বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কম-বেশি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বছরে এসে একটি প্রশ্নের উত্তর প্রায়ই দিতে হয়, আর তা হলো, পাশ করে বেরুনোর করার পর সে কী করতে চায়?

আমাদের দেশের সামাজিক ব্যবস্থায় আমরা ছোটবেলা থেকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ খুব কমই পেয়ে থাকি। ডাক্তার বাবা-মায়েরা চান তাদের সন্তানেরা ডাক্তার হোক, সরকারি কোনো বড় ইঞ্জিনিয়ার চান তার ছেলে-মেয়ে ছোটবেলা থেকেই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখুক, কেউ চান তার ছেলে-মেয়ে তার মতো ব্যবসায়ী হোক, আর সাম্প্রতিক সময়ের বিসিএস এর তুমুল চাহিদার যুগে এখন অনেক বাবা-মা চান তাদের ছেলে-মেয়েরা বিসিএস ক্যাডার হোক।

সারাজীবন বাবা-মায়ের চাপে, সমাজের চাপে নিজের ইচ্ছাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলেও জীবনের এই পর্যায়ে এসে আসলে আপনার নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে। কারণ, আপনিই একমাত্র জানেন, আপনি জীবনে কী অর্জন করতে চান, আপনি কোন কাজে ভালো, কোন কাজে আপনি লেগে থাকতে পারবেন ইত্যাদি।

লক্ষ্য যখন উচ্চশিক্ষা

ধরে নিলাম, আপনি কোনো ধরনের সামাজিক চাপের মুখে না পড়ে স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আপনি উচ্চশিক্ষা অর্জনে বাইরে যেতে চান। এখন শুরুতেই আপনার নিজেকেই যে প্রশ্নটি করতে হবে তা হলো, আপনি কি গবেষণার জন্য বাইরে যেতে চান, নাকি কোনো বিশেষ দেশে অভিবাসন প্রক্রিয়ার একটি সিঁড়ি হিসেবে উচ্চ শিক্ষাকে ব্যবহার করতে চান। আপনার যদি যোগ্যতা থাকে এবং এই দুয়ের মধ্যে যেকোনো একটি উদ্দেশ্য পূরণের জন্য আপনি যদি উচ্চশিক্ষাকে বেছে নেন, তাহলে আপনি হয়তো উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন ঠিকই, কিন্তু আপনার উদ্দেশ্যের ভিন্নতা ভেদে আপনার জীবনের অর্জনও ভিন্ন ভিন্ন হবে।

আপনার উদ্দেশ্যের ভিন্নতা ভেদে আপনার জীবনের অর্জনও ভিন্ন ভিন্ন হবে

উচ্চশিক্ষার জন্য বেশিরভাগ সময়ে কোনো বিশেষ দেশ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় সর্বাগ্রে প্রাধান্য পেলেও সামগ্রিকভাবে উপরের পাঁচটি বিষয় আমাদের বিবেচনা করা উচিত। যেমন ধরুন, আপনি এমন কোনো এক দেশে গেলেন যেখানকার একাডেমিয়াতে ইংরেজি ব্যবহৃত হলেও চাকরি পাওয়ার জন্য আপনাকে সেই দেশের ভাষা শিখতেই হবে। অথবা আপনি যে দেশে গেলেন সেই দেশে অভিবাসন প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কিংবা অন্য কোনো দেশে অভিবাসন প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ মেয়াদী হলেও, সেখানকার চাকরির বাজার পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো। আপনি হয়তো ইউরোপের এমন কোনো দেশে গেলেন, যেখানে তারা ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটিকে খুব একটা স্বাগত জানায় না, সেক্ষেত্রে দেখা যাবে দীর্ঘমেয়াদে আপনার সেই দেশে থাকা একরকম অসম্ভব হয়ে যাবে। সুতরাং ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করেই উচ্চশিক্ষার গন্তব্যস্থল নির্দিষ্ট করা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় বড় না প্রফেসর বড়

ধরে নিলাম, আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত দেশটি ঠিক করে ফেলেছেন, এখন আপনি দ্বিধায় পড়ে গেছেন, আপনি সেই দেশের ভালো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলাকে টার্গেট করবেন, নাকি ভালো কাজ করে, ভালো ল্যাব সুবিধা আছে এমন প্রফেসর খুঁজে বের করে তার সাথে কাজ করবেন। ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিঃসন্দেহে ভালো গবেষণার কাজ হয় সত্যি, কিন্তু অনেক সময় একটু পেছনের দিকের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অনেক জাঁদরেল প্রফেসর থাকেন যারা খুবই ভালো কাজ করেন।

পেছনের দিকের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অনেক জাঁদরেল প্রফেসর থাকেন যারা খুবই ভালো কাজ করেন; Source: University News

কাজেই, প্রথম দিকের বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পেলে মন খারাপ করার কিছু নেই, তখন খুঁজে বের করুন অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো কোনো প্রফেসরকে, যিনি খুবই ভালো কাজ করেন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে মাঝারি মানের হলেও দেখা যায়, তাদের কোনো এক ডিপার্টমেন্টের কোনো এক প্রফেসর দুর্দান্ত কাজ করেন, যার কিনা বিশ-ত্রিশ মিলিয়ন ডলারের ফান্ডিং আছে, তার ল্যাবে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি কিংবা ন্যাশনাল ল্যাব থেকে ভালো ভালো প্রজেক্ট আসে। সেক্ষেত্রে সুযোগ পেলে, আপনি চোখ বন্ধ করে তার সাথে কাজ করতে চলে যেতে পারেন। হয়তো ডিগ্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপনি সাময়িকভাবে একটু হতাশায় থাকবেন এই ভেবে যে, আপনার আরও ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সুযোগ হতে পারত। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যাবে, হয়তো আপনি যে বিষয়ের উপর গবেষণা করবেন, তার মান এতই ভালো যে, তা আপনাকে বাকিদের চেয়ে যোজন যোজন দূরত্বে এগিয়ে রাখছে।

কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজবেন?

র‍্যাংকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হলো যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংস্থা টাইমস হায়ার এডুকেশন। তারা পুরো পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাংক একসাথে প্রকাশ করার পাশাপাশি দেশ ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাংকও প্রকাশ করে। সেখান থেকে খুব সহজেই কোনো বিশেষ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাংক সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

এবার সময় প্রফেসর খোঁজার

এই প্রক্রিয়াটি একটু সময়সাপেক্ষ এবং খানিকটা জটিল। সবার আগে আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেই ডিসিপ্লিনে আবেদন করতে চান, সেই ওয়েব পেইজে চলে যান। কিংবা গুগলে ‘University of Hogwart Magic & Sorcery Department Faculty’- এভাবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভাগের কি-ওয়ার্ড লিখে সার্চ দিলেও আপনি সরাসরি ফ্যাকাল্টি পেইজের লিঙ্ক পেয়ে যাবেন। এখন আপনাকে এই ফ্যাকাল্টিদের মধ্য থেকে শুরুতেই খুঁজে বের করতে হবে, কার কাছে বর্তমানে ফান্ডিং আছে। প্রথমে আপনি প্রফেসরের প্রোফাইলে গিয়ে তার রিসার্চ ল্যাবের পেইজটিতে চলে যান, সেখানে গিয়ে ‘প্রজেক্ট ডেসক্রিপশন’ পড়ে দেখুন, তার কোন কোন প্রজেক্ট আর কাজ বর্তমানে চলছে। যদি প্রজেক্টের কাজ চালানোর জন্য পিএইচডি কিংবা মাস্টার্স শিক্ষার্থী দরকার হয়, সেক্ষেত্রে ‘ওপেনিং সেকশনে’ শুরুতেই বলা থাকে, কোন সেমিস্টার থেকে তার স্টুডেন্ট দরকার।

এমআইটির ভাষাতত্ত্ব বিভাগের ফ্যাকাল্টি খুঁজলে আসবে এই পাতা; Source: linguistics.mit.edu

অনেক সময় দেখা যায়, প্রফেসররা নিয়মিত রিসার্চের পেইজ আপডেট করেন না, সেক্ষেত্রে আপনি গুগল স্কলার থেকে সেই প্রফেসরের প্রোফাইলে দেখে নিতে পারেন, তার সর্বশেষ পাবলিকেশন কত সালে বের হয়েছিল। ধরুন, আপনি ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে কোনো এক প্রফেসরের গুগল স্কলারের প্রোফাইল দেখছেন, এবং আপনি দেখলেন যে, ২০১৭ কিংবা ‘১৬ সালে তার এক বা একাধিক পেপার পাবলিশ হয়েছে, সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে তিনি গবেষণায় সক্রিয়। তবে গবেষণার দিক থেকে সবচেয়ে সক্রিয় থাকেন এসিস্ট্যান্ট প্রফেসররা। কারণ, তখন তাদের ক্যারিয়ার সবেমাত্র শুরু হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে সিড গ্র্যান্ট দেয়া হয়েছে, যা দিয়ে তিনি নিজের ল্যাব শুরু করতে পারবেন; গবেষণা চালানোর জন্য তিনি পিএইচডি স্টুডেন্ট নেবেন; তার চাকরি পাকাপাকি করার জন্য তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক পিএইচডি গ্র্যাজুয়েট তার ল্যাব থেকে বের করতে হবে; বছর শেষে তাকে পেপার পাবলিশ করতে হবে এবং সেই সাথে ফান্ডিংও আনতে হবে।

তবে আপনি যে প্রফেসর এর সাথেই কাজ করতে চান না কেন, আপনি যে আপনার পছন্দমতো কোনো সমস্যার উপরেই গবেষণা করতে পারবেন এমন কিন্তু নয়। সাধারণত দেখা যায়, গবেষণার ক্ষেত্র মিলে গেলেও গবেষণার বিষয়টি প্রজেক্ট ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। আপনি যদি পিএইচডি ডিগ্রি পেতে চান, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে আপনাকে সেই বিষয়ের উপরেই কাজ শেষ করতে হবে। একজন পিএইচডি শিক্ষার্থীর মূল ফান্ডিং সাধারণত প্রফেসরের প্রজেক্ট থেকেই আসে, তাই পিএইচডি আবেদনকারীদের উচিত সর্বাগ্রে প্রফেসর ম্যানেজ করার চেষ্টা করা। যদিও ‘টিচিং অ্যাসিস্টেন্ট’ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফান্ডিং পাওয়া যায়, কিন্তু তা কেবল এক বছরের জন্য হয়ে থাকে, এবং এই এক বছরের মধ্যে তাকে তার পিএইচডির গবেষণার কাজের জন্য অবশ্যই একজন ‘সুপারভাইজার’ খুঁজে বের করতে হবে। এই দু’রকম অ্যাসিস্টেন্টশিপ ছাড়া ইউনিভার্সিটি থেকে ফেলোশিপ পাওয়া যায় কিন্তু তা যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক।

Source: phdcomics.com

তবে শুরু হোক আপনার যাত্রা

চতুর্থ বর্ষের শুরু থেকেই আপনার আসলে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা উচিত। এক্ষেত্রে প্রথম যে ধাপ অতিক্রম করতে হয়, তা হলো, বিভিন্ন ‘স্ট্যান্ডারডাইজড টেস্ট’ বা মান যাচাইয়ের পরীক্ষা, যেমন- জিআরই, জিম্যাট, টোফেল, আইইএলটিএস ইত্যাদির প্রস্তুতি নিয়ে ফেলা। আইইএলটিএস কিংবা টোফেলের তুলনায় জিআরই এবং জিম্যাট যথেষ্ট কঠিন বিধায়, এই দুই পরীক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির দরকার হয়। সেক্ষেত্রে আপনি চাইলে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় বর্ষ থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করতে পারেন, যাতে করে পাশ করার সাথে সাথে কিংবা তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আপনি জিআরই কিংবা জিম্যাট পরীক্ষা দিয়ে ফেলতে পারেন। চতুর্থ বর্ষে এসে যেহেতু আপনাকে থিসিস করতে হয়, সেক্ষেত্রে আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত, খুব ছোট আকারে হলেও মৌলিক কোনো বিষয়ে গবেষণা করা, যাতে তা কোনো কনফারেন্সে উত্থাপন কিংবা খুব ভালো কোনো কাজ হলে কোনো জার্নালে প্রকাশ করা যায়।

চতুর্থ বর্ষের শুরু থেকেই আপনার আসলে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা উচিত; Source: surveygizmo.com

বাইরের দেশে সাধারণত আন্ডারগ্র্যাড পর্যায়ে ডিজাইন প্রজেক্ট করতে হয়, ওদের মৌলিক গবেষণার কাজ শুরু হয় মূলত মাস্টার্স পর্যায়ে। সেক্ষেত্রে আপনার যদি আন্ডারগ্র্যাডেই একটি ভালো থিসিস পেপার থাকে এবং একটি পাবলিকেশন থাকে, তাহলে তা আপনাকে অনেক সুবিধা দেবে। এজন্য শুরু থেকেই থিসিসের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত। যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় Fall (আগস্ট সেশন) এবং Spring (জানুয়ারি সেশন) এই দুই সেমিস্টারের জন্য শিক্ষার্থী নেয়, তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে যারা শুধু মাত্র Fall সেমিস্টারে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট নেয়। তাই সবচেয়ে ভালো হয়, আপনি যদি Fall সেমিস্টারের জন্য আবেদন করেন। তাই মে-জুন মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্ব চুকিয়েই আপনার উচিত অক্টোবরের মাঝে বিভিন্ন ‘স্ট্যান্ডারডাইজড টেস্ট’ দিয়ে ফেলা।

সেই সাথে আপনি প্রফেসরদের সাথে যোগাযোগও শুরু করে দিতে পারেন। যদি কোনো প্রফেসর আপনাকে তার ল্যাবে নিতে চায়, তাহলে আপনার জন্য সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া খুবই সহজসাধ্য হবে। আর আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, রিকমেন্ডেশন লেটার, স্টেটমেন্ট অফ পারপাস ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সবকিছু তৈরি করে নির্দিষ্ট সময়ের আগে আপনার আবেদন প্রক্রিয়াটি শেষ করে ফেলুন। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন যে, বেশিরভাগ স্কুলেই ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের জন্য একটি আলাদা ডেডলাইন দেওয়া থাকে, যার আগে আবেদন করলে তিনি ফান্ডিংয়ের জন্য বিবেচিত হবেন, এবং আপনার উচিত সেই সময়ের আগেই আবেদন প্রক্রিয়াটি শেষ করা।

কখন কী করবেন © M Faisal Riyad

সবশেষে

আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করার পর অপেক্ষা করা ছাড়া আর অন্য কোনো উপায় নেই। কারও সাথে যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরের যোগাযোগ হয়ে থাকে, তাহলে তার উচিত প্রফেসরকে জানিয়ে দেওয়া যে, তিনি আবেদনের কাজটি সম্পূর্ণ করেছেন। সাধারণত মার্চের শেষের দিক থেকে আবেদনকারীদের জানিয়ে দেওয়া হয়, কে এডমিশন পেলেন, কে ফান্ডিং পেলেন এসব। অনেক সময় প্রফেসর সংক্ষিপ্ত তালিকা করে আবেদনকারীদের স্কাইপেতে সাক্ষাৎকার নিয়ে থাকেন, এবং তারপর যাচাই-বাছাই করেন। কারও যদি গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকে এবং তা যদি প্রফেসরের কাজে লাগে তাহলে প্রফেসর তাঁকে সরাসরিই নিয়ে নেন। প্রফেসররা সবসময়ই সবার আগে একজন গবেষক খোঁজেন, যাকে কিনা খুব কম সময়ের মাঝে মূল গবেষণার কাজে সম্পৃক্ত করা যাবে। তাই কারও আন্ডারগ্র্যাডে গবেষণার ভালো অভিজ্ঞতা থাকলে, তার জন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে যাওয়া অনেকটা সহজ হয়ে যায়। আর ফান্ডিং পেয়ে গেলে এবং তার কনফারমেশন লেটার চলে আসলে সকল আইনী কাগজপত্র নিয়ে ভিসার জন্য দাঁড়িয়ে যান। অতঃপর, হ্যাপি ফ্লাইয়িং!

ফিচার ইমেজ: newstatesman.com