সাইকোডেলিক ড্রাগ: পরাবাস্তব জগতের দরজা খুলে দেয় যে ঔষধ

মানুষ কল্পনাপ্রবণ প্রাণী। সৃষ্টিজগতের অসংখ্য প্রাণীর মধ্যে মানুষেরই একমাত্র কল্পনা করার ক্ষমতা আছে। মানুষ নিজের কল্পনাশক্তি দিয়ে বাস্তবতার বাইরে আলাদা একটি জগত সৃষ্টি করতে পারে। একটি স্থানে অবস্থান করে পুরো পৃথিবী ঘুরে আসতে পারে। আমরা যখন ঘুমন্ত অবস্থায় থাকি তখন অবচেতন মন কল্পনা দিয়ে অকল্পনীয় সব গল্প তৈরী করে। গল্পের সেই দৃশ্যগুলোকে আমরা স্বপ্ন বলি এবং অবাস্তব, অসম্ভব বলে উড়িয়ে দিই। জেগে থাকলেও আমরা বিচিত্র সব কল্পনা করতে পারি যা বাস্তবতার সীমানাকে স্বপ্নের চেয়েও বেশি ছাড়িয়ে যায়, যুক্তির ধার ধারে না। স্বপ্নে কল্পনা কিছু নির্দিষ্ট দৃশ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, সেগুলোর উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কিন্তু আমরা যখন জেগে জেগে কল্পনা করি তখন যা ইচ্ছা তাই ভাবতে পারি। এক্ষেত্রে কল্পনার পরিসীমা আরেকটু বিস্তৃত হয়।

প্রতীকী ছবি; Source: the power of right brain

কিন্তু তাতেও মানুষের শক্তিশালী কল্পনাশক্তির সবটুকু ব্যবহার হয় না। তাহলে এমন কিছু কি আছে যা কল্পনাশক্তির প্রায় সবটা কাজে লাগাতে পারে? হ্যাঁ, আছে; একধরনের ঔষধ। সে ঔষধ আপনাকে অসীম কল্পনার সমুদ্রে ভাসিয়ে নিয়ে বেড়াতে পারে। কেমন হতে পারে সেই কল্পনার জগত? আমরা হরহামেশা যেমন কল্পনা করে অভ্যস্ত তেমন? আমরা যা-ই কল্পনা করি না কেন তা হয় আমাদের অভিজ্ঞতার আলোকে। আমাদের কল্পনায় বাস্তবে যা দেখি বা শুনি তারই ছাপ লক্ষ্য করা যায়। হয়তো কল্পনায় শুধু বাস্তবের গন্ডীকে ছাড়িয়ে গিয়ে এমন কিছু চিন্তা করা হয় যা কখনো, কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে যা আপনার স্মৃতিতে নেই তা আপনি কল্পনা করতে পারবেন না। কিন্তু এই ঔষধ আপনার স্বাভাবিক কল্পনার সীমাকে অতিক্রম করতে সহায়তা করতে পারে।

আপনাকে নিয়ে যেতে পারে অসম্ভব রঙিন আর পরাবাস্তব এক দুনিয়ায়। যেখানে হয়ত আকাশটা সবুজ, গাছের পাতাগুলো বেগুনি আর পাখিরা সব নীল। কিংবা হয়তো আপনাকে নিয়ে যাবে অদ্ভুত আলো-আঁধারিতে ঢাকা রহস্যময় এক জগতে। যেখানে ঘুরতে ঘুরতে আপনার মনে হতে পারে সেখানকার সমস্ত অণু-পরমাণু গতিশীল। জগতটি নিজেই আপনার সাথে হেঁটে চলেছে অজানা কোনো গন্তব্যে। তারপর একসময় জীবন্ত জগতটির সমস্ত উপাদান নানাভাবে বিন্যস্ত হয়ে উজ্জ্বল রঙের চোখ ধাঁধানো কোনো নকশা তৈরী করবে যা আপনি কখনো দেখেননি ।

সাইকোডোলিক ড্রাগের প্রভাবে আপনি যা দেখতে পারেন; Source: exmoorjane.com

অপার্থিব সেই নকশার জগত থেকে বের হয়ে আপনি এসে পড়তে পারেন অন্ধকারে। তারপর হয়তো তা আপনার চোখের সামনেই রুপ নিচ্ছে অন্য কোনো জগতে। মনে হতে পারে, আপনি অসীম মহাবিশ্বের অদেখা কোনো রাজ্যে এসে পড়েছেন আর একের পর এক অজানা জগতের দরজা খুলে যাচ্ছে আপনার সামনে। কিংবা হয়তো মনে হবে আপনি এসে পড়েছেন অসীম এক গোলকধাঁধায়। যেখানে কখনো বিস্ময় এসে চেপে ধরতে পারে আপনাকে। কখনো আপনাকে ভাসাতে পারে আনন্দেও। মোটকথা, এই ঔষধ আপনাকে আপনার পরিচিত বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ ভুলিয়ে দিয়ে নতুন এক জগতে অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দেবে। নিশ্চয়ই খুব জানতে ইচ্ছা করছে আপনার কী সেই ঔষধ? এই ঔষধের নাম – সাইকোডেলিক ড্রাগ

সাইকোডেলিক ড্রাগ কী?

সাইকোডেলিক ড্রাগ হচ্ছে বিভ্রম সৃষ্টিকারী (hallucinogen) এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। সাইকোডেলিক ড্রাগ আমাদের স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। ফলে দৃষ্টিবিভ্রম বা শ্রুতিবিভ্রম ঘটে এবং আমরা এমন কিছু দেখতে পাই বা শুনতে পাই বাস্তবে যার অস্তিত্ব নেই । সাইকোডেলিক ড্রাগের প্রতিক্রিয়া কতটুকু হবে তা ব্যক্তির পরিবেশ, কোন ড্রাগ নেয়া হচ্ছে (নানারকম সাইকোডেলিক ড্রাগ আছে), ড্রাগের মাত্রা প্রভৃতি নানা বিষয়ের উপর নির্ভর করে।

সম্পূর্ণ জাগ্রত অবস্থায় ঔষধটি গ্রহণ করলেন, যেখানে ছিলেন সেই পরিবেশেই আছেন। কিন্তু সেই সাদামাটা নিরীহ পরিবেশটা ঔষধটি নেয়ার পর আর সাদামাটা থাকবে না। আপনার অতি পরিচিত সেই পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্নরকম লাগবে। পরিচিত দৃশ্যগুলো ধারণ করবে অপরিচিত রুপ। অপরিচিত তবে মোহনীয়, অনেক বেশি রঙিন। ছোটবেলায় ক্যালাইডোস্কোপ নিয়ে খেলেছেন? সাধারণত সাইকোডেলিক ড্রাগের প্রভাবে যে দৃশ্যগুলো দেখা যায় সেগুলো অনেকটা ক্যালাইডোস্কোপে দেখা দৃশ্যের মতো হয়। ক্যালাইডোস্কোপে যেমন একটি ছবি বা নকশা অনেকগুলো আয়নায় অনেকবার প্রতিফলিত হয়ে নতুন কোনো নকশা বা ছবি তৈরী করে, সাইকোডেলিক ড্রাগের প্রভাবে তেমনি আপনার পরিচিত দৃশ্যগুলো ভিন্ন আঙ্গিকে ধরা দেয় বা দৃশ্যগুলো মিলে দুর্বোধ্য কোনো নতুন দৃশ্য বা নতুন নকশাও তৈরী করতে পারে!

ক্যালাইডোস্কোপের মতোই সাইকোডেলিক ড্রাগও আপনাকে দেখাতে পারে দারুণ সব নকশা; Source: medical daily

ড্রাগ নেয়ার পর আপনি চোখ খোলা রেখে আশেপাশের দৃশ্যকে নতুনভাবে উপভোগ করতে পারেন বা চোখে বন্ধ করে অচেনা কোন রঙিন কল্পনার রাজ্যেও হারিয়ে যেতে পারেন। দেখা গেছে, সাইকোডেলিক ড্রাগ অনেক বেশি মাত্রায় নিলে সচেতনতার মাত্রা বেড়ে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা যা চিন্তা করতে পারি না বা আমাদের চারপাশের পরিবেশের যা কিছু আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো উপলব্ধি করতে পারে না সাইকোডেলিক ড্রাগ গ্রহণ করলে সেই বিষয়গুলো চিন্তা করা বা বোঝা সম্ভব হয়। অতিরিক্ত মাত্রায় এই ড্রাগ নিলে আপনার এটাও মনে হতে পারে যে, আপনি আপনার শরীর থেকে বের হয়ে এসে অতিপ্রাকৃতিক কোনো জগতে বিচরণ করছেন! এজন্য যুগ যুগ ধরে মানুষ তাদের আধ্যাত্মিক চিন্তার পরিসীমা বাড়াতে হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ ব্যবহার করে আসছে।

কয়েকটি শক্তিশালী সাইকোডেলিক ড্রাগ

ম্যাজিক মাশরুম (সিলোসাইবিন)

ম্যাজিক মাশরুম বা শ্রুম একটি সুপরিচিত সাইকোডেলিক ড্রাগ। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই ব্যক্তির অভ্যন্তরে আধ্যাত্মিক অনুভূতি আনয়নকারী (entheogen) এবং বিভ্রম সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ম্যাজিক মাশরুম এক ধরনের ছত্রাক।

ম্যাজিক মাশরুম; Source: cnn.com

এতে থাকা সিলোসাইবিন নামের উপাদানই মূলত বিভ্রম সৃষ্টি করতে পারে। আর এটা আসে প্রধানত ম্যাজিক মাশরুমের বিশেষ প্রজাতি psilocybin cubensis থেকে। সিলোসাইবিন দর্শনে ভ্রম সৃষ্টি করতে পারলেও এর প্রভাবটা পড়ে মূলত মনের উপর। সিলোসাইবিন নিলে আপনার মনে হবে যেন আপনি প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে যাচ্ছেন, প্রতিটি জীবিত বস্তুর সাথে আপনার এক অদ্ভুত সংযোগ তৈরী হচ্ছে।

সিলোসাইবিন ব্যক্তি এবং জগতের জীবন্ত সবকিছুর মাঝখানে বন্ধন তৈরী করে দিতে পারে; Source:chicagonow.com

মনে হতে পারে বাঁধভাঙা আনন্দের স্রোতে ভেসে যাচ্ছেন আপনি। তবে মাত্রাতিরিক্ত সিলোসাইবিন আপনাকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে। চিন্তায় নেতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, ফলে তীব্র মানসিক কষ্টেও ভুগতে হতে পারে আপনাকে।

এলএসডি (LSD)

Lysergic acid diethylamide বা LSD বা এসিড সম্ভবত সবচেয়ে পরিচিত সাইকোডেলিক ড্রাগ। এটি সাধারণত কাগজের পাতলা ফালিতে রেখে গ্রহণ করা হয়।

এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ঔষধ। বিভ্রম তৈরীর জন্য অন্যান্য ড্রাগের যেখানে কয়েকশ’ গ্রাম পর্যন্ত গ্রহণ করতে হয় সেখানে এলএসডি প্রয়োজন হয় মাত্র ১৫০ মাইক্রোগ্রামের মতো। এলএসডির প্রভাবও অনেকটা সিলোসাইবিনের মতোই, তবে এক্ষেত্রে কল্পনা হয় অনেক বেশি উজ্জ্বল, অনেক বেশি রঙিন। একটি উদাহরণ দেয়া যাক। ধরুন, আপনি এলএসডি গ্রহণ করলেন এবং পড়ন্ত বিকেলে হাঁটতে বের হলেন। আপনার মনে হবে যে, আপনি সাধারণ কোনো বৈকালিক ভ্রমণ করছেন না, বরং আপনি যেন দারুণ রংচঙে কোনো শিল্পকর্মের জগতে হেঁটে চলেছেন।

নান্দনিক এলএসডি ভ্রমণ; Source: tonic.vice.com

তবে এলএসডির অতিরিক্ত গ্রহণ আপনাকে নরকভোগের অভিজ্ঞতাই উপহার দেবে!

মেসকালিন

মেসকালিন একটি রাসায়নিক পদার্থ যা সাধারণত মরুভূমিতে জন্মানো বেশ কিছু ক্যাকটাস থেকে পাওয়া যায়। মেসকালিন ধারণকারী ক্যাকটাসের মধ্যে আছে পিয়োতি, স্যান পেড্রো ক্যাকটাস প্রভৃতি।

মেসকালিন উৎপন্নকারী একটি ক্যাকটাস; Source: open hearted rebel

পিয়োতি আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান সমাজে ভীষণ জনপ্রিয়। তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এই উপাদানটি। শামান তাকে ঘিরে বসে থাকা একদল লোককে পিয়োতি বিতরণ করেন, সকলে তার এবং পরিবারের সুস্বাস্থ্য এবং সৌভাগ্যের আশায় এটি গ্রহণ করে। মাশরুম এবং এলএসডির মতো এটিও কল্পনায় অস্বাভাবিক রঙ চড়াতে পারে, আনন্দের অনুভূতি অনুভব করাতে পারে, এমনকী অন্তদৃষ্টি খুলে দিতে পারে।

ডিএমটি (DMT)

N,N- Dimethyltriptamine বা DMT এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে শক্তিশালী সাইকোডেলিক ড্রাগ। এটি মস্তিষ্কের গভীরে অবস্থিত, ‘তৃতীয় নয়ন’ বলে পরিচিত পিনিয়াল গ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে। পিনিয়াল গ্রন্থিকে স্বপ্ন দেখার জন্য দায়ী ভাবা হয়। ডিএমটির প্রতিক্রিয়া হয় যেকোনো সাইকোডেলিক ড্রাগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র।

ডিএমটির মোহময় মায়ার জগৎ ; Source:I am awake

এর বিভ্রম সৃষ্টির ক্ষমতা এতটাই বেশি যে, এটি আপনার চোখকে তীব্রভাবে ঝলসে দিতে পারে, মায়ায় অন্ধ হয়ে যেতে পারেন আপনি। গভীর আধ্যাত্মিক বা পরাবাস্তব অনুভূতির জন্ম দিতে পারে বলে ডিএমটিকে ‘The spirit molecule‘ উপনামে ভূষিত করা হয়েছে।

ডিএমটি, দ্য স্পিরিট মলিকিউল; Source:the drug classroom

বহুবছর আগে থেকে আমাজনের উপজাতিরা আমাজনের বিশেষ কিছু গাছগাছড়াকে চায়ে মিশিয়ে পান করে আসছে। এই চা পানের পর হজম হলে জাদুকরী প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। এই চা-কে তারা বলে ‘আয়াহুয়াস্কা’। এই আয়াহুয়াস্কার রাসায়নিক রুপ হচ্ছে ডিএমটি।

কীভাবে কাজ করে সাইকোডেলিক ড্রাগ?

আমাদের প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র বাইরের পরিবেশ থেকে অনুভূতি মস্তিষ্কে বয়ে নিয়ে যায়। মস্তিষ্কে এসে অনুভূতিগুলো ইলেকট্রনিক সিগন্যালে পরিবর্তিত হয়। মস্তিষ্কে নানারকম নিউরোট্রান্সমিটার থাকে। এরা নিউরন থেকে নিউরনে সিগন্যাল পরিবহন করে। নিউরোট্রান্সমিটারের কাজ করার জন্য মস্তিষ্কে নিউরেট্রান্সমিটার রিসেপ্টর থাকে। যেমন- ডোপামিন রিসেপ্টর, সেরেটোনিন রিসেপ্টর। সঠিক রিসেপ্টরে সঠিক নিউরোট্রান্সমিটার এসে লাগলেই আমরা ভয়, ভালো লাগা প্রভৃতি নানারকম অনুভূতি অনুভব করতে পারি। সাইকোডেলিক ড্রাগ গ্রহণ করলে এরা নিউরেট্রান্সমিটারকে হটিয়ে নিজেরাই রিসেপ্টরের সাথে লেগে যায়। ফলে বাইরের জগত থেকে আসা অনুভূতিগুলো আর আমরা অনুভব করতে পারি না। সাইকোডেলিক ড্রাগ যা অনুভব করায় তা-ই অনুভব করি।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই ড্রাগগুলো মস্তিষ্কের দর্শনের জন্য দায়ী এলাকাটিকে অনেক বেশি সক্রিয় করে। ফলে এমন কিছু আমরা দেখতে পাই যা স্বাভাবিক অবস্থায় দেখি না।স্বাভাবিক অবস্থায় মস্তিষ্কের প্রত্যেকটি অংশ আলাদাভাবে কাজ করে। কিন্তু সাইকোডেলিক ড্রাগ গ্রহণ করলে মস্তিষ্কের সব অংশ একটি আরেকটির সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত হয়। ফলে চিন্তাভাবনায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং ভিন্নরকম সচেতনতাবোধ তৈরী হয়। কার্যকর ফলাফল পেতে ২০ মিনিট থেকে ১২ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। অতিরিক্ত মাত্রার ড্রাগ আমাদের ইগো (the sense of self)-কে বিগলিত করে। ফলে আমরা আমাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, বাস্তবতা থেকে আলাদা হয়ে যাই এবং পরাবাস্তব দুনিয়ায় বিচরণ করি। সাইকোডেলিক ড্রাগ কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে উপর্যুক্ত ধারণাগুলোই মোটামুটি প্রচলিত। বিজ্ঞানীরা এখনো জানেন না এই ড্রাগগুলো আসলেই কীভাবে কাজ করে।

মানসিক রোগের চিকিৎসায় সাইকোডেলিক ড্রাগ

বেশ কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাইকোডেলিক ড্রাগ বিষণ্ণতা ও উদ্বিগ্নতার মতো মানসিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে। এমনকি মাদকাসক্তির চিকিৎসাতেও সাইকোডেলিক ড্রাগের ব্যবহারে সফলতা পাওয়া গেছে। এলএসডি আবিষ্কারের পর গত শতকের ষাটের দশকে স্রেফ বিনোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসীরা এলএসডি নেয়া শুরু করে। অপব্যবহার রোধে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এলএসডিসহ সকল সাইকোডেলিক ড্রাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। তবে এই ড্রাগ নিয়ে গবেষণা থেমে থাকেনি। আগেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে। আশা করা যায়, অদূর ভবিষ্যতে আমরা সাইকোডেলিক ড্রাগের ইতিবাচক অনেক ব্যবহার দেখতে পাবো।

সাময়িক আনন্দ পাওয়া গেলেও সাইকোডেলিক ড্রাগ সেবনের ফলে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। তাই কখনোই সাইকোডেলিক ড্রাগ গ্রহণ করবেন না যেন!

ফিচার ইমেজ- chicagonow.com

Related Articles