ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান: থ্রি ইডিয়টস নয়!

বইটার নামই যথেষ্ট অদ্ভুত – ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান: হোয়াট নট টু ডু অ্যাট আইআইটি। ‘আইআইটি’ মূলত ভারতের সর্বোচ্চ স্তরের প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর ভারত ও ভারতের বাইরের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন (জেইই)-এর মাধ্যমে এখানে ভর্তির সুযোগ পায়। বলাই বাহুল্য, বেশিরভাগ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামের মতো এখানকার কারিকুলামও যথেষ্ট কঠিন, ও কিছুক্ষেত্রে দুর্বোধ্য। স্বভাবতই শিক্ষার্থীদের তাই ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট, কুইজ, ভাইভা, ক্লাস টেস্টসহ যাবতীয় সব যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে একেকটা সেমিস্টার পার করতে হয়। আপনি যদি বেশিরভাগ প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করেন, তাহলেই জানতে পারবেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বেশিরভাগ হতাশার কারণ আসলে এই শব্দগুলোই। তবে এত হতাশার হলে কী হবে, লাগাতার এসব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ঝোঁক কিন্তু শিক্ষার্থীদের থেমে নেই। বিশেষত, যদি বইয়ের এই আইআইটির কথাই বলতে হয়, তাহলে বইয়ের মধ্যেই চেতন ভগতের উক্তিই যথেষ্ট হবে: 

“আমার মনে হয় সারা পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি গাছ কেটে ফেলা হয় আইআইটির ভর্তি গাইড তৈরি করার জন্য।”

তবে গৎবাঁধা জীবনের মাঝেও কখনও কখনও কেউ থাকে যারা নিজেদের জীবন নিয়ে নিজেরাই ভাবতে পছন্দ করে, তারা চায় এই জীবনটা একান্তই তাদের হোক। সেই ভাবনা যে সবসময় সাফল্যের মুখ দেখে, এমনটাও নয়। তবে সাফল্য আর ব্যর্থতার উর্ধ্বে গিয়ে তখন অন্তত তারা বুঝতে পারে নিজের কাছে নিজের গুরুত্ব। চেতন ভগতের যে বই নিয়ে আমরা কথা বলছি, সেখানে মূলত আমরা এমন কিছু মানুষেরই দেখা পেতে চলেছি। তবে বইয়ের গল্প বলতে হলে বইয়ের ঐ হেডলাইনটাই সবচেয়ে ভাল সামারি এনে দেবে – আইআইটি তে যা করবেন না!

ভারতীয় লেখক চেতন ভগতের লেখা প্রথম বই ‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’; Image Credit: Carousell

চরিত্রায়ণ

বইটিতে অনেকগুলো চরিত্রের সমাহার ঘটালেও বইটির মূল চরিত্র মূলত তিনটে-

  • রায়ান ওবেরয়

  • হরি কুমার

  • অলক গুপ্ত

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এই তিন বন্ধুর জীবন নিয়েই মূলত বইয়ের সমস্ত প্লট এগিয়ে চলে। তবে এসবের বাইরেও পাঠককে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি কাড়বে তিন বন্ধুর আলাদা তিন বৈশিষ্ট্য।

রায়ান ওবেরয়

শুরুতেই যেটা বলেছিলাম, কিছু মানুষ গৎবাঁধা নিয়মের বাইরেও নিজের মতো করে বাঁচতে পছন্দ করে। রায়ান ওবেরয় মূলত সেরকমই এক চরিত্র। রায়ানের বাবা-মা কেউই ভারতে থাকেন না। ভারতের বাইরে থাকার দরুণ রায়ানের সাথে তার বাবা-মায়ের দেখা হয় কালেভদ্রেই। ছোটবেলা থেকেই হোস্টেলে বড় হওয়া রায়ান তাই খুব একটা বাবা-মা ঘেঁষা, এমনটা একদমই বলা যাবে না। বরং বইয়ের একপর্যায়ে এসে রায়ান তার বাকি দুই বন্ধুর কাছে স্বীকার করে বসে, সে নাকি তার বাবা-মাকে ঘৃণা করে। রায়ানের কথা শুনে অবশ্য বাকি দুই বন্ধু কিঞ্চিত অবাক হয়। অবশ্য অবাক হওয়াই স্বাভাবিক; দেশের বাইরে থাকলেও রায়ানের জীবনে অর্থবিত্তের কোনো অভাব রাখেনি তার বাবা-মা। নিয়মিত অন্যান্য সবার চাইতে তুলনামূলক বেশি টাকা, প্রতি মাসে লোভনীয় উপহার, রায়ানের জীবনে বিলাসিতার কোনো অভাব তার বাবা-মা রাখেননি। অবশ্য সেটা রায়ানকে দেখলেই বোঝা যায়। সুঠাম গড়নের রায়ান দেখতে একদম নায়কদের মতোই। বইতেই যেমনটা লেখা আছে:

“এমন কেউ যাকে সচরাচর আইআইটিতে চোখে পড়ে না।”

 তবে এক বাক্যে রায়ান সম্বন্ধে সবচেয়ে উপযোগী কথাটা আছে বইয়ের মাঝে, হরির জবানীতে:

“That is Rayan. The guy will do clever things but only at the wrong time and wrong place.”

লম্বা, পাতলা গড়ন আর হ্যান্ডসাম এই রায়ানের জীবনদর্শন একদমই আলাদা। রায়ান মনে করে, আইআইটির এই পুরো সিস্টেমই একটা ধোঁকা। এতে একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সোনালী সময়টা নষ্ট করা হয়। রায়ান অবশ্য এ মর্মে সোনালী সময়টা বাঁচিয়ে রাখার নানা ফন্দি আটতে থাকে। মূলত এই বইয়ের প্লট এগিয়ে চলে রায়ানের এই বিভিন্ন ফন্দির গল্প দিয়েই। 

হরি কুমার

হরি কুমার মূলত বইটির গল্পকথক। এই বইয়ের বেশিরভাগ গল্পই লেখক বলিয়েছেন হরির মুখ দিয়েই। তবে গল্পকথক হলেও এই বইতে হরি সম্বন্ধে খুব কম তথ্যই দেওয়া হয়েছে। অন্তত বইয়ের বাকি দুটি মূল চরিত্রের চেয়ে এই চরিত্রের তথ্য যথেষ্ট কম। বইয়ের মাত্র এক জায়গাতে, একদম শেষের দিকে, হরি কুমার সম্বন্ধে লেখক কিছু তথ্য দিয়েছেন। তবে সেই তথ্যও যে খুব সুখকর, এমনটা ভাবলে ভুল হবে। ভারতীয় বেশিরভাগ কিশোরের মতো হরি কুমারের জীবন কাটে পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপেই। ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য বাবা-মায়ের মতোই হরির বাবা-মা নিজের ছেলের একাডেমিক ফলাফল নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন বলেই দেখা যায়। আর এ কারণেই শোচনীয় এক কৈশোরকালের পরে সে যখন গ্রাজুয়েশনের জীবনে পদার্পণ করে, রায়ানকে আর রায়ানের ভিন্নধর্মী জীবনদর্শন দেখে সে চমকে যায়। সে নিজেকে রায়ানের মতো করে তৈরি করার আপ্রাণ চেষ্টা কর‍তে থাকে, আর খুব স্বাভাবিকভাবেই সে বারবারই ব্যর্থ হয়। বইতেই যেমন নিজের জবানীতে সে লিখেছে, 

“আমাকে যদি জিজ্ঞেস করে, আমি কী হতে চাই? সোজা, আমি রায়ান হতে চাই!”

অলক গুপ্ত

বইয়ের চরিত্র অলক গুপ্ত বেশিরভাগ উপমহাদেশীয় শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে। এই অঞ্চলে যেমনটা দেখা যায়, বেশিরভাগ বাবা-মা তার ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করাতে চায় নিজেদের বিত্তহীন জীবনে একটুখানি আর্থিক ছোঁয়া আর একটা নিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্যে। মোদ্দা কথা, ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করানোর ব্যাপারে এখানে একটি নির্দিষ্ট মোটিভ থাকে। অলক গুপ্তর বাবা-মা ও এসবের বাইরের কেউ নন। অলকের বাসার বর্ণনা দিতে গিয়ে হরির মুখে বইতে উঠে এসেছে, 

“It was the first time I’d seen Alok’s home. I told you he was kind of poor, I mean not World Bank ads type starving poor or anything, but his home had the barest minimum one would need for existence. There was light, but no lampshades, there was a living room, but no couches, there was a TV, but not a colour one. The living room was where lived Alok’s father, entertaining himself with one of the two TV channels, close to unconscious by the time we reached. Alok’s mother was already waiting, using her sari edge to wipe her tears.”

অলকের এই দুরবস্থাসম্পন্ন বাসা আর নানারকম দায়ের ভার অলকের ওপর চাপিয়ে দিয়ে অলকের বাবা-মা এই আশাতেই দিন বাধতে থাকেন যে, একদিন অলক প্রকৌশলবিদ্যা পাশ করে একটা চাকরি পাবে, আর ঠিকই তাদের পরিবারের সমস্ত সমস্যা শেষ হবে। এই সমস্যার ফিরিস্তি আবার কিন্তু অনেক লম্বা। যেমন, অলকের পক্ষাঘাতগ্রস্থ বাবার চিকিৎসা, বোনের বিয়ে দেবার যৌতুক আর মায়ের হাড়খাটুনি পরিশ্রম। বইয়ের ভেতরে দেখা যায়, অলোক মূলত এসব সমস্যাতেই বেশিরভাগ সময় হতাশায় ভুগতে থাকে। তবে বাহ্যিক গড়নের কথা বললে পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চির অলককে দেখা যায় বেশিরভাগ সময় কুর্তি-পাঞ্জাবি পরে থাকতে, সাথে চোখের সামনে ঝোলানো ভারী চশমার কথা ভুলে গেলে কিন্তু চলবে না। 

কাহিনী

বইয়ের কাহিনী মূলত এই তিন বন্ধুকে নিয়েই। আইআইটি জীবনের একেকটা দিনের গল্পই মূলত এই বইতে বলা হয়েছে। সেই গল্পের সবটাই যে সুখের, কিংবা পুরো গল্পটাই যে সংগ্রামের, এমনটা ভাবলে কিন্তু ভুল ভাবা হবে। বরং সুখ ও সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই লেখক আইআইটি জীবনের একদম শুরু থেকে শেষ অব্দি পাঠককে ঘুরিয়ে নিয়ে যাবেন। গল্পের শুরুতেই যেমন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা ফ্রেশারদের ওপর র‍্যাগিং কালচারের প্রয়োগ ঘটানোর চেষ্টা করে কিছু সিনিয়র। মূলত এই র‍্যাগিংয়ের সময়ই রায়ান, অলক, আর হরি একে অপরের সাথে পরিচয় হয়। আর সেই যে পরিচয়, তিনজনের মাঝে বন্ধুত্বের বন্ধনটা আস্তে আস্তে শক্ত হতে থাকে। তবে সেই বন্ধুত্বের পথচলাও যে মসৃণ হয় এমনটাও কিন্তু নয়। রবীন্দ্রনাথের সেই লাইনটার কথা মনে আছে? 

“মাঝে হলো ছাড়াছাড়ি, গেলেম কে কোথায়”

ঠিক তেমন করেই তিন বন্ধুর মাধ্যে মাঝে দূরত্ব তৈরি হয়, তবে সেই দূরত্বও কিন্তু খুব বেশিদিন টিকে থাকেনি। বরং রায়ানের দারুণ সহযোগিতায় এই বন্ধুত্ব পরে আরো প্রকটই হয়েছে। বইটিতে মূলত একটা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমস্ত ফ্লেভার দেওয়ারই চেষ্টা লেখক করেছেন। সেই ফ্লেভারের মাঝে কখনও কখনও দারুণ রোমান্টিসিজমেরও প্রসার ঘটেছে। অবশ্য চেতন ভগত যখন বইয়ের লেখক, এই কেচ্ছা তো বইতে অবধারিতভাবেই এসে যায়। অন্যান্য বইয়ের মতোই আইআইটি জীবনের কল্পলোকেও কয়েক ছটাক রোমান্টিসিজমের ছোঁয়া রাখতে চেতন ভগত একদমই ভুল করেননি। তবে সেই রোমান্টিসিজম যে খুব একটা বাড়তি পর্যায়ে গেছে, এমনটা ভাবলেও ভুল হবে।

তবে সবচেয়ে মূল্যবান যে ব্যাপারটা, এই বইতে যে যে ঘটনা দেখানো হয়েছে- সেগুলো কিন্তু একদমই আইআইটিতে করা যাবে না। অবশ্য, করলে কী হবে, তার বর্ণনাও বইয়ের শেষে পাঠক পেয়ে যাবেন! 

অর্জন

‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’-এর এখন অব্দি মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। তবে এছাড়াও অর্জনের খাতায় কমতি নেই বইটির। ২০০৪ সালেই বইটি ইন্দো-আমেরিকান সোসাইটির ‘ইয়াং অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড’ পুরষ্কার লাভ করে। ঠিক এর পরের বছর ২০০৫ সালে এটি ‘পাবলিশার্স রিকগনিশন এওয়ার্ড’ লাভ করে। এছাড়াও ২০১০ সালে থিয়েটার কোম্পানি ‘ইভাম’ এই বই থেকে সারা ভারতে থিয়েটার নাটক মঞ্চায়ন করে। 

থ্রি ইডিয়টস?

রাজকুমার হিরানির বিখ্যাত সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস‘। একটু ইন্টারনেট ঘাঁটলেই আপনি দেখতে পাবেন, সিনেমাটি বানানো হয়েছিল এই ‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’-এর ওপর ভর করে। সত্যি বলতে, প্লটের শুরু আর কাহিনীর বেসমেন্টে মিল থাকলেও দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই ধরনের স্বাদ দেয়। সিনেমাটি আপনাকে সিনেম্যাটিক একটা পরিণতির দিকে নিয়ে গেলেও বইটিই আপনাকে বাস্তবতা শেখাবে। বইটি থেকেই মূলত আমরা জানতে পারব, জীবনটা আসলে কোনো সিনেমার অংশবিশেষ হতে পারে না। তাই যারা সিনেমাটিকে বইয়ের প্রতিচ্ছবি বলতে চান, একদমই ভুল করবেন। সিনেমা আর বই দুটোই তিন বন্ধুর গল্প হলেও দুটোর পরিণতি আসলে একদমই ভিন্ন।  

‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’ থেকে তৈরি হয়েছে বলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’; Image Credit: IMDB

লেখক প্রসঙ্গে

১৯৭৪ সালে জন্ম নেওয়া চেতন ভগত একজন ভারতীয় লেখক ও কলামিস্ট। ২০১০ সালে তিনি টাইম ম্যাগাজিনের হিসেবে সময়ের সেরা ১০০ জন অনুপ্রেরণাদায়ক মানুষদের একজন বলে ঘোষিত হন। তিনি আইআইটি দিল্লি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নিজের বি. টেক. ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি একজন ব্যাংকার হিসেবে নিজের জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে লেখালেখিতেই মনোযোগ দেন। আজকে যে বইটি নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, ২০০৪ সালে প্রকাশ পাওয়া এই ‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’ মূলত লেখকের প্রথম বই। তবে প্রথম বই হলেও প্রকাশের পরই বইটি বেস্টসেলার বইয়ের কাতারে নিজের নাম লিপিবদ্ধ করে ফেলে। এখন অব্দি চেতন ভগতের নানা বই থেকে বলিউডে সিনেমা তৈরি করা হয়েছে। চেতন ভগতের প্রকাশিত শেষ বইয়ের নাম ‘400 Days’, যেটি ২০২১-এর অক্টোবরে প্রকাশিত হয়েছে। 

‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’ এর লেখক চেতন ভগত; Image Credit: The Indian Express

বইয়ের যেসব লাইন পাঠককে ভাবাবে

“By living on our own terms. By being rats, not mice, work together and beat the system. I will not give up my friends for this system. In fact, my friendships will beat the system.”

“Sometimes, if you just paraphrase everyone’s arguments, you get to be the good guy.”

“Don’t take yourself too seriously.Life is too short,enjoy yourself to the fullest.”

“Before you get all gung-ho about working for the future,work out your past and present.”

“When good thing happen to you,you kind of feel there is something odd.Like this could be a dream.”

“For a while he painted, but soon he realized the family needed money more than landscapes.”

The feature is in Bengali language on Chetan Bhagat's first published novel 'Five Point Someone'. Necessary references are attached as hyperlinks and the most valued reference is-

1) 'Five Point Someone' by Chetan Bhagat

Featured Image Credit: Snapdeal

Related Articles