬ সালে চীনা গৃহযুদ্ধে নতুন করে পুরোদমে শুরু হয়। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে চিয়াংয়ের সৈন্যবাহিনী যখন জাপানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ সৈন্য হারাচ্ছিল, তখন কমিউনিস্টরা দ্রুতগতিতে শক্তি সঞ্চয় করছিল এবং জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। তদুপরি, যুদ্ধের পরেও চিয়াং তার সরকারের দুর্নীতিকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করতে পারেননি, ফলে তার সরকার ক্রমশ অজনপ্রিয় হয়ে পড়ছিল। এর পাশাপাশি সোভিয়েত ইউনিয়ন চীনা কমিউনিস্টদের সামরিক সহায়তা প্রদান করতে শুরু করে।

স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চিয়াং সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা লাভ করেন। চীনা জাতীয়তাবাদীদের সহায়তা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের মাটিতে সৈন্যও প্রেরণ করে। কিন্তু কিছুতেই চিয়াংয়ের পক্ষে কমিউনিস্টদের অগ্রযাত্রা রোধ করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ১৯৪৯ সালের অক্টোবরে কমিউনিস্টরা চীনকে একটি ‘গণপ্রজাতন্ত্র’ (People’s Republic) ঘোষণা করে, এবং একই বছরের ডিসেম্বরে চীনা কমিউনিস্ট সৈন্যরা জাতীয়তাবাদীদের নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বশেষ শহর চেংদু দখল করে নেয়। পরাজিত জাতীয়তাবাদীরা চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে পশ্চাৎপসরণ করে তাইওয়ান দ্বীপে আশ্রয় গ্রহণ করে। ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর চিয়াং কাইশেক ও তার ছেলে চিয়াং চিং–কুয়ো তাইওয়ানে পালিয়ে যান। চিয়াং আর কখনো চীনের মূল ভূখণ্ডে ফিরতে পারেননি।

১৯৪৫ সালে একটি বিমানঘাঁটি পরিদর্শনকালে চিয়াং কাইশেক; Source: Wikimedia Commons

তাইওয়ানে আশ্রয় গ্রহণের পর চীনা জাতীয়তাবাদীরা সেখানে তাদের স্থাপিত রাষ্ট্রকে ‘চীন প্রজাতন্ত্র’ নামেই চালাতে থাকে। ১৯৫০ সালের ১ মার্চ চিয়াং তাইওয়ানভিত্তিক চীন প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন, এবং আমৃত্যু তিনি এই পদে বহাল ছিলেন। চিয়াং চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে তার পশ্চাৎপসরণকে সাময়িক হিসেবে বিবেচনা করতেন। তার পরিকল্পনা ছিল যে, সেখান থেকে চীনের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ চালিয়ে তিনি কমিউনিস্টদের বিতাড়িত করবেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি তাইওয়ানকে প্রস্তুত করতে থাকেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত উত্তর–পশ্চিম চীনে মুসলিম জাতীয়তাবাদীরা কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহে লিপ্ত ছিল, সেটিকে চিয়াং পূর্ণ সমর্থন প্রদান করেন। কিন্তু ক্রমশ তাইওয়ানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে চীনের মূল ভূখণ্ড পুনর্দখলের সম্ভাবনা ফিকে হয়ে আসতে থাকে।

অন্যদিকে, চীন তাইওয়ানকে নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করতে থাকে এবং ১৯৫০–এর দশকে তাইওয়ান আক্রমণের প্রচেষ্টাও চালায়, যদিও মার্কিন বিরোধিতার কারণে এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়িত হয়নি। সম্ভাব্য চীনা আক্রমণ থেকে তাইওয়ানকে (বা ‘চীন প্রজাতন্ত্র’কে) সুরক্ষিত রাখার জন্য চিয়াং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং স্নায়ুযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। কোরীয় যুদ্ধ এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালে চিয়াং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কোরীয় উপদ্বীপ ও ভিয়েতনামে সৈন্য প্রেরণ করেন।

চিয়াংয়ের অধীনস্থ চীন প্রজাতন্ত্র বা তাইওয়ান ছিল একটি একদলীয় রাষ্ট্র, এবং সর্বময় ক্ষমতা ‘চীনা জাতীয়তাবাদী দলে’র হাতে ন্যস্ত ছিল। চিয়াং অনুধাবন করেছিলেন যে, চীনা গৃহযুদ্ধে জাতীয়তাবাদীদের পরাজয়ের একটি বড় কারণ ছিল তাদের সীমাহীন দুর্নীতি। এজন্য তিনি তাইওয়ানে দুর্নীতি দমনের প্রচেষ্টা চালান। তার শাসনামলে তাইওয়ানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গৃহীত হয়, এবং বিশেষত রপ্তানি খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। অবশ্য মানবাধিকার বা রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাইওয়ানেও চিয়াংয়ের রেকর্ড খুব একটা ভালো ছিল না।

১৯৬৬ সালে তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে একটি অনুষ্ঠানে চিয়াং কাইশেক; Source: Wikimedia Commons

১৯৭১ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র তাইওয়ানভিত্তিক ‘চীন প্রজাতন্ত্র’কে চীনের প্রকৃত সরকার হিসেবে বিবেচনা করত, এবং চিয়াংয়ের সরকার জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধিত্ব করত। কিন্তু ১৯৭১ সালে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এ বছরে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন জাতিসংঘে চীনের আসন লাভ করে, এবং তাইওয়ানভিত্তিক চীন প্রজাতন্ত্রকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কার করা হয়। অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তখনো চিয়াংয়ের সরকারকেই চীনের প্রকৃত সরকার হিসেবে বিবেচনা করত। ১৯৭৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। অবশ্য চিয়াং তখন জীবিত ছিলেন না।

১৯৭৫ সালের ৫ এপ্রিল তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেইয়ের কেন্দ্রীয় হাসপাতালে চিয়াংয়ের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে তাইওয়ানে এক মাসব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। অবশ্য গণপ্রজাতন্ত্রী চীনে তার মৃত্যুতে কোনো শোক প্রকাশ করা হয়নি। চিয়াংকে তাইওয়ানের তাওইউয়ান শহরে অবস্থিত ‘স্বর্গীয় রাষ্ট্রপতি চিয়াং স্মৃতিসৌধে’ সমাহিত করা হয়েছে। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে চিয়াং চিং–কুয়ো ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

চিয়াং কাইশেক প্রায় অর্ধ শতাব্দীব্যাপী চীন প্রজাতন্ত্রের শাসক ছিলেন। বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে উল্লেখ্য ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। কিন্তু তার সম্পর্কে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের মূল্যায়ণ রয়েছে। একদিকে তিনি বহু খণ্ডে বিভক্ত চীনকে একত্রিত করেছেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জাপানি আগ্রাসনের কাছে নতি স্বীকার করা থেকে বিরত থাকতে সমর্থ হয়েছেন, অন্যদিকে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অজস্র মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী এবং তার সরকারের দুর্নীতি ও অকর্মণ্যতা চীনে কমিউনিজমের বিকল্প একটি সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনে তাকে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত, অকর্মণ্য, নিষ্ঠুর ও পরাজিত একনায়ক হিসেবে চিত্রিত করা হয়। অন্যদিকে, তাইওয়ানভিত্তিক চীন প্রজাতন্ত্রে তাকে একজন মহান কমিউনিজমবিরোধী নেতা এবং চীনের প্রকৃত একত্রকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

Related Articles