তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে যে কেউ যেকোনো জিনিস খুব সহজেই শিখে নিতে পারে। শুধুমাত্র নিজের পছন্দের বিষয়টি নিয়ে ‘গুগল’ করতে হবে। কিছু গবেষণা করার পর সঠিক শেখার মাধ্যমটি ব্যবহার করে অনুশীলনের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু বিভিন্ন বিষয় নিয়ে  ইন্টারনেট জুড়ে অবিশ্বাস্য পরিমাণের ব্যবহারযোগ্য তথ্য থাকা সত্ত্বেও অল্প কিছু মানুষই নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এগুলোর পুরোপুরি সুবিধা ভোগ করে থাকে।

আমরা এখনো বিশ্বাস করি, যেকোনো কিছু শেখার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে নির্দিষ্ট একটি গ্রেড ভালো একটি কর্মসংস্থানের ব্যাপারে সাহায্য করে। আর এই বিশ্বাসগুলোতে আমরা এমনভাবে আটকে আছি যে, একুশ শতকের এই সময়ে খুব সহজেই যে নিজেকে নিজের মতো করে তৈরি করা যায়, তা ভুলে গেছি। ভুলে গেছি, দক্ষদের জন্য গ্রেডশিটের প্রয়োজন নেই।

জানুন, কীভাবে শিখতে হয়; Source: quoteseverlasting.com

আপনি যদি আপনার নিজের পছন্দের কাজগুলোতে দক্ষ হতে চান, যদি প্রাতিষ্ঠানিক কোর্সগুলোর ব্যাপারে তেমন একটা আগ্রহী না হয়ে থাকেন, তাহলে ইন্টারনেটব্যাপী অসংখ্য তথ্য-উপাত্ত নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করতে পারেন। আপনার জন্য সুখবর হচ্ছে, পৃথিবীব্যাপী বড় বড় কোম্পানিগুলো স্বশিক্ষিত দক্ষদের ব্যাপারে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। শুধুমাত্র গুগলের প্রায় পনেরো শতাংশ কর্মচারী স্বশিক্ষিত, যাদের কারোরই হায়ার-গ্রেডের প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট নেই।

তবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া নিজেকে নবিশ থেকে দক্ষ করে তোলার জন্য, নতুন কিছু শেখার জন্য অবশ্যই আপনাকে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আর এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে আপনাকে জানতে হবে, “আমরা কীভাবে শিখি?”

আমরা কীভাবে শিখি?

পৃথিবীব্যাপী প্রায় যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কিছু নির্দিষ্ট বিষয় শেখানো হয়ে থাকে। সেই সকল বিষয়গুলোও নির্দিষ্ট কিছু তথ্য-উপাত্ত দ্বারা পরিপূর্ণ। পরীক্ষায় কে কতটুকু গুছিয়ে তথ্য-উপাত্তগুলো প্রয়োগ করতে পারছে, তার উপর নির্ভর করে গ্রেড নির্ণয় করা হয়। একই জিনিস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কয়েক সেমিস্টারেও চলমান থাকে। অর্থাৎ আমরা যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যাই সেটি পূর্বে নির্ধারিত একটি প্যাকেজে স্টোর করা থাকে। ঐ প্যাকেজে যা আছে তা-ই আমাদের শেখানো হয়। তাই ‘ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজির’ ক্লাসে শিক্ষক ঢুকেই কখনো বলেন না, কাল একটি ওয়েব পেইজ তৈরি করে নিয়ে আসবে!

সাধারণত যেভাবে শেখানো হয়; Image Source: nateliason.com

কিন্তু বাস্তব জীবনে এই পদ্ধতিটি কাজ করে না। আপনি যদি স্বাধীনভাবে কিছু করতে বা শিখতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে বিভিন্ন জিনিস খুঁজে ব্যবহার করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। অর্থাৎ একটি সমস্যার জন্য আপনাকে একটি সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। সমাধানটি যদি সফলভাবে ঐ সমস্যাটির জন্য কার্যকর না হয়, তাহলে কার্যকর হওয়ার আগপর্যন্ত নতুন একটি সমাধান চিন্তা করতে হবে।

যখন আপনি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হতে যাবেন, তখন সেখানে কোনো পাঠ্যসূচি থাকবে না। কোনো নির্দিষ্ট বই থাকবে না। আপনাকে গাইড করার মতো কোনো প্রফেসরও থাকবে না। আপনাকে  শুধুমাত্র একটি সমস্যা সমাধান করে আরেকটি সমস্যাতে ধীরে ধীরে স্থানান্তরিত হতে হবে। সমাধানের জন্য কী কী তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন, তা খুঁজে বের করতে হবে। আর এভাবেই ধীরে ধীরে আপনি আপনার কাজটিতে দক্ষ হয়ে উঠবেন।

আসলেই যেভাবে শিখি; Source: nateliason.com

যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটাই ‘সমস্যার জন্য সমাধান অনুমান করা এবং সেই অনুমান অনুযায়ী নির্দিষ্ট জিনিসগুলোতে মনোযোগ দেয়া’র মতো অভ্যাস তৈরির উপর নির্ভর করছে, সেহেতু আপনাকে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি মেনে এগোতে হবে। আশা করি ‘স্যান্ডবক্স মেথড’ আপনাকে এই ব্যাপারে বেশ ভালো সহযোগিতা করতে পারবে।

স্যান্ডবক্স মেথড

স্যান্ডবক্স মেথড হচ্ছে এমন একটি নিরবচ্ছিন্ন পদ্ধতি, যেটি কিছু কার্যপদ্ধতি মেনে নির্দিষ্ট কাজে দক্ষ হতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতিতে আপনাকে কোনো তথ্য, ফর্মূলা কিংবা নির্দিষ্ট কোনোকিছুর যথাযথ খুঁটিনাটি মুখস্থ করতে হবে না। তার বদলে নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যা প্রয়োজন তা-ই নিরবচ্ছিন্নভাবে শিখে যেতে সাহায্য করবে।

স্যান্ডবক্স মেথড চারটি চক্রাকার ধাপে আবর্তিত।

প্রথম ধাপ: নিজের জন্য একটি ‘স্যান্ডবক্স’ তৈরি করা

আপনি কী শিখতে ইচ্ছুক বা কোন বিষয়ে দক্ষ হতে আগ্রহী, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কোন কাজ কীভাবে শিখবেন, কীভাবে সেই কাজে দক্ষ হবেন- এ ব্যাপারগুলোর উপর গবেষণা করার পূর্বে আপনাকে একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে আপনার ইচ্ছেমতো কোনো বিষয় অনুশীলন করার বা পরীক্ষানিরীক্ষা করার সুযোগ থাকবে! এটিই আপনার ‘স্যান্ডবক্স’, একটি সুনির্দিষ্ট এলাকা, যেখানে আপনি কোনোরকম উদ্বেগ ছাড়া, কোনোরকম ভবিষ্যৎ চিন্তা ছাড়া মুক্তভাবে কাজ করে যেতে পারবেন। নিজের ইচ্ছেমতো আপনার দক্ষতাগুলোর উপর পরীক্ষানিরীক্ষা করে যেতে পারবেন, যেখানে কোনো হারানোর বা মর্যাদাহানির ভয় থাকবে না।

স্যান্ডবক্সটি ফ্রী অথবা অল্প খরচের খরচের হতে হবে, যাতে কোনোকিছু শেখা শুরু করতে দেরি না হয়। একে অবশ্যই প্রত্যাশা মুক্ত রাখতে হবে, যাতে হেরে যাওয়ার শঙ্কা না থাকে। আর অবশ্যই এটি জনসম্মুখে প্রকাশ করে রাখা বাঞ্ছনীয়, যাতে বিভিন্ন মানুষের মন্তব্য শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হওয়া যায় এবং কৌশলী মন্তব্যগুলো থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া উচিত, তা নির্ণয় করার সক্ষমতা অর্জন করা যায়।

উদাহরণসহ বলতে গেলে ব্যাপারটা এরকম দাঁড়ায়। ধরুন, আপনি ফটোগ্রাফি শেখার ব্যাপারে আগ্রহী। নিজে নিজে এ ব্যাপারে দক্ষ হওয়ার জন্য আপনি একটি ‘স্যান্ডবক্স’ তৈরি করেছেন। উপরোক্ত ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমত, আপনার যতটুকু ফটোগ্রাফি জ্ঞান আছে তা দিয়েই ছবি তুলে যেতে হবে। ফটোগ্রাফির জন্য কম খরচের কোনো ক্যামেরা কিনুন বা আপনার ফোনের ক্যামেরাটি ব্যবহার করুন। ফটোগ্রাফির সময় বিভিন্ন ছোট ছোট সমস্যা সমাধানের জন্য ইউটিউব বা বিভিন্ন ব্লগ দেখুন। তোলা ছবিগুলো শেয়ারি করার জন্য ইন্সট্রাগ্রাম বা ফেসবুক ব্যবহার করুন। দ্বিতীয়ত, এমন কিছু প্রত্যাশা করা উচিত নয় যে, আপনার তোলা ছবিগুলো ফেসবুক বা ইন্সট্রাগ্রামে আপলোড করলেই মানুষজন বাহবা দেবে বা ছবিগুলো বড় কোনো এক্সিবিশনের জন্য বাছাই করা হবে! তৃতীয়ত, ছবিগুলোকে অবশ্যই অভিজ্ঞদের দেখানোর ব্যবস্থা করুন। ফেসবুক গ্রুপ শেয়ারিংয়ের জন্য সবচাইতে উপযুক্ত জায়গা। অভিজ্ঞদের কৌশলী মতামত সহ সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন মতামত যেমন অনুপ্রেরণা জোগাবে, তেমনি সমালোচনাগুলো আমলে নিয়ে আপনি আপনার কাজে আরো দক্ষ হয়ে উঠতে পারবেন। আর ধীরে ধীরে নিজের কাজগুলোকে প্রকাশ করার ব্যাপারে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন।

দ্বিতীয় ধাপ: গবেষণা

এই ধাপে আপনার স্যান্ডবক্সের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করতে হবে। আপনার দক্ষতায় নতুন নতুন উপাদান যুক্ত করতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন হবে পর্যাপ্ত গবেষণা। অনলাইন জুড়ে নানা ধরনের রিসোর্স রয়েছে, যেগুলো আপনার গবেষণার কাজে বেশ সাহায্য করবে। আপনাকে শুধুমাত্র খুঁজে বের করতে হবে, কোনটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

স্বশিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আপনি চাইলেই আপনার কাজে সাহায্য করতে পারে এমন সব বই খুঁজে বের করে পড়া শুরু করতে পারেন। goodreads সহ বিভিন্ন বিভিন্ন ধরনের ওয়েব পোর্টাল আছে, যেগুলো আপনার প্রয়োজনীয় বইগুলোর খুঁজে বের করার ব্যাপারে সাহায্য করবে।

অনলাইন জুড়ে অসংখ্য বিষয়ের উপরে হাজার হাজার কন্টেন্ট আছে। প্রফেশনালরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, কেইস স্টাডির উপরে ভিত্তি করে নিজেদের ব্লগ বা অনলাইন পোর্টালগুলোতে সেগুলো শেয়ার করে থাকে। চাইলেই নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এগুলো ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও রয়েছে stackoverflow’র মতো অসংখ্য ফোরাম সাইট। সেগুলোতে আপনি চাইলেই যেকোনো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে অভিজ্ঞদের মতামত পেতে পারেন।

এছাড়াও ইউটিউব, বিভিন্ন অনলাইন কোর্সগুলোও দেখতে পারেন। আপনার কাজের ক্ষেত্রে অসংখ্য জায়গা আছে যেগুলোতে পর্যাপ্ত গবেষণা ছাড়া কোনোভাবেই ভালো দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন না। আর অবশ্যই শুধুমাত্র রিসোর্সগুলো ঘাটাঘাটি করে বসে থাকলেই হবে না। কোনো একটি সমস্যা সমাধানের জন্য সবচাইতে বেশি কার্যকর পন্থাটি বের করার কাজে সেগুলোকে ব্যবহার করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: অনুশীলন এবং বাস্তবায়ন

স্যান্ডবক্স ম্যাথডে ‘অনুশীলন’ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনি কী শিখছেন, কত দ্রুত শিখছেন, সেগুলো পুরোপুরি নির্ভর করে আপনি কীভাবে শিখছেন, তার উপর। ভুল অনুশীলনের পদ্ধতিগুলো আপনাকে অপ্রত্যাশিত ফলাফলের দিকে পরিচালনা করবে। কোনো সাধারণ কাজ ভালভাবে শিখতেও তখন মাস, বছর লেগে যায়।

অ্যান্ডারস এরিকসন তার বইয়ে এ ধরনের অনুশীলনকে ‘সাদাসিধে অনুশীলন’ হিসেবে দেখিয়েছেন। ‘সাদাসিধে অনুশীলন’ হচ্ছে মানুষ নিজেদের বুঝাতে সচেষ্ট হয়, তারা সঠিকভাবে অনুশীলন করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আদতে তারা কিছুই শিখছে না। সাদাসিধে অনুশীলনের উদাহরণ হতে পারে, একই সমস্যা বারবার সমাধান করা। নতুন এবং কঠিন কোনো সমস্যার সমাধান না করে পূর্বের সমস্যাটা নিয়েই অধিক সময় ব্যয় করা।

সাদাসিধে অনুশীলনে আপনি আপনার নিজেকে চ্যালেঞ্জ করছেন না। এর ফলে যা শেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন, তা শিখতে পরিমাণের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। এ অবস্থাটি কাটিয়ে উঠতে আপনাকে অবশ্যই উদ্দেশ্যপূর্ণ, ইচ্ছাকৃত মনোভাব নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। এর জন্য,

১) নিজেকে মূল্যায়ন করুন। খুঁজে বের করুন ঠিক কোন জায়গাটিতে উন্নতি করতে হবে।

২) এমন কোনো লক্ষ্য স্থির করুন, যেখানে পৌঁছতে আপনার বর্তমান সক্ষমতার চাইতে বেশি কিছু প্রয়োজন হবে।

৩) অনুশীলনের সময় পর্যাপ্ত মনোযোগ রাখুন।

৪) সুবিধাজনক জায়গা থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে নিজেকে অনুপ্রাণিত করুন।

৫) অভিজ্ঞদের ফীডব্যাক গ্রহণ করুন।

আর হ্যাঁ, অনুশীলনের সাথে সাথে বাস্তবায়ন করা অবশ্যই করণীয়। যা করছেন, করবেন বলে ঠিক করেছেন, সেগুলোর ব্যাপারে সঠিক অনুশীলন পদ্ধতিটি প্রয়োগের পরপরই কাজটিকে বাস্তবায়ন করার কাজে লেগে পড়ুন।

চতুর্থ ধাপ: ফীডব্যাক নেওয়া

এই অংশটি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন একটি ভাষা শেখার পর আপনি আপনার উচ্চারণগুলো  সঠিকভাবে করছেন কিনা- এ ব্যাপারে তখনই নিশ্চিত হতে পারবেন, যখন আপনার চেয়ে অভিজ্ঞ কাউকে শোনাবেন। সব কাজের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়। কোনোকিছু নির্ভুলভাবে শেখার জন্য সেই ব্যাপারে অভিজ্ঞদের ফীডব্যাক নেয়ার মানে হচ্ছে, আপনি আপনার ভুলগুলো শুধরানোর সুযোগ পাবেন। একই ভুল বারবার করা থেকে বেঁচে যাবেন। এমনকি কীভাবে একই কাজ আরো ভালোভাবে করতে পারবেন, সে ব্যাপারেও পরামর্শ লাভ করতে পারবেন।

এজন্য পরিচিত কাউকে নিজের কাজ দেখাতে পারেন। বিভিন্ন ফোরামে বা ফেসবুকের গ্রুপগুলোতেও নিজের কাজগুলো শেয়ার করে অভিজ্ঞদের মতামত নিতে পারেন। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখুন, যাদের কাছ থেকে ফীডব্যাক নিচ্ছেন, তারা সে কাজে আপনার চাইতে দক্ষ কিনা। সবচাইতে ভালো হয় যদি কোনো কোচ, শিক্ষক বা এমন কাউকে বাছাই করেন, যে জানে আপনি যে কাজে দক্ষ হওয়ার চেষ্টা করছেন সেটি কীভাবে করতে হয়।

সর্বশেষ

একটি নির্দিষ্ট সময় পর, যখন আপনার মনে হবে আপনি আপনার কাজটিতে অনেকটা দক্ষ হয়ে উঠছেন, সে অবস্থায় আপনার উচিত স্যান্ডবক্সের লুপটি আবার চালু করা। এমন কিছু শেখার জন্য আপনার স্যান্ডবক্সটি তৈরি করতে পারেন, যা আপনার ঐ কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদি আপনি সফটওয়্যার ডেভলাপার হতে চান, তাহলে প্রথমে স্ট্যাটিক্স প্রোগ্রামিংয়ের জ্ঞান আত্মস্থ করার পর অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিংয়ের জন্য নিজের স্যান্ডবক্সটি তৈরি করতে পারেন।

স্যান্ডবক্স মেথড; Source: nateliason.com

এছাড়াও, সবসময় সমস্যা সমাধানের ব্যাপারটিতে মনোযোগী হতে হবে। হঠাৎ কোনো জায়গায় আটকে গেলে, আটকে যাওয়ার কারণটি খুঁজে সেটি সমাধান করতে হবে। নয়তো পরবর্তীতে একই সমস্যা আরো কঠিন হয়ে দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এভাবেই আপনি আপনার পছন্দের বিষয়টিতে কোনোরকম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া দক্ষ হতে পারবেন।

ফিচার ছবি- sitepoint.com