প্রকৃতি রহস্য পছন্দ করে। প্রকৃতির এই রহস্যের খেলা নিরন্তর। যুগে যুগে ইতিহাসও আমাদের উৎসুক মনকে আন্দোলিত করে গেছে জানা-অজানা অসংখ্য রহস্যের অবতারণার মাধ্যমে, যার মধ্যে বেশ কিছু রহস্য সমাধান মিললেও, সমাধান না হওয়া রহস্যের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। আধুনিক বিজ্ঞানের বদৌলতে এবং বিজ্ঞানীদের অব্যাহত প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু ঐতিহাসিক রহস্যের সমাধান জানা গেছে এবং একই সাথে অসংখ্য রহস্যের জট খোলা শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানী এবং ঐতিহাসিকগণ মহাবিশ্ব ও আমাদের নিজেদের অতীত সম্পর্কে অপ্রত্যাশিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন এবং সাম্প্রতিককালে তারা উল্লেখযোগ্য কিছু সাফল্য অর্জন করেছেন। এমনই কিছু সমাধান হওয়া রহস্য নিয়ে চলুন জানা যাক।

এন্টার্কটিকার রক্তপ্রপাত রহস্য

সময়টা ১৯১১ সাল, পূর্ব এন্টার্কটিকার টেইলর গ্লেসিয়ারে বিজ্ঞানীরা দেখলেন এক অদ্ভুত দৃশ্য! সাদা-শুভ্র তুষার ঢেকে গেছে লাল রক্তে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করলেন, জলজ উদ্ভিদ বা শ্যাওলা এই ঘটনার জন্য দায়ী। কিন্তু তার কোনো প্রমাণ তাদের কাছে ছিল না।

এন্টার্টিকার রক্তপ্রপাত; source: National Geographic

রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করলেন ইউনিভার্সিটি অফ আলাস্কা ফেয়ারব্যাঙ্কসের গবেষকরা। তুষারবিদ এবং অনুজীব বিশেষজ্ঞরা এ রক্তপ্রবাহের কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, বরফের নিচে ভূগর্ভস্থ একটি লেক রয়েছে, যা প্রচুর আয়রন সমৃদ্ধ হওয়ায় এর জল রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। নোনা পানির সাথে অক্সিজেন যৌগের বিক্রিয়ার ফলে এই রং ধারণ করে। মজার ব্যাপার হলো, এত ঠাণ্ডাতেও কিন্তু সেই জায়গার পানি জমে যায় না।

আগুনের জলপ্রপাত

আগুনের জলপ্রপাত; source: LostWorlds.org

ধরুন, আপনি ঝর্ণা দেখতে পশ্চিম নিউইয়র্কের অর্চাড পার্ক শহরের চেস্টনাট রিজ পার্কে ঢুকলেন। ঝর্ণার কাছে এগিয়ে যেতেই নাকে গ্যাসের ঝাঁঝালো গন্ধ গিয়ে পৌঁছুলো। কাছে যেতেই আপনার চক্ষু চড়কগাছ! শুরুতে দৃষ্টিভ্রম মনে হলেও, পরে সত্যিই অবাক হয়ে দেখলেন, ঝর্ণার পানি যেখানে পড়ছে, ঠিক তার পেছনেই জ্বলছে আগুন। বিজ্ঞানীদের মতে, মাটির নিচে থাকা পাথর থেকে উৎপন্ন হয় এই গ্যাস। তা থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত।

তুরস্কের তুলার প্রাসাদ

তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমের রাজ্য দেনিজলিতে গেলে দেখা মিলবে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যমণ্ডিত শ্বেতশুভ্র জলপ্রপাত পামুক্কালে। তুর্কি শব্দ পামুক্কালের অর্থ তুলার প্রাসাদ। তুরস্কের মেন্দেরেস নদীর উপত্যকায় সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে তুষারের ন্যায় ধবধবে এই ঝর্ণা।

প্রাকৃতিক রহস্যে ঘেরা সেই তুলার প্রাসাদ; source: Lazer Horse

এটি ৮,৮৬০ ফুট লম্বা, ১,৯৭০ ফুট চওড়া ও ৫২৫ ফুট উঁচু। এই জলপ্রপাতে রয়েছে ঔষধি গুণসম্পন্ন কার্বনেট মিনারেল। অনেকে মনে করেন, এই জলে গা ভেজালে শরীরে রোগবালাই হয় না। যদিও বর্তমানে এখানে কেউ গোসল করতে পারে না। তুরস্ক সরকার জায়গাটির ক্ষতি হতে পারে দেখে তাতে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ রেখেছে। ধারণা করা হয়, এখানকার লেকগুলো ২০ লাখ বছরে পুরনো। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্পের ফলে মাটিতে অনেক ফাটলের সৃষ্টি হয়। এরপর মাটির নিচে থাকা ক্যালসিয়াম কার্বনেট মিশ্রিত পানি চলে এলো উপরে। গরম পানি হওয়া ও বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে সময় লাগলো না, থেকে গেলো শুধু এই ক্যালসিয়াম কার্বনেট। এই কার্বনেট ধীরে ধীরে কঠিন অবস্থায় রুপ নিয়ে লেকের কাঠামোর সাথে মিশে গেল। আর তারপর বৃষ্টির পানি এসে পাম্মুকালেকে পরিপূর্ণতা দিল।

আতাকামা মরুভূমির তিমি রহস্য

পৃথিবীতে আবিস্কার হওয়া বিভিন্ন প্রাচীন ফসিলের মধ্যে চিলির আতাকামায় আবিস্কৃত তিমির বিশাল এক কবরস্থান অন্যতম। বিজ্ঞানীরা কোনোভাবেই এতগুলো তিমির মৃত্যুর কারণ বের করতে পারছিলেন না। তারা বুঝতে পারছিলেন না যে, এতগুলো তিমির আত্মহত্যার কারণ কী হতে পারে।

খুঁজে পাওয়া তিমির জীবাশ্ম; source: BBC

এই ধরনের ঘটনা ভিন্ন ভিন্ন সময়কালে পরিলক্ষিত হয়, যার প্রথমটি প্রায় ২০,০০০ বছর আগে ঘটেছিল। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেন, বিষাক্ত শ্যাওলা খাওয়ার ফলে তাদের মৃত্যু ঘটে। মৃত এই প্রাণীগুলো একটা সময় পর সমুদ্রের তলদেশে সমাহিত হয়। এক সময় তিমিগুলো চিলির আতাকামা মরুভূমির এই এলাকায় জীবাশ্ম রূপ ধারণ করে। প্যান-আমেরিকান মহাসড়ক প্রশস্ত করার জন্য যখন কাজ শুরু করা হয়, তখন উঁচু পাহাড় থেকে তিমিদের এই হাড়গুলো দেখা যেত। এরপর এই জায়গাটির নাম দেওয়া হয় ‘তিমির পাহাড়’। এই কাজের সূত্র ধরে আমেরিকা এবং চিলির গবেষকেরা এই ফসিলের ব্যাপারে কাজ করার একটি বিশাল সুযোগ পান। বিজ্ঞানীদের মাত্র ২ সপ্তাহ সময় দেওয়া হয় সব ধরনের গবেষণা চালানোর জন্য। কারণ তার পরপরই প্যান-আমেরিকান হাইওয়ের কাজ শুরু হবার কথা ছিল। গবেষণা চালানোর সময় তিমির পাশাপাশি আরও বেশ কিছু প্রাণীর জীবাশ্মের অস্তিত্ব পান বিজ্ঞানীরা।

বোসাম হেড রহস্য

ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের শহর চিকেস্টারের নিকটবর্তী সমুদ্র উপকূলীয় একটি গ্রাম বোসাম। সেই বোসাম গ্রামেই ১৮০০ সালের দিকে পাওয়া যায় ১৭০ কেজি ওজনের একটি পাথরের তৈরি মূর্তি। মূর্তি তো পাওয়া গেলো, কিন্তু তারপর?

বৃহৎ আকারের বোসাম হেড; source: YouTube

তারপর অতিবাহিত হয়ে গেছে অনেক বছর। ২০১৩ সালে এসে বিজ্ঞানের বদৌলতে থ্রিডি লেজার স্ক্যানের মাধ্যমে বোর্নেমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইলস রাসেল এবং হ্যারি ম্যানলি গবেষণা এবং নানান পরীক্ষার পর জানান, বোসাম হেডের এই মূর্তিটি রোমান সাম্রাজ্যের এককালের শাসক ‘ট্রাজানের’। ১১৩ বছরের অপেক্ষার সমাধান হলো শেষ পর্যন্ত।

এন্টিকাইথেরা

এন্টিকাইথেরাকে ধরা হয় বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন এনালগ কম্পিউটার। খ্রিষ্টপূর্ব ৬০ অব্দে প্রাচীন গ্রিসের জ্যোতির্বিদেরা দিক নির্ণয়ের জন্য গ্রহ-নক্ষত্রের গণনাকার্যে একটি যন্ত্র ব্যবহার করতেন। এন্টিকাইথেরা মেকানিজম নামে পরিচিত যন্ত্রটি সর্বপ্রথম খুঁজে পাওয়া যায় ১৯০১ সালে। গ্রিসের এন্টিকাইথেরা দ্বীপের কাছে জাহাজডুবির ধ্বংসাবশেষ খুঁজতে গিয়ে ডুবুরি দল এটি খুঁজে পায়। উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের ধাতব মুদ্রা, ব্রোঞ্জ মার্বেলের মূর্তি, অলংকার, পাত্র সহ নানান জিনিস। উদ্ধার হবার পর প্রায় দু’বছর এটি পড়ে ছিল এথেন্সের প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে।

এন্টিকাইথেরা; source: pinterest

তখনও কেউ এর ব্যাপারে কোনো ধারণা করতে পারেনি। প্রত্নতাত্ত্বিক ভ্যালেরিওস স্টেইস ১৯০২ সালে উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলো পরীক্ষা করার সময় লক্ষ্য করেন এবং বোঝেন এটি উদ্ধার হওয়া অন্যান্য জিনিস থেকে আলাদা। এরপর থেকে এটি নিয়ে শুরু হয়  নানান গবেষণা। ২০০৫ সালে এসে জোরেসোরে শুরু হয় আবার গবেষণা। এ কাজে যুক্ত হয় বিশ্ববিখ্যাত হাই টেকনোলজি কোম্পানিগুলো। ব্যাপক গবেষণার পর জানা যায়, এন্টিকাইথেরার সাহায্যে গ্রিক সভ্যতায় মাপা হতো চন্দ্র, সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান, গণনা করা হতো চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ। যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ করে নির্ধারণ করে দিত কোন রাশিতে অবস্থান করছে চন্দ্র-সূর্য। পাশাপাশি জ্যোতিষবিদ্যার কাজেও ব্যবহৃত হতো এই যন্ত্রটি। এতে ছিল ব্রোঞ্জের তৈরি মোট ৩০টি গিয়ার। পুরো যন্ত্রটি রাখা ছিল যে বাক্সে সেটাও তৈরি ছিল কাঠ আর ব্রোঞ্জ দিয়ে।

নাজকা লাইন রহস্য

পেরুর রাজধানী লিমা থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণে নাজকা এবং পাল্পা শহরের মাঝে এই নাজকা লাইন অবস্থিত। মরুভূমিটির প্রায় ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আঁকা হয়েছে বিভিন্ন জীবজন্তু, গাছ, এলিয়েন ও বহু জ্যামিতিক নকশা, যার মধ্যে কোনো কোনোটি আবার ২০০ মিটার পর্যন্ত বড়। খ্রিস্টপূর্ব ২০০-৬৫০ খ্রিস্টাব্দের মাঝে এ নকশাগুলো আঁকা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই লাইনটি সর্বপ্রথম মানুষের চোখে পড়ে ১৯৩০ সালের দিকে, যখন এই এলাকা দিয়ে প্রথম বিমান চলাচল শুরু হয়। বিমানের সেই যাত্রীদের মাধ্যমে পুরো খবর ছড়িয়ে পড়লে রীতিমত হইচই শুরু হয় সারা বিশ্বজুড়ে। রহস্যের সমাধানে এগিয়ে আসেন বিজ্ঞানীরা।

নাজকা নকশা: মাকড়শা; source: Museum of Unnatural Mystery

আজকের বিজ্ঞান ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে, নাজকা সভ্যতার লোকেরা এসব ভূগোল ব্যবহার করত দেবতাদের সাথে যোগাযোগ করার উপায় ভেবে। বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতির অংশ হিসেবে নাজকার অধিবাসীরা এসব এঁকেছিল। এটিকে অনেকে এক ধরনের এস্ট্রোনমিক্যাল ক্যালেন্ডার হিসেবেও অভিহিত করেন। কম্পিউটারের দ্বারা পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, নাজকাতে আঁকা একটি বিশালাকার মাকড়সার ছবির সঙ্গে অরিয়ন নক্ষত্রপুঞ্জের যথেষ্ট মিল রয়েছে। অনেকে নাজকা লাইনের সাথে এলিয়েনদের সংশ্লিষ্ট করার চেষ্টা করেন, যদিও এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখা নেই। নাজকা লাইন নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও কাজ করছেন। ভবিষ্যতে হয়তো আরও চমকপ্রদক তথ্য অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।

গুপ্ত রহস্যের ইস্টার আইল্যান্ড

৬৪ বর্গ মাইল আয়তনের, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের লাভা নির্মিত, বৃক্ষশূন্য আগ্নেয় দ্বীপ ইস্টার আইল্যান্ড। ত্রিভুজাকৃতির দ্বীপটির অবস্থান দক্ষিণ আমেরিকার চিলি উপকূলের ২,৩০০ মাইল পশ্চিমে। প্রশান্ত মহাসাগরের নির্জন এই দ্বীপে রহস্যের মতো ছড়িয়ে আছে অসংখ্য দানব আকৃতির মূর্তি। ১৭২২ সালে অ্যাডমিরাল জ্যাকব রগেউইন একদিন রহস্যে ঘেরা একটি দ্বীপ আবিস্কার করেন, দিনটি ছিল ইস্টার সানডে। সাথে সাথে দ্বীপটির নামকরণ হয়ে গেলো ‘ইস্টার আইল্যান্ড’। ওলন্দাজ এই দলের ক্যাপ্টেন এডমিরাল সিদ্ধান্ত নিলেন এই দ্বীপে নোঙর ফেলবেন। দ্বীপের মানুষজন খুঁজে বের করলেন, কথা বললেন তাদের সাথে। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হলো, দ্বীপের অধিবাসীরা কেউই এই মূর্তিগুলোর ব্যাপারে কিছু জানাতে পারল না। তারা এটাও জানালো, তারা মূর্তিগুলোকে দেবতা মনে করে নিয়মিত পূজা দেয়। ধীরে ধীরে পুরো পৃথিবী জানলো ইস্টার আইল্যান্ডের কথা। শুরু হলো নানান গবেষণা। রহস্য উন্মোচনের জন্য নেমে পড়লেন অনেকে।

বিস্ময়কর ইস্টার আইল্যান্ডের মুর্তি; source: Huffington Post

শেষ পর্যন্ত নরওয়ের বিশ্ববিখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ থর হেয়ারডাল দীর্ঘদিনের গবেষণার পর জানালেন, ৩৮০ খ্রিস্টাব্দে পেরু থেকে কিছু মানুষ এসে এই দ্বীপে বসবাস শুরু করে। সে সময় তারা তৈরি করেছিল রাস্তাঘাট, মন্দির, সুড়ঙ্গ পথ। ১২৮০ খ্রিস্টাব্দে পেরু থেকে আরও লোকজন এসে দখল বসায় দ্বীপটিতে। ধারণা করা হয়, তারাই গড়ে এসব মূর্তি। এর প্রায় চারশত বছর পর, ১৬৮০ সালে পলিনেশীয়রা এশিয়ার দিক থেকে এসে দ্বীপটি অধিকার করে এবং সে সময় মূর্তি তৈরি প্রচলন লোপ পায়। ১২৫০ থেকে ১৫০০ সালের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে এই মূর্তিগুলি তৈরি করেছে রাপা নুই গোষ্ঠীর লোকেরা।

মূর্তি বানানোর জন্য এই পাথরগুলো বৃক্ষকাণ্ডের তৈরি এক ধরনের বিশেষ গাড়ি দিয়ে আনা হতো। অনুমান করা হয়, তখন সেই দ্বীপের জনসংখ্যা ছিল প্রায় দু’হাজার। এখানে লক্ষ্যণীয়, কতগুলো মূর্তির চোখ আবার সম্পূর্ণ তৈরি ছিল না। এজন্য সেগুলোকে বলা হয় অন্ধমূর্তি। ইস্টার আইল্যান্ডের জনগোষ্ঠীর পরিণতি অনেকটা নাজকার অধিবাসীদের মতোই। গত কয়েক দশকে নৃবিজ্ঞানী জেয়ার্ড ডায়মন্ড এবং অন্যান্যরা ইস্টার আইল্যান্ডকে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে মনে করেন। তারা বলেছেন, বনভূমি অতিরিক্ত উজাড় করার প্রভাব পড়েছিল ইস্টার আইল্যান্ডের জনগোষ্ঠীর ওপর। এছাড়াও ‘আহু’ নামে পরিচিত পাহাড়ের বিশাল প্ল্যাটফর্ম পাওয়া যায় এই দ্বীপে। আছে গুহা চিত্র সহ নানান কিছু। প্রায় আটশটি দানবাকৃতির মূর্তি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুরো দ্বীপ জুড়ে। থর হেয়ারডেল সর্বপ্রথম গবেষণার জন্য ১৯৫৫-১৯৫৬ সালে অভিযান শুরু করেন। ১৯৬২ সালে তিনি স্টকহোমে সুইডিশ এনথ্রোপোলজি এন্ড জিওলজি সোসাইটিতে সিরিজ লেকচার দেন। এই সিরিজ লেকচার তার নিজেরই লেখা ‘সি রুটস টু পলিনেশিয়া’তে প্রকাশিত হয়।

ফিচার ইমেজ- Lazer Horse