অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস; ছবিসূত্রঃ diygenius.com

স্টিভ জবস আর নেই। ইহলোক ত্যাগ করেছেন অনেক দিন হয়েছে। কিন্তু প্রাত্যহিক জীবনে তাকে স্মরণ করা হয়নি এমন একটি দিন কি কেটেছে? উত্তর- না। কেননা তার কাজের প্রভাব এতটাই সুদূরপ্রসারী যে, এর প্রভাব থাকবে আরও অনেক কাল। তিনিও সেসবের মাধ্যমে আমাদের মাঝে বাস করবেন আরও অনেক দিন। তিনি যে শুধু কম্পিউটার, সঙ্গীত আর প্রকাশনা শিল্পেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন তা নয়, তিনি আরও একটি বিষয়কে শিল্পের রূপ দিয়ে গেছেন; আর তা হলো নেতৃত্ব।

যেকোনো উদ্যোক্তার স্বপ্ন থাকে তিনি এমন একটি বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন যার মাঝে তিনি নতুনত্ব আনবেন। অথচ স্টিভ জবস একাই প্রায় অর্ধ ডজন পণ্যের আমূল পরিবর্তন করে যান। ব্যক্তিগত কম্পিউটার থেকে শুরু করে ফোন, সঙ্গীত, অ্যানিমেশন, প্রকাশনা এবং ভিডিও গেমসের দুনিয়ায় জবস চিরকালীন পরিবর্তন সাধন করে গেছেন। তিনি ছিলেন দূরদর্শী চিন্তাবিদ, দক্ষ পরিচালক, অসাধারণ কৌশলী এবং নিত্য প্রেরণাদায়ক। অধিকাংশ মানুষই তাকে কিছু নির্দিষ্ট শব্দের মধ্যে বেঁধে ফেলে; যেমন- দর্শনশক্তি, নতুনত্ব, যোগাযোগ ক্ষমতা এবং অদম্য প্রেরণা। অবশ্যই এই গুণগুলো তার মধ্যে সম্পূর্ণরূপেই ছিল কিন্তু এই গুটিকয় স্ততিবাচক শব্দ পরিপূর্ণ স্টিভকে বর্ণনা করতে পারে না। তাকে হারিয়ে পৃথিবী কেবল এই প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ একজন সিইও কেই হারায়নি, পৃথিবী হারিয়েছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক শিল্পীকে।

বাবার সাথে শিশু স্টিভ; ছবিসূত্রঃwww.e-reading.club

স্টিভ জবস ১৯৫৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার স্যানফ্রান্সিসকোতে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মসূত্রে পিতা আবদুল ফাত্তাহ জান্দালি এবং মাতা জোয়ান সিম্পসন তাকে দত্তক দিয়ে দেন। পল ও ক্লারা জবসের মধ্যবিত্ত পরিবারেই বড় হন জবস। তবে তিনি যে তার পিতা-মাতার দত্তক পুত্র একথা আবিষ্কার করতে ২৭ বছর লেগে যায় তার।

ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণে উপসাগরীয় অঞ্চলে বেড়ে ওঠেন একাকী বালক জবস। শৈশব থেকেই তার ছিল জটিলতার প্রতি ঝোঁক। মাধ্যমিক স্কুলে থাকাকালীনই তার ইলেকট্রনিকসের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। ১৯৬৯ সালে তার পরিচয় হয় দ্বিতীয় স্টিভ,অর্থাৎ স্টিভ ওজনিয়াকের সাথে, যিনি পরবর্তীতে ‘উজ’ নামে পরিচিত হন। যখন স্টিভ তার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার চেষ্টায় ব্যস্ত, ওজনিয়াক ততদিনে ইলেকট্রনিকসে পটু এক বালক।

স্টিভ জবস এবং স্টিভ ওজনিয়াক; ছবিসূত্রঃ www.businessinsider.com

১৯৭৬ সালে ওজনিয়াক জবসের সাথে তার কম্পিউটার তৈরীর ব্যবসা শুরু করেন, জবস তার নাম দেন অ্যাপল। জবসের পরামর্শ অনুযায়ী তার গ্যারেজে সার্কিট বোর্ড তৈরী করা হতো যা স্থানীয় কম্পিউটারের দোকানে বিক্রয় করে কোম্পানি চালানোর অর্থ জোগান হতো। অন্যদিকে ওজনিয়াক সে সময় অ্যাপল-২ এর কাজ করছিলেন। ১৯৭৭ সালে অ্যাপল-২ এর কাজ শেষ হয়। তখন এই কম্পিউটারটিই ছিল বাজারের সবচেয়ে অগ্রসর কম্পিউটার। বুদ্ধিমান জবস এই সুযোগ হাতছাড়া করলেন না। তিনি ইন্টেলের সাবেক কার্যনিবাহক মাইক মারকুলার সাথে আড়াই লাখ ডলারের একটি চুক্তি করেন। এই চুক্তির ফলে মাত্র দুই বছরের কম সময়ে অ্যাপল ঢুকে যায় ফরচুন-৫০০ এর তালিকায়!

১৯৮০ সালের ডিসেম্বরে অ্যাপলের কম্পিউটার প্রথমবারের মতো ব্যবসায়িকভাবে বাজারে আসে। তখন স্টিভ জবসের বয়স মাত্র ২৫ আর তার নেট মূল্য ততদিনে ২০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে! যেদিন থেকে অ্যাপলের পার্সোনাল কম্পিউটার বাজারে আসে, সেদিন থেকেই তা বিশ্বের কম্পিউটার জগতে বিপ্লবের একক প্রতীক হয়ে ওঠে।

মেয়ে লিসার সাথে স্টিভ জবস; ছবিসূত্রঃ businessinsider.com

খুব দ্রুতই রেগে যেতেন স্টিভ জবস। আর এই রাগ তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। কাছের বন্ধু ওজনিয়াকের সাথে তার সম্পর্কে দ্রতই চিড় ধরে। এরই মাঝে তিনি তার বান্ধবী ক্রিসান বার্নান এর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে যান, জন্ম হয় লিসার। কিন্তু স্টিভ লিসাকে নিজের মেয়ে বলে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে লিসার জীবন হয়ে ওঠে অভাব পীড়িত। ব্যক্তিজীবন যখন তার সবচেয়ে অগোছালো, তখনই তার তত্ত্বাবধানে বাজারে আসে অ্যাপল-৩ যা একেবারেই সুবিধা করতে পারেনি। এসময় তিনি ওজনিয়াকের বলয় থেকে বেরিয়ে একেবারে নিজের মতো করে একটি ব্যবসায়িক কম্পিউটার নিয়ে কাজ করছিলেন যার নাম দেন ‘লিসা’। কিন্তু প্রচন্ড ক্রোধের কারণে দ্রুতই লিসা প্রজেক্ট থেকে বরখাস্ত হন জবস।

মনে ক্ষোভ নিয়ে তিনি কাজ শুরু করেন ম্যাকিন্টশের। তবে ভাগ্য এবারও সহায় হলো না স্টিভ জবসের। ম্যাকিন্টশ বাজারে ফ্লপ। অ্যাপলে নিজের স্থান ধরে রাখতে তিনি এবার পেপসির তৎকালীন কার্যনিবাহক স্কালীর কাছে যান। কিন্তু চতুর স্কালী বরং জবসকে ব্যবহার করে অ্যাপলে নিজের অবস্থান সংহত করেন। পরবর্তীতে স্কালীর বিরুদ্ধে ক্যু করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে কোম্পানিতে পদাবনতী হয় জবসের। স্কালী বোর্ডের মিটিং ডেকে জবসের পক্ষে/বিপক্ষে ভোট দেয়ার কথা বলেন এবং প্রায় সবাই বিপক্ষে ভোট দেয়। ফলে নিজের গড়া কোম্পানি থেকেই বহিষ্কৃত হন তিনি!

স্টিভ জবস এবং তার নেক্সট কিউব; ছবিসূত্রঃ pinterest.com

অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হওয়াটা স্টিভ জবসের জন্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা ছিল। তবে কিভাবে প্রতিযোগিতায় ফিরতে হবে তা ভাল করেই জানতেন জবস। ১৯৮৩ সালে তিনি ‘নেক্সট’ নামে আরেকটি কম্পিউটার কোম্পানি খোলেন। তার তত্ত্বাবধানে তৈরি হয় নেক্সট কিউব। কিন্তু বিধিবাম, যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে তিনি নেক্সট কিউব তৈরি করেন তা সফল হয়নি। অতিরিক্ত মূল্যের কারণে বাজারে খুব একটা সুবিধা করতে পারে নি নেক্সট। ফলে ১৯৯৩ সাল নাগাদ নেক্সট কম্পিউটার কোম্পানি হার্ডওয়্যার বিক্রি বন্ধ করে কেবল সফটওয়্যার ব্যবসায় আসতে বাধ্য হয়।

ডিজনি ও পিক্সার প্রকাশনীর নির্মিত অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র টয় স্টোরি; ছবিসূত্রঃ 54disneyreviews.com

নেক্সট সফল হয়নি, কিন্তু তাতে জবসের কি আসে যায়! ইতোমধ্যে যে সাফল্যের চূড়ায় ওঠার সিড়ি খুঁজে পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। নেক্সট চালু করার এক বছর পর ১৯৮৬ সালে জবস লুকাস ফিল্মের গ্রাফিক্স ডিপার্টমেন্ট ‘দ্যা গ্রাফিক্স গ্রুপ’ কিনে নেন। তিনি এর নাম পরিবর্তন করে ‘পিক্সার’ রাখেন। সেবছরই পিক্সার থেকে তাদের প্রথম অ্যানিমেশন ছবি ‘লুক্সো জুনিয়র’ মুক্তি পায়। ছবিটি ব্যবসাসফল হবার পাশাপাশি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। ১৯৯১ সালে পিক্সার স্টুডিও ডিজনির সাথে একটি চুক্তি সই করে। এই দুই স্টুডিওর মিলিত ব্যানারেই ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার দ্বারা তৈরি অ্যানিমেশন মুভি ‘টয় স্টোরি’ যা বক্স অফিসে ব্যাপক সাড়া জাগায়। এই ছবিটি মুক্তির পর স্টিভ জবস, যিনি কিনা পিক্সারের ৮০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন, ১.৫ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের নেট সম্পদের মালিক বনে যান। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে পিক্সার সম্পূর্ণরূপে ডিজনির সাথে একত্রিত হয়ে গেলে জবস ডিজনির সবচেয়ে বড় অংশীদার হয়ে যান।

স্টিভ জবসকে অ্যাপল থেকে বের করে দেয়ার পর আর এই কোম্পানি লাভের মুখ দেখেনি। ১৯৯৩ সালেই স্কালীকে সিইও পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর তিন বছর পর অ্যাপলের নতুন সিইও হিসেবে নিয়োগ পান জিল অ্যামেলিও যিনি বাজার ফিরে পেতে ৪০০ মিলিয়ন ডলারে নেক্সট কিনে নেন। আর এরই সাথে পুনঃরায় অ্যাপলে ফিরে আসেন স্টিভ জবস। এক দশক আগে যাকে বহিষ্কার করা হয়, সেই স্টিভকেই অ্যাপল আবার সসম্মানে গ্রহণ করে তবে একটু বিশেষ ভঙ্গীতে। জবসের পদ হয় আইসিইও (Informal Adviser to the CEO)।

পরের বছর অ্যামেলিও ১৯৯৭ এর প্রথমার্ধে অ্যাপলের প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। সাথে সাথে বোর্ড তাকে বহিষ্কার করে সেবছর জুলাইয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সিইও হিসেবে জবসকে নিয়োগ দেয়। মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই অ্যাপলকে আবার লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন জবস। তবে অ্যাপলের সত্যিকারের রেনেসাঁ সংঘটিত হয় ১৯৯৮ সালে আইম্যাক বাজারে আসার পর। পার্সোনাল কম্পিউটারের জগতে আইম্যাক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। পরের বছর অ্যাপল বাজারে ছাড়ে আইবুক, যার সাথে অ্যাপলের শৈল্পিক উদ্ভাবন চলতে থাকে। নতুন করে নিয়োগ পাবার তিন বছরের মাথায় জবস যখন নিজ প্রতিভায় প্রতিষ্ঠিত, তখন এক সময় তাকে বহিষ্কার করা অ্যাপলের সেই বোর্ডই আবার তাকে কোম্পানির সিইও পদে পুনঃনিয়োগ করে। ২০০০ সালের জানুয়ারি থেকেই জবস আবার অ্যাপলের প্রধান কার্যনির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

আইফোন-১ এর প্রথম প্রদর্শনীতে স্টিভ জবস; ছবিসূত্রঃ yourstory.com

২০০১ সালে অ্যাপল তাদের অপ্রত্যাশিত পণ্য আইপড থেকে ব্যাপক সাড়া পায়। মাত্র একটি সিগারেট বক্সের আকারের এই আইপড গান শোনার জন্য প্রথম কোন পুর্ণাঙ্গ একক যন্ত্র ছিল। ২০০২ সালে অ্যাপল আইপডের উইন্ডোজ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সংস্করণ বাজারে আনে। পরের বছর অ্যাপল আইটিউনস মিউজিক স্টোর উদ্বোধন করে যা সঙ্গীত জগতে আনে আমূল পরিবর্তন। ২০০৬ সাল নাগাদ আইপড এর মার্কেট শেয়ার ৭৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়!

এরপরই ম্যাকবুকের জগতে আসে স্টিভ জবসের জীবনের সেরা উদ্ভাবন, আইফোন। সম্ভবত আইফোনই অ্যাপলের সবচেয়ে মৌলিক এবং বৈপ্লবিক উদ্ভাবন। ২০০৭ সালে অ্যাপল আইফোনের মাধ্যমে একসাথে একটি কম্পিউটার, একটি আইপড এবং একটি মোবাইল ফোন পৌছে দেয় মানুষের পকেটে। এই যুগান্তকারী উদ্ভাবন এতোটাই ব্যবসা সফল হয় যে অ্যাপল কম্পিউটার ব্যবসা থেকেই বেরিয়ে আসে! সেবছর ম্যাকওয়ার্ল্ড ২০০৭ নির্মাণের পরই স্টিভ অ্যাপলের কম্পিউটার ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেন। ‘অ্যাপল কম্পিউটার ইনকর্পোরেশন’ এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘অ্যাপল ইনকর্পোরেশন’। তখন থেকেই অ্যাপল কম্পিউটার নির্মাণ বন্ধ করে দেয়।

২০০৩ সালে স্টিভ জবসের অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার ধরা পরে। প্রথমে তিনি একে বেশি গুরুত্ব দেননি। কিন্তু ২০০৪ সালে তিনি অস্ত্রোপচারের জন্য রাজি হন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত স্টিভ এবং তার কোম্পানি অ্যাপল তার ক্যান্সারের ব্যাপারটি অস্বীকার করে আসছিলেন। কিন্তু সেবছর তিনি অ্যাপলের একটি পণ্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় তার অসুখের কথাটি প্রকাশ্যে আসে। ২০০৯ এর প্রথমার্ধে তিনি প্রায় ছয় মাস সকল ধরণের কাজের বাইরে থাকেন এবং একই বছর এপ্রিলে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করান।

পরের বছর অ্যাপল দেখতে পায় একজন অবিশ্বাস্য রকমের কর্মক্ষম জবসকে। তবে রোগমুক্তির এই স্বাদ তিনি বেশি দিন নিতে পারেননি। ২০১১ সালের শুরুর দিকেই তার স্বাস্থ্য আবার খারাপ হতে শুরু করে। সেবছরই আগস্ট মাসে অ্যাপলের সিইও পদ থেকে অবসর নেন জবস। তবে বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। অবসরের মাত্র দুই মাস পরেই ৫ই অক্টোবর ৫৬ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়িতে মারা যান এই কীর্তিমান মহাপুরুষ।

ভাল-মন্দের সংমিশ্রণেই গড়ে ওঠে প্রতিটি মানুষ। কিন্তু স্টিভ জবসের অনন্য অসাধারণ প্রতিভা, অসীম কর্মোদ্যম এবং নিজের প্রতি অগাধ বিশ্বাস তার ত্রুটিগুলোকে খুব সহজেই ঢেকে ফেলে। ইতিহাস তাকে মনে রাখবে একজন সফল সিইও হিসেবে নয়, একজন কীর্তিমান শিল্পী হিসেবে।

স্টিভ জবস সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

  • স্টিভ জবস মূলত ‘হাফ-সিরিয়ান’ ছিলেন। বাবা ছিলেন একজন সিরিয়ান নাগরিক। তার মায়ের নাম জোন স্কিবল ও বাবা সিরিয়ান ইমিগ্র্যান্ট আবদুল ফাত্তাহ জান্দালি। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় তাদের দুজনের দেখা হয়। শিক্ষা জীবনে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জন্ম হয় স্টিভের। বিতর্ক এড়াতে তাই তাকে দত্তক দিয়ে দেয়া হয়। ফলে স্টিভ জবস হয়ে যান পল রেনল্ড জবস ও ক্লারা জবসের পালক সন্তান।
  • পোর্টল্যাণ্ডের রিড কলেজ থেকে প্রথম সেমিস্টার শেষ করেই তিনি পড়ালেখার পাট চুকিয়ে ফেলেন এবং কলেজ ছাড়ার এক বছরের মাথায় অ্যাপেল প্রতিষ্ঠা করেন
  • জবস ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। কলেজ ছাড়ার পর জব্স ভারত ভ্রমণ করেন এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। কোনো এক মঠের সন্ন্যাসী হয়ে জীবন কাটানোর চিন্তাভাবনাও করেছিলেন তিনি!
  • জবস মাছ খেতেন। কোনো প্রকার মাংস খেতেন না।
  • জবস তার স্কুলে ষষ্ঠ গ্রেড পড়ালেখা করেননি। পরে তার শিক্ষকরা তাকে সপ্তম গ্রেডও বাদ দিয়ে একেবারে অষ্টম গ্রেডে প্রমোশন দিয়ে দেন। আর এই ঘটনা দেখে জবসের বাবা-মা তাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন।
  • অল্পতেই রেগে যাবার অভ্যাস ছিল জবসের। আর তাই তার সাথে কাজ করাও ছিল কঠিন ব্যাপার। ম্যাক টিমের এক প্রকৌশলীকে তো একবার রাগের মাথায় অপসারণ করে দেন কোম্পানি থেকে। পরে সেই টিমের অন্যদের কাছে জানতে পারেন যে তিনি যাকে বের করে দিয়েছেন সে ব্যক্তিই এই টিমের সবচেয়ে দক্ষ লোক ছিল। একথা জানার পর জবস দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ঐ প্রকৌশলীকে ফিরিয়ে আনেন।
  • প্রকৃতপক্ষে অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনজন। অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াক বেশি পরিচিত হলেও শুরুর দিকে আরও একজন ছিলেন। তিনি হচ্ছেন রোনাল্ড ওয়েন, যিনি অ্যাপলের প্রথম লোগোটি এঁকেছিলেন। কিন্তু ঋণের দায়ে ওয়েন তার ১০% শেয়ার মাত্র ৮০০ ডলারে বিক্রি করে দেন, যার বর্তমান মূল্য ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি!
  • স্টিভ জবসক তার গাড়িতে কখনোই নম্বর প্লেট লাগাতেন না। কারণ ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রাফিক আইন অনুযায়ী সেখানে একটি নতুন গাড়ি নম্বর প্লেট ছাড়া ছয় মাস চালানো যায়। আর জবস ছয় মাসের অধিক কোনো গাড়িই ব্যবহার করতেন না!
  • জবসের অনুমিত সম্পত্তির পরিমাণ ৮ বিলিয়ন ডলারেরও অধিক। কিন্তু তিনি কোনো প্রকার অনুদান করতেন না!
  • ১৯৯১ সালে লরেন পাওয়েলকে বিয়ের আগে জবস ডায়ান কেটন ও জোয়ান বেইজ এর মতো হলিউড তারকাদের সাথেও প্রেম করেছেন। তবে ক্রিসান ব্রেনান নামক তার এক বান্ধবীর সাথে তিনি অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে যান এবং জন্ম হয় লিসার। লিসাকে তিনি অনেকদিন অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনি লিসার পিতৃত্ব গ্রহণ করেন।
  • জবস অ্যাপল থেকে বাৎসরিক মাত্র ১ ডলার বেতন গ্রহণ করতেন! তিনি প্রায়ই ঠাট্টা করে বলতেন- আমার বেতনের ৫০ সেন্ট আমার মেধার জন্য আর ৫০ সেন্ট আমার কাজের জন্য।
  • জবসের বোন মোনা সিম্পসন জানান, মৃত্যুকালীন জবসের শেষ কথাগুলো ছিল- “ওহ ওয়াও, ওহ ওয়াও, ওহ ওয়াও“!

অ্যাপল আর স্টিভ জবস যেন একসূত্রে গাঁথা; ছবিসূত্রঃ pinterest.com

তথ্যসূত্র

১) স্টিভ জবস

২) techtunes.com.bd/biography/tune-id/348739

৩) stempeldrang.nl/uploads/4/8/5/5/4855530/steve_jobs_article.pdf

৪) Steve Jobs by Walter Isaacson (2011)