সাল ১৪৭৪,  ক্রিসমাসের ঠিক ১২ দিন আগের কথা। ২৩ বছর বয়সী এক যুবতী সশস্ত্র বহর নিয়ে সেগোভিয়া শহরের রাজপথে নামেন। সামনে এগিয়ে চলা সৈনিকের হাতের উন্মুক্ত তরবারির চেয়েও তার পরিহিত পোশাকের ঝলকানি শহরের মানুষের চোখে লেগেছিল। হালকা সবুজাভ চোখ আর অগ্নির মতো বাঁধা চুলের সেই যুবতী সেদিন একটি সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

আর এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে ক্যাস্টাইল এবং অ্যারাগনের নতুন রানি হিসেবে ঘোষণা দেন। সেগোভিয়ার মানুষ এর আগে কখনোই এমন দৃশ্য দেখেনি। একজন অল্প বয়সী যুবতীর নিজেকে সাম্রাজ্যের নতুন শাসক ঘোষণা করার মতো ঘটনা তখন গোটা ইউরোপের কোথাও ঘটেছে বলেও শোনা যায়নি।

ইসাবেলা অব ক্যাস্টাইল; Image Source: Factinate.com

তিনিই প্রথম ইসাবেলা অব ক্যাস্টাইল হিসেবে পরবর্তীতে ভুবনবিখ্যাত হয়েছেন। ইসাবেলা তার সবুজাভ চোখ পেয়েছেন ইংরেজ দাদি ক্যাথরিন অব লেনচেস্টারের কাছ থেকে। সেকালের লেখকরা এমনটাই উল্লেখ করেছিলেন। এর দুই দশক পর ইসাবেলার প্রতি কৃতজ্ঞতাবশত তৎকালীন জার্মান শাসকরা ইসাবেলাকে ৫০০ বছরের সবচেয়ে ক্ষমতাধর শাসক ঘোষণা করেন। যদিও তার এত সুখ্যাতির কারণও রয়েছে। ইসাবেলা বিভক্ত স্পেনকে একত্রিত করে পশ্চিমা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যেগ নেন। স্প্যানিশদের পুনর্জাগরণ ঘটে তার শাসনামলে।

সেগোভিয়ার প্রাসাদ; Image Source:  JOSÉ ANTONIO MORENO/FOTOTECA 9X12

যদিও ইসাবেলার আগে এবং পরে ইউরোপে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নারী শাসকের অভ্যুদয় ঘটেছিল। ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ এবং ভিক্টোরিয়া, রাশিয়ার ক্যাথরিন, অস্ট্রিয়ার মারিয়া থ্যারেসারা নিজ নিজ ক্ষমতার জন্য ইতিহাসে স্মরণীয়। কিন্তু একজন শাসকের সবদিক বিবেচনা করে তুলনা করতে গেলে ইসাবেলা অব ক্যাস্টাইলের চেয়ে কাউকে এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই। আর কেন তিনি সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন সেগুলো নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।

ক্ষমতার রোমাঞ্চ

ইসাবেলার বাবা ছিলেন স্পেনের সাবেক রাজা দ্বিতীয় হুয়ান, অন্যদিকে তার মা ছিলেন পর্তুগিজ রাজপরিবারের একজন রাজকন্যা। শৈশব-কৈশোর থেকেই বিচক্ষণতার ছাপ ইসাবেলার মধ্যে ছিল স্পষ্ট। সেই গুণ সুবিদিত হয়, যখন নিজের স্বামী হিসেবে একজনকে বেছে নিতে বলা হয়েছিল। ইসাবেলের বয়স তখন সবে ১৮ পূর্ণ হয়েছে।

স্বয়ম্বরের ঐ তালিকায় ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ রাজা তৃতীয় রিচার্ডও ছিলেন। যদিও ইসাবেলা তার ভাই, তৎকালীন রাজা চতুর্থ হেনরির কথামতো কাউকে নির্বাচন করেননি। সতের বছর বয়সী ফার্দিনান্দ তখন যুদ্ধে আহত হয়ে রাজপরিবারের চাকরের কাজ করছিলেন। অনেক নাটকীয়তার পর ১৪৬৯ খ্রিস্টাব্দে তাকেই বিয়ে করেন ইসাবেলা। আর এতে করেই তার ভাইয়ের সঙ্গে তার বিরোধ বেড়ে যায়।

ইসাবেলা এবং তার স্বামী ফার্দিনান্দ; Image Source: Factinate.com

বাস্তবিক ইসাবেলা ছিলেন হেনরির সৎ বোন। সেই সাথে রাজার নির্দেশ অমান্য করার কারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তার বিরুদ্ধে গিয়েছিল। যেমনভাবে হেনরি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজের মেয়ে হুয়ানাকে নির্বাচিত করেছিলেন।

কথিত আছে যে, হেনরি প্রেতাত্মায় বিশ্বাস করতেন এবং রাজপরিবারের বিভিন্ন বিষয়ে নিজের সেই মিথ্যা বিশ্বাস প্রভাবিত করতে চাইতেন। কিন্তু বিচক্ষণ ও সাহসী ইসাবেলাকে কোনোভাবেই দমাতে পারেননি তিনি।

ক্ষমতা নিজের হাতে নেওয়ার কিছুদিন পরেই সেগোভিয়ার বিশপরা প্রমাণ করেন যে, সাম্রাজ্যের উচ্চপদস্থ বেশিরভাগ লোকজনই ইসাবেলাকে রানি হিসেবে মানতে পারছে না। যদিও এসবের কোনো তোয়াক্কা করেননি তিনি। কারণ তার স্বামী ফার্দিনান্দ ছিলেন তার অন্যতম ভরসা। তার প্রখর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে একসময় দুজনে মিলে গোটা স্পেনকে এক করে ইউরোপে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলেন।

অল্প বয়সী ইসাবেলা; Image Source: Factinate.com

ইসাবেলা এমন এক সময় সিংহাসনে বসেন, যখন ক্যাস্টাইলের মানুষ ন্যায়বিচার, নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতো। একইভাবে রাজ্যের মুসলমান এবং ইহুদিরা নানারকম সমস্যায় জর্জরিত ছিল। বিশৃঙ্খল এই রাজ্যকে পুনরায় শৃঙ্খল করতে তিনি নিজের কঠোর রূপ প্রকাশ করেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সাংসারিক জীবনেও সকল ক্ষমতা তিনি নিজের হাতে রাখতেন।

হয়তো তার এমন মনোভাবের কারণেই স্বামী ফার্দিনান্দ গোপনে অন্যত্র সংসার পেতেছিলেন। তবুও সময়োপযোগী নির্দেশনা ও নতুন নতুন আইন স্পেনের মানুষকে আগের চেয়েও বেশি সুশৃঙ্খল এবং সভ্য হিসেবে গড়ে তোলে। আর এই কারণেই ইসাবেলাকে 'আয়রন কুইন' হিসেবে আখ্যায়িত করেন তৎকালীন লেখকরা।

স্প্যানিশ সাম্রাজ্য; Image Source: MAP/EOSGIS.COM

ইসাবেলার সফলতম শাসনামলকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করেন স্প্যানিশ ইতিহাসবিদরা- প্রথমত, খ্রিস্টানদের আন্দোলনের মুখে ইহুদি ও মুসলমানদের সঙ্কোচন এবং দ্বিতীয়্‌ আটলান্টিকের পাশ্ববর্তী অঞ্চলের দিকে সাম্রাজ্য বিস্তার।

ধারণা করা হয়, ইসাবেলাই প্রথম উপকূলবর্তী দেশগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অভিযানের উদ্যোগ নেন। যদিও পরবর্তীতে ব্রিটেন তাকে অনুসরণ করে নতুন অঞ্চল খোঁজার অভিযান শুরু করেছিল।

দুর্দান্ত অংশীদারিত্ব

বিয়ের পর একটি অপমানজনক চুক্তির মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি করে রাজ্য পরিচালনায় মনোযোগ দেন ইসাবেলা এবং ফার্দিনান্দ। ১৪৭৯ সালে ফার্দিনান্দকে অ্যারাগনের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন ইসাবেলা।

চুক্তি অনুযায়ী সকল ক্ষমতা রানির হাতেই ছিল। নারী শাসক হিসেবে তাকে যারা ছোট করে দেখছিল, তাদের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা পাঠান তিনি। এছাড়াও তার অধীনে কাজ করা সক্রিয় গুপ্তচররা সবসময় সকল বিদ্রোহের আগাম খবরাখবর পাঠাতো। এতে করে তাদের শক্তহাতে নির্মূল করতে পেরেছিলেন তিনি।

ইসাবেলা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ফার্দিনান্দের সাহায্য নিতেন। মূলত তাদের রণকৌশল ছিলো দুইভাগে বিভক্ত হয়ে শত্রুর মোকাবিলা করা।

ইসাবেলার মূর্তি; Image Source: Factinate.com

তবুও স্বামী ও সংসারের প্রতি উদাসীন রানি ইসাবেলার প্রতি ফার্দিনান্দ কখনও কখনও রেগেও যেতেন। একবার তিনি চিঠিতে লেখেন,

একদিন আমরা আমাদের প্রথম ভালোবাসায় পুনরায় ফিরতে পারবো। যেদিন বোঝা যাবে তোমার এই নেতৃত্ব নরহত্যার জন্য দায়ী নয়। তুমি সেদিন অবশ্যই আমাকে লিখবে এবং জানাবে তুমি কেমন আছ।

কথিত আছে যে, ফার্দিনান্দ সন্তানের জন্য মুখিয়ে ছিলেন। আর ঠিক একই সময় ইসাবেলা সমগ্র স্পেনে ঘুরে ঘুরে বিদ্রোহীদের দমন করেন। এসময় তার একাধিক অনাগত সন্তানের ক্ষতিও হয়েছিল। তবুও এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত হননি রানি ইসাবেলা। বরঞ্চ তার আগ্রাসী মনোভাবের কারণে স্পেনের অন্য অঞ্চলের শাসকরা দ্রুত তার বশ্যতা স্বীকার করেন।

ক্যাস্টাইলের একটি অংশ; Image Source: Factinate.com

উত্তর আফ্রিকান অনুপ্রবেশকারীরা অষ্টম শতাব্দীতে ক্যাস্টাইলে প্রবেশ করার পর আস্তে আস্তে বসতি গড়ে তোলে। যদিও পরবর্তীতে গোটা স্পেনে শুধুমাত্র একটি মুসলিম রাজ্য ছিল। গ্রানাডায় অবস্থিত নাস্রিদ রাজবংশের শাসকরা তখনও রাজ্যটি শাসন করছিল। পরবর্তীকালে তারা রানি ইসাবেলার বশ্যতা স্বীকার করেনি বলে তাদের বিরুদ্ধেও একের পর এক আক্রমণ চলতে থাকে।

ইসাবেলা নিজেকে সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত দেশের সেবক হিসেবে প্রতিটি অভিযান পরিচালনা করতেন। আর এই কথাটি তিনি বেশ ঘটা করেই সবাইকে জানাতেন।

যুদ্ধ, দেশ সংস্কার এবং উপনিবেশ স্থাপন

ইসাবেলা নিজে কখনোই একজন খ্যাতিমান যোদ্ধা ছিলেন না। তবে তিনি লাতিন ভাষায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। এছাড়াও ইতালিয়ান শিক্ষাগুরুদের নিকট থেকেও অধিক জ্ঞান অর্জন করন। এরই ধারাবাহিকতায় ইসাবেলা নিজের চার কন্যা এবং এক পুত্রকে ইতালিয়ান ইতিহাসবিদদের মাধ্যমে পাঠদানের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও তিনি জোয়ান অব আর্কের গল্পগুলো নিজের সংরক্ষিত বইয়ের সঙ্গে রাখতেন।

ইসাবেলার জন্মস্থান; Image Source: IGNACIO PALACIOS/GETTY IMAGES

ইসাবেলা তার সেনাপতি, সৈন্য এবং অস্ত্রনির্মাতাদের সঙ্গে বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলেন। যে কোনো যুদ্ধের আহ্বান তাকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করেনি। বরঞ্চ স্বামী ফার্দিনান্দ ও নিজের সেনাবাহিনী দিয়ে শক্ত হাতে সেগুলো মোকাবেলা করেছেন।

মধ্যযুগীয় শাসকরা প্রতিরক্ষা থেকেও যুদ্ধের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ইসাবেলা রাজ্যের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে খাল খনন, শক্তিশালী দেয়াল এবং গোপন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কোনো এক সময় ক্যাস্টাইলের এক সমাবেশে জনগনের প্রতি নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে প্রাধান্য দিয়ে বক্তৃতা দেন ইসাবেলা।

মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ; Image Source: Factinate.com

১৪৯২ সালের ২ জানুয়ারি স্পেনের সর্বশেষ মুসলিম রাজ্যের সর্বশেষ রাজাকেও একটি আইন পাশের মধ্য দিয়ে বিতাড়িত করা হয়। এর নেপথ্যে ইসাবেলার ইচ্ছাকেই দায়ী করেন মুসলিম ইতিহাসবিদরা।

স্পেনে তখনও তিনটি ধর্মের মানুষের বসবাস থাকলেও ইসাবেলার সময়ে মুসলমানদের বিতাড়িত করার পাশাপাশি ইহুদিদের তাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়। যদিও এমনটি ইসাবেলার পূর্ববর্তী রাজাদের আমল থেকেই হয়ে আসছিল।

তখনকার সময়ের সবচেয়ে বড় ইহুদি জনবসতি ছিল স্পেনে। শাসকদের নির্যাতনের কারণে তাদের কেউ কেউ খ্রিস্টানধর্ম গ্রহণ করেন। তবে সমাজের বাকি খ্রিস্টানরা তাদের সহ্য করতে পারতো না। ধর্মান্তরিতদের বিরুদ্ধে রাজপ্রাসাদে নানানরকম অভিযোগ দিত তারা।

যুদ্ধের দৃশ্য; Image Source: ART ARCHIVE

নতুন খ্রিস্টানরা গোপনে ইহুদি ধর্মের সবরকম রীতিনীতি পালন করে বলেও বড়রকম অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ইসাবেলা খ্রিস্টধর্মের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ও জ্ঞানের সীমা যাচাই করতে পরীক্ষা নেন। একই সময় গোটা ইউরোপে খ্রিস্টানদের প্রাধান্য বৃদ্ধি পায়। লন্ডনে সপ্তম হেনরি প্রার্থনার আয়োজন করেন।

অন্যদিকে রোমে রদ্রিগো বোর্গিয়া নামক এক ব্যক্তি ষাঁড়ের লড়াই এবং একটি মিছিলের আয়োজন করেন। আট মাস পর বোর্গিয়া ষষ্ঠ আলেক্সান্দার নামে ভ্যাটিকানে পোপ হিসেবে নিযুক্ত হন। স্প্যানিশ হওয়ার সুবাদে তিনি নিজ দেশেও খ্রিস্টধর্ম প্রতিষ্ঠার প্রতি নজর দেন।

ইসাবেলার সঙ্গে কলম্বাসের সাক্ষাত; Image Source: Factinate.com

১৪৯২ সালটি ছিল ইসাবেলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্মরণীয়। ইতালিয়ান নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস দীর্ঘদিন যাবত তার প্রাসাদের আশপাশে ঘুরঘুর করছিলেন। পরবর্তীতে ইসাবেলার সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি বোঝাতে সক্ষম হন, তার অভিযানটি হবে এশিয়ার উপকূলকেন্দ্রিক। ইসাবেলা তার প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করলেও তিনি পুনরায় নতুন প্রস্তাব নিয়ে আসতেন।

কলম্বাস শুধুমাত্র ৩টি জাহাজ তৈরির জন্য অল্পসংখ্যক অর্থ চেয়েছিলেন, বিনিময়ে কয়েকগুণ বেশি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। এশিয়ার উপকূলে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে থামে কলম্বাসের নৌবহর।

১৮৬৭ সালে আঁকা একটি দৃশ্যপট; Image Source: ORONOZ/ALBUM

কলম্বাস প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইসাবেলার জন্য তামাকসহ বিপুল পরিমাণ জিনিসপত্র নিয়ে ফেরেন। এছাড়াও তিনি সেখানকার কয়েকজন কালো আদিবাসীকে সঙ্গে আনেন। ইসাবেলা অভিযানের জিনিসপত্র ভাগাভাগি নিয়ে তেমন কোনো সমস্যার মুখোমুখি হননি।

তবে কলম্বাসের সঙ্গে করে আনা আফ্রিকানদের তিনি দাস হিসেবে নিযুক্ত করবেন কিনা- তা নিয়ে দোটানায় পড়েন। কলম্বাস প্রথম ব্যক্তি নন, যিনি প্রথমবার আমেরিকায় অভিযান চালিয়েছেন। তবে ইসাবেলা ইউরোপের প্রথম শাসক যিনি সাত বছরে কলম্বাসের অভিযানে আবিষ্কৃত সবক'টি অঞ্চলে উপনিবেশ গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন।

পতন

ইসাবেলার নেতৃত্বে একতাবদ্ধ স্পেন তখন ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ। ইতালির বেশিরভাগ অঞ্চলেও তখন স্প্যানিশদের আধিপত্য লক্ষ করা যেত। তবে এত এত সফলতার পাশাপাশি তার পারিবারিক সমস্যাও বাড়তে থাকে।

ইসাবেলার একমাত্র পুত্র হুয়ান ১৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার বড় কন্যা ইসাবেলাও সন্তানপ্রসবের সময় মারা যায়। পরবর্তীতে ইসাবেলা নাতিকে লালনপালন করলেও একসময় তার মৃত্যুও স্বচক্ষে দেখেন। অন্য তিন মেয়েকে তিনি অন্যদেশে পাঠিয়ে দেন।

মৃত্যুশয্যায় রানি ইসাবেলা; Image Source: Factinate.com

এদের মধ্যে ক্যাথরিন অব অ্যারাগন, প্রিন্স অব ওয়েলস খ্যাত আর্থুরকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে আর্থুরের ভাই অষ্টম হেনরির সঙ্গেও তার বিয়ে হয়। সবার বড় হুয়ানা তার স্বামীর ষড়যন্ত্রে একসময় ইসাবেলার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ক্যাস্টাইলের রাজমুকুট দাবি করে।

১৫০৪ সালে নভেম্বরে মৃত্যুশয্যায় ইসাবেলা বুঝতে পেরেছিলেন, স্পেন এবং ক্যাস্টাইল ততদিনে হস্তান্তর হয়ে গেছে। তার নির্মম পতনের জন্য তাকেই দোষী করেছেন সেকালের লেখকরা। তবে তার গৌরব এবং শ্রেষ্ঠত্বকে মেনে নিয়ে স্বয়ং ব্রিটিশ চ্যান্সেলর ফ্রান্সিস ব্যাকন বলেন,

সূর্য কখনও অস্তমিত হয় না। কখনও কখনও তার এক অংশ অথবা অন্য অংশ প্রজ্বলিত থাকে। বাস্তবিক এটি হলো গৌরবের মরিচিকা।

গ্রানাডার রয়াল চ্যাপেলে ইসাবেলা ও ফার্দিনান্দের সমাধি; Image Source: ORONOZ/ALBUM

বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আটলান্টিকের পাশ্ববর্তী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাণিজ্যিক অঞ্চল গড়ে ওঠে। আর এই ব্যাপক উন্নয়নের কারণে এই অঞ্চলের মানুষ তখনও ইসাবেলাকে শ্রদ্ধা করতো। স্পেনে তিনি ধার করে আনা রীতি-নীতি কিংবা অন্য সভ্যতার ছোঁয়া পেতে দেননি। স্পেন যেমন তার ইতিহাসের অন্যতম সেরা শাসকের জন্য গৌরবমণ্ডিত, তেমনি ইসাবেলাও ইউরোপের নারী শাসকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। অন্তত তার ৩০ বছরের শাসনকালে স্পেনের অভাবনীয় পরিবর্তন এমনটাই প্রমাণ করে।

This Bengali article written about Isabella I of Castile. Once she declared herself as a Queen of Castile then she ruled 30 years until her death. At that time Spain was becoming Europe’s new superpower. Necessary references are hyperlinked inside the article.

Featured Image: Ancient History.com