জনপ্রিয় থ্রিলার ঔপন্যাসিক ড্যান ব্রাউন ২০০৪ সালে যখন তাঁর উপন্যাস ‘The Da Vinci Code’ প্রকাশ করেন তখন সারা বিশ্বে সারা পড়ে যায়। একইভাবে যখন ২০০৬ সালে বইটির সিনেমা বের হয় তখনও অনেক প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল এই বইটিতে বর্ণিত খ্রিস্টধর্মের জন্য অপমানজনক ও বিতর্কিত মতবাদের কারণে। ৪৪ টি ভাষায় অনূদিত এই বই মুক্তির সাথে সাথেই আন্তর্জাতিক ‘বেস্টসেলার’ হয়ে যায়। কিন্তু অনেকেই এই বইটিকে সত্য বলে পড়ে ফেলে, বিশেষ করে যারা পেছনের ইতিহাস জানেন না। ভিঞ্চি কোড বইটি কি আসলেই পুরোপুরি সঠিক যেমনটা বইয়ের শুরুতে দাবি করা হয়?

ড্যান ব্রাউন। ছবিসূত্রঃ John Adams.

এ বইতে প্রফেসর রবার্ট ল্যাংডন প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামে একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জড়িত হয়ে একটি দুই হাজার বছরের পুরনো ভয়াবহ গোপন তথ্য জেনে যান এবং Holy Grail এর সন্ধানে পদে পদে বিপদের মুখোমুখি হতে থাকেন। বিস্তারিত কাহিনীতে আমরা যাব না, যারা বইটি পড়েছেন তাদের জানবার কথা। কিন্তু বইটিতে রয়েছে অনেক ভুল! তাছাড়া যে তত্ত্বকে ঘিরে এ বইটি লেখা হয়েছে সেটা আগেই অন্য কিছু বইতে বলা হয়েছিল, যেমন The Templar Revelation (1997), The Holy Blood and the Holy Grail (1982) ইত্যাদি। এটি ড্যান ব্রাউনের মৌলিক কোনো প্রস্তাবনা নয়।

বইয়ের শুরুতেই লিখা- “All descriptions of artwork, architecture, documents, and secret rituals in this novel are accurate.” অর্থাৎ, “এ উপন্যাসে বর্ণিত সকল চিত্রকলা, স্থাপত্য, নথি এবং গোপন প্রথা সত্য।” আসলেই কি তা-ই? আমরা ইতিহাস ও ধর্মগ্রন্থের আলোকে এক একটি দাবি পরীক্ষা করে দেখব।

দাবি-১
এ বইতে সবচেয়ে বড় যে উপসংহার টানা হয়েছে সেটি হলো, ‘মেরি ম্যাগডালিন’ নামের যীশুর একজন অনুসারী ছিলেন প্রকৃতপক্ষে যীশুর স্ত্রী।

সঠিক তথ্যঃ

এমন নয় যে, ড্যান ব্রাউনই প্রথম এ দাবি করেছেন, যখনই যীশুর জীবনে কোনো নাটকীয় ‘রোম্যান্টিক’ আবহ আনতে চেষ্টা করে থাকেন লেখকেরা (কিংবা মুভি পরিচালকেরা) তখন যে নারীর কথা সবার আগে মাথায় আসে, তিনিই হলেন মেরি ম্যাগডালিন। মেরি বা মারিয়াম নামটি এহুদিয়া ও ইসরাইলে তখন খুব প্রচলিত একটি নাম ছিল মেয়েদের। যীশু বা ঈসা (আ) এর নিজের মায়ের নামই ছিল মারিয়াম।

কিন্তু ড্যান ব্রাউন যেমনটা দাবি করেছেন বইতে, আসলেই কি তেমন ছিলেন মেরি ম্যাগডালিন?

বইতে বলা হয়েছে যে, তখনকার দিনে ইহুদী প্রথা অনুযায়ী চিরকুমার থাকা নিষিদ্ধ ছিল। তাই অভিভাবকের দায়িত্ব ছিল পুত্র বা কন্যাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া ভালো জায়গায়, এবং এটিই স্বাভাবিক ছিল। যীশু যদি আসলেই অবিবাহিত থাকতেন ৩৩ বছর পর্যন্ত, তবে সেটা খুবই অস্বাভাবিক ঠেকতো, নিশ্চয়ই তাঁর কোনো অনুসারী সেটা লিপিবদ্ধ করে রাখতেন গস্পেলে? কিন্তু তারা করেননি। তার মানে যীশু নিশ্চয়ই বিবাহিত ছিলেন।

কিন্তু এই একই যুক্তিতে বলা যায়, যদি যীশু বিবাহিত হতেনই তবে কেন গস্পেলগুলোতে তাঁর অনুসারীরা একটি বারের জন্য যীশুর ‘স্ত্রী’ এর নাম উল্লেখ করবেন না? যেখানে ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর স্ত্রীদের কথা তাঁর অনুসারীরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন, সেখানে একজনও যীশুর স্ত্রীর ব্যাপারে কিছুই লিখলেন না?

যীশুর স্ত্রী ছিলেন মেরি- এ ব্যাপারে প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয় গস্পেল অফ ফিলিপের কিছু অংশকে। গস্পেল অফ ফিলিপ বর্তমান বাইবেলে অন্তর্ভুক্ত কিছু নয়। তৃতীয় শতাব্দীতে লেখা এই Gnostic (নস্টিক লেখাগুলো হলো প্রথাগত ধর্মীয় লেখা থেকে ভিন্ন, নস্টিক মতাবলম্বীদের ধর্মবিশ্বাস বেশ ভিন্ন ছিল) গস্পেল বা যীশুর সুসমাচার আবিষ্কৃত হয় ১৯৪৫ সালে নীল নদের পশ্চিম তীরে নাগ হাম্মাদি শহরের কাছের গুহা থেকে।

তো, কী লেখা রয়েছে সেখানে? ডা ভিঞ্চি কোড বই মোতাবেক, এই গস্পেলে লেখা আছেঃ

And the companion of the Savior is Mary Magdalene. Christ loved her more than all the disciples and used to kiss her often on her mouth. The rest of the disciples were offended by it and expressed disapproval. They said to him, “Why do you love her more than all of us?”

অর্থাৎ, “খ্রিস্টের সঙ্গী হলেন মেরি ম্যাগডালিন। খ্রিস্ট তাঁকে অন্য অনুসারীদের থেকে বেশি ভালোবাসতেন এবং তাঁর মুখে চুমু খেতেন। বাকি অনুসারীরা এতে অপমানিত হয়েছিল এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। তারা তাঁকে জানালো, আপনি কেন তাঁকে আমাদের থেকে বেশি ভালোবাসেন?”

ড্যান ব্রাউন বলেছেন যে, সঙ্গী বলতে তখন আক্ষরিক অর্থেই স্ত্রী বোঝাত। কিন্তু এবার আমরা দেখব গস্পেল অফ ফিলিপে কী লেখা আছে। পাণ্ডুলিপি নষ্ট হয়ে যাবার কারণে, অনেক জায়গায় শব্দ কেটে কেটে গেছে, অস্পষ্ট হয়ে গেছে। তাই ড্যান ব্রাউন অনেকটাই আন্দাজ করে নিয়েছেন। নিচে আসলটা দেয়া হলো, ব্র্যাকেটের লেখাগুলো অস্পষ্টঃ

And the companion of the […] Mary Magdalene. [… loved] her more than [all] the disciples [and used to] kiss her [often] on her […]. The rest of [the disciples…] They said to him, “Why do you love her more than all of us?” The Savior answered and said to them, “Why do I not love you like her? When a blind man and one who sees are both together in the darkness, they are no different from one another. When the light comes, then he who sees will see the light, and he who is blind will remain in darkness.

অর্থাৎ, “এবং […] এর সঙ্গী মেরি ম্যাগডালিন। [… ভালোবাসতেন] তাঁকে অন্যদের থেকে বেশি। তাঁকে […]-এ চুম্বন [করতেন]। বাকি [অনুসারীরা…] তাঁকে বলতেন, “কেন আপনি তাঁকে আমাদের থেকে বেশি ভালোবাসেন?” খ্রিস্ট উত্তর দিলেন তাদের, “আমি কেন তোমাদের তাঁর মতো ভালবাসি না? যখন এক অন্ধ আর এক সুস্থ লোক যে আলো দেখতে পায় একই সাথে আঁধারে থাকে, তাদের মাঝে কোনোই পার্থক্য নেই। কিন্তু যখন আলো আসবে তখন সুস্থ ব্যক্তি দেখতে পাবে, কিন্তু অন্ধ ব্যক্তি আঁধারেই থেকে যাবে।”

আমরা জানি না এ দ্বারা যীশু কী বুঝিয়েছিলেন, কিন্তু যীশু মেরিকে কোথায় চুম্বন করেছেন সেটা কিন্তু লেখা নেই। এটা অনুবাদক আইজেনবার্গের কল্পনা ছিল, যেটা ড্যান ব্রাউন নিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এটা হাত হবার কথা, কেউ বলেছেন কপাল। তাছাড়া গস্পেল অফ ফিলিপ আদৌ সত্য কিনা সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মাঝেই মতভেদ আছে।

গস্পেল অফ পিটারের পাণ্ডুলিপি; ছবিসূত্রঃ কায়রো জাদুঘর

গস্পেল অফ ফিলিপ থেকে আমরা পাই-

There were three who always walked with the Lord: Mary, his mother, and her sister, and Magdalene, the one who was called his companion. His sister and his mother and his companion were each a Mary.

অর্থাৎ, “তিনজন মানুষ সবসময় প্রভুর সাথে থাকতেনঃ তাঁর মা মেরি, তাঁর বোন, এবং প্রভুর সঙ্গী ম্যাগডালিন। তাঁর বোন, মা ও সঙ্গী প্রত্যেকের নামই ছিল মেরি।” [আইজেনবার্গ অনূদিত]

এখানে ‘সঙ্গী’ বোঝাতে কপ্টিক koinônos (κοινωνός) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ কখনোই নিশ্চিতভাবে ‘স্ত্রী’ নয়। আবার এটা অস্বীকারও করে না যে, এটা স্ত্রী হতে পারে না। বাইবেলে এই শব্দ দ্বারাই অন্যত্র ধর্মীয় সঙ্গী বা অনুসারী বোঝানো হয়েছে অন্য কাউকে, এমনকি ব্যবসায় সঙ্গী কিংবা সহকর্মীও।

যীশু আসলে বিবাহিত ছিলেন কিনা সেটা আমরা ঐতিহাসিকভাবে নিশ্চিত হতে পারবো না। ধর্মীয় কোথাও বলাও নেই এ ব্যাপারে। ইসলাম ধর্মেও না, খ্রিস্টধর্মেও না। তবে উভয় ধর্ম এ কথা বলে যে, যীশু বা ঈসা (আ) ফিরে আসবেন, তবে ইসলাম ধর্ম এটাও বলে যে, তিনি এসে বিয়ে করবেন।

দাবি ২-
মেরি ম্যাগডালিন ছিলেন চার্চের প্রধান, কিন্তু পিটার ও অন্যান্যরা সে ক্ষমতা পরে নিয়ে নেন।

সত্যতা যাচাইঃ
বাইবেল বলছে যে শিমন-কে যীশু নিজে বেছে নিয়েছিলেন যেন তিনি তাঁর জন্য ধর্মচর্চার চার্চের ভিত্তি হন। ভিত্তি বলতে যীশু আক্ষরিক অর্থেই ‘পাথর’ কথাটা ব্যবহার করেন। এজন্য তখন থেকে ‘পাথর’/’পেট্রো’-> পিটার নামে পরিচিত হন শিমন। ইনিই সেইন্ট পিটার। চার্চের প্রধান। মেরি ম্যাগডালিন নন

এ দাবিটি মূলত Elaine Pagels নামের একজন নারীবাদী লেখক প্রথম করেছিলেন ১৯৭৯ সালে। এমনকি লস এঞ্জেলেসের ক্যারেন ম্যাকগাওয়ান নামের এক নারী নিজেকে যীশু ও মেরির বংশধর দাবি করেছিলেন এই আশায় যে তাঁর উপন্যাস হয়তো বেশি বিক্রি হবে।

প্রথম এডিশনের প্রচ্ছদ। ছবিসূত্রঃ Wikimedia Commons

দাবি ৩-
যীশুর এই গোপন সত্যটা Priory of Sion নামের ১০৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি গোপন সংঘ সংরক্ষণ করে আসছে। ১৯৭৫ সালে খুঁজে পাওয়া নথি থেকে আমরা এর অস্তিত্ব জানতে পারি। স্যার আইজ্যাক নিউটন ও লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির মতো মহারথীরা ছিলেন এই সংঘের গ্র্যান্ড মাস্টার বা প্রধান।

সত্যতা যাচাই-
এ ব্যাপারটা খুব মজার। ড্যান ব্রাউন অবশ্যই জানতেন এ পুরো দাবিটাই ভুয়া। কিন্তু তবুও তিনি এটিকে সত্য বলে চালিয়ে দেন। ‘Priory of Sion’ নামের এক সংঘের উপস্থিতির দাবিদার ছিলেন Pierre Plantard নামের এক ফ্রেঞ্চ ভদ্রলোকের। ১৯৫৬ সালে তিনি দাবি করেন, এই সংঘ ১০৯৯ সালে জেরুজালেমে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি এটি প্রমাণ করবার জন্য তিনি ভুয়া পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন Dossiers Secrets d’Henri Lobineau (“The Secret Files of Henri Lobineau”) নামের। এখানে তিনি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক নিখুঁত ইতিহাস বর্ণনা করেন এই গোপন সংঘের। একটি তালিকাও দিয়ে দেন, কারা কারা এই সংঘের গ্র্যান্ড মাস্টার ছিলেনঃ নিউটন, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, ভিক্টর হিউগো প্রমুখ অনেকেই।

তিনি যে জোচ্চোরি করছেন সেটা তাড়াতাড়িই ধরা পড়ে যায়। তাঁর এই প্রতারণাকে বিংশ শতকের সেরা প্রতারণাও আখ্যা দেয়া হয়। তবে গল্পের প্লট হিসেবে এর তুলনা নেই, এজন্য ড্যান ব্রাউন সেটা ব্যবহার করতে পিছপা হননি।

দাবি ৪
অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হতো দেবী ভেনাসের জন্য ৮ বছর পর পর।

সত্যতা
আসলে সেটা হতো দেবতা জিউসের জন্য চার বছর পর পর।

দাবি ৫
প্যারিসের ল্যুভ মিউজিয়ামের পিরামিডে গ্লাস পেনের সংখ্যা ৬৬৬

সত্যতা যাচাই
শয়তান উপাসক বা ইলুমিনাতি বোঝাতে ৬৬৬ সংখ্যাটি খুব মানায়। কিন্তু এখানে আসলে কোনো ষড়যন্ত্র নেই, ৬৬৬টি গ্লাস পেন নয়, বরং সেখানে ৬৭৩টি গ্লাস পেন রয়েছে।

ল্যুভ মিউজিয়ামের সামনের কাঁচের পিরামিড। ছবিসুত্রঃ Anil Vohra

দাবি ৬
মোনা লিসা একটি উভলিঙ্গ পোর্ট্রেইট।

সত্যতা যাচাই
আসলে ছবিটি Francesco del Giocondo-কে ১৪৯৫ সালে বিয়ে করা এক নারীর। ইতালির ফ্লোরেন্সের নথি থেকে আমরা তাদের নাম পাই। তাঁর পাঁচজন সন্তান ছিল, এর মধ্যে দুজন পরে নান হয়েছিলেন।

দাবি ৭
নাইট টেমপ্লারগণ ছিলেন এ গোপনীয়তার রক্ষক।

সত্যতা
নাইট টেমপ্লার একটি ঐতিহাসিক সত্য। এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল পবিত্রভূমিতে তীর্থভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা দেওয়া, অন্তত এটাই হাতে-কলমে ছিল। কিন্তু এমন কোনোই ইঙ্গিত নেই যে তাদের সাথে এই কাল্পনিক মেরি ম্যাগডালিন বা যীশুর বংশধরের কোনো সম্পর্ক আছে।

দাবি ৮
স্যার আইজ্যাক নিউটন ছিলেন গোপনে একজন ‘দেবীপূজারী’।

সত্যতা যাচাই
আসলে, নিউটন একজন ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টান ছিলেন যিনি বাইবেলের কিছু বইয়ের ব্যাখ্যাও লিখেছেন। তাঁর কোনো গ্রন্থেই এর হদিস পাওয়া যায় না যে তিনি দেবীপূজারী ছিলেন, তবে তাঁর একেশ্বরবাদিতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

দাবি ৯
Gnostic Gospel, Gospel of Phillip এগুলো যীশুর মাতৃভাষা আরামায়িকে লিখা হয়েছিল।

সত্যতা যাচাই
আসলে সেটা কপ্টিকে লেখা হয়েছিল, গ্রিক থেকে অনূদিত।

দাবি ১০
মেরি ম্যাগডালিনের মৃতদেহ শায়িত আছে প্যারিসের ল্যুভ মিউজিয়ামের নিচে।

সত্যতা যাচাই

বইয়ের একদম শেষে একটি সুন্দর কবিতা দিয়ে মেরি ম্যাগডালিনের কবর কোথায় বলা হয়েছে-

“The Holy Grail ‘neath ancient Rosslyn waits
The blade and chalice watch o’er her gates
Adorned by masters loving art she lies
As she rests beneath the starry skies.”

এটার অনুবাদ করতে যাব না, কিন্তু আসল কথা হলো, ল্যুভ মিউজিয়ামের সামনের পিরামিডের নিচের গোপন কক্ষে তাঁর অন্তিম শয়ন। এ কথা বলবার অপেক্ষা রাখে না যে, এমন কিছুই সেটার নিচে নেই।

কাচের পিরামিডের নিচে উল্টো পিরামিড। ছবিসূত্রঃ Anil Vohra

তবে, একটা মজার ব্যাপার হলো, মাত্র ১.২ কিলোমিটার দূরে সেইন্ট মেরি ম্যাডেলাইন চার্চে (ম্যাগডালিন না) এক নারীর উরুর হাড় রক্ষিত আছে, মৃত্যুকালে যার বয়স ছিল ৫০ এর মতন। সেই নারী বাস করতেন প্রায় ২০০০ বছর আগে, ভূমধ্যসাগরের আশপাশে।

আমরা এখানে কিছু ভুল তুলে ধরেছি, এর বাইরেও আরো ভুল থাকতে পারে। যদি আপনার কাছে মনে হয়ে থাকে, কোনো ভুল আমরা উল্লেখ করতে ভুলে গিয়েছি তবে আমাদের জানাতে পারেন কমেন্টে!

ডা ভিঞ্চি কোড যতই ঐতিহাসিকভাবে ভুল হোক না কেন, এটা যে সত্যিই সুখপাঠ্য এক উপন্যাস তা অস্বীকার করবার অবকাশ নেই। ড্যান ব্রাউনের অন্য বইগুলোও কিন্তু ভুলমুক্ত নয়! বিশেষ করে Angels & Demons বই পড়ে ইলুমিনাতির ইতিহাস নিয়ে অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে, যেটা মোটেই কাম্য নয়! উপন্যাস থাকবে উপন্যাসের জায়গায়, আর ইতিহাস ইতিহাসের জায়গায়।

Angels & Demons এর ভুলগুলো পড়তে ঘুরে আসুনঃ ড্যান ব্রাউনের যত ভুলঃ ‘এইঞ্জেলস অ্যান্ড ডিমন্স’

Featured Image: Wallpaper Abyss