ভিখেরী থেকে রাজা বলে একটা কথা আছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে বেশি বিক্রিত গল্পের বই হ্যারি পটারের লেখিকা জে কে রোলিং (উচ্চারণ রাওলিং নয়) আক্ষরিক অর্থেই সেই ভিখেরী থেকে রাজা (কিংবা রাণী বলা চলে) জীবন পেরিয়ে এসেছেন। তার এই জাদুকরি সাফল্যের পেছনের গল্পটা নিয়েই আজকের এই লেখা।

নব্বই এর দশকের পর বেঁচে আছেন কিন্তু হ্যারি পটার পড়েননি বা দেখেননি, কিংবা নাম শোনেননি, এমন কারো দেখা পাওয়া যাবে না। আপনিও নিশ্চয়ই এ তিন শ্রেণীর কোনো একটাতে পড়েন। কিন্তু কীভাবে এই অমর সাহিত্য রোলিং এর মাথায় এলো?

রোলিং এর জন্ম ১৯৬৫ সালে, ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল থেকে মাত্র ১০ মাইল দূরে। বাবা পিটার রোলিং ছিলেন একজন রোলসরয়েস এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ার আর মা অ্যান রোলিং ছিলেন একজন সায়েন্স টেকনিশিয়ান। হ্যারি পটার ভক্তরা হয়ত জেনে কিছুটা পুলকিত হবেন যে, রোলিং এর বাবা-মার প্রথম দেখা হয় কিংসক্রস স্টেশনে ট্রেন ছেড়ে যাবার সময়। তার দাদা মারা যান প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে।

লন্ডনের কিংসক্রস স্টেশন

রোলিং এর বয়স যখন ২৩ মাস, তখন তার বোন ডায়ানের জন্ম। বয়স চার বছর হয়ে যাবার পর তাঁকে ভর্তি করা হয় সেন্ট মাইকেলস প্রাইমারি স্কুলে। সেখানে প্রিন্সিপাল ছিলেন আলফ্রেড ডান, যার উপর ভিত্তি করে বহু বছর পর রোলিং তার বইয়ের অ্যালবাস ডাম্বলডোর চরিত্রটি গড়ে তোলেন।

ছোট বেলায় রোলিং  অনেক কল্পকাহিনী লিখে ছোট বোনকে পড়ে শোনাতেন। হাই স্কুলে পড়বার সময় তিনি চলে যান যেখানে তার মা চাকরি করতেন সেই স্কুলে। রোলিং এর মতে, তার টিন এজ কেটেছে অসুখী। কারণ তার মা অনেক সময়ই অসুস্থ থাকতেন, আর বাবা-মার সম্পর্ক ভালো ছিল না। আজও রোলিং তার বাবার সাথে কথা বলেন না। নিজের এগারো বছরের সত্ত্বার ওপর ভিত্তি করে তিনি অংকন করেন তার হারমায়োনি গ্রেঞ্জার চরিত্রটি।

হারমায়োনি গ্রেঞ্জার

তাঁকে ইংরেজি পড়াতেন যে শিক্ষক, তিনি স্মরণ করেন, রোলিং ইংরেজিতে খুব ভালো ছিলেন। তার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো শন হ্যারিস নামের এক ছেলে, তার আবার ছিল ফোর্ড অ্যাংলিয়া মডেলের গাড়ি, সে গাড়ির স্মৃতি থেকে তিনি হ্যারি পটারের দ্বিতীয় বইতে উড়ন্ত ফোর্ড অ্যাংলিয়া এনেছিলেন। এ লেভেল পরীক্ষাতে তিনি ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ আর জার্মান নিয়েছিলেন, পেয়েছিলেন দুটো “এ” আর একটা “বি”। তিনি হেড গার্লও ছিলেন।

১৯৮২ সালে অক্সফোর্ডে পরীক্ষা দিলেও চান্স পাননি তিনি। পরে এক্সেটার ইউনিভার্সিটি থেকে ফ্রেঞ্চ আর ক্লাসিকসে পড়ালেখা করেন। রোলিং  বলেন, তার মনে আছে তখন তিনি প্রচুর চার্লস ডিকেন্স পড়তেন এবং লর্ড অফ দ্য রিংস পড়তেন।

প্যারিসে এক বছর পড়বার পর ১৯৮৬ সালে গ্র্যাজুয়েট হন তিনি। এরপর লন্ডনে চলে আসেন, যোগ দেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালে একজন গবেষক আর দোভাষী সেক্রেটারি হিসেবে। পরে অবশ্য সিদ্ধান্ত নেন ম্যানচেস্টারে চেম্বার অফ কমার্সে চলে যাবার। সেটা ছিল ১৯৯০ সাল। এবং তখনই তার জীবন পাল্টে যাবার মতো আইডিয়া পেয়ে যান তিনি।

১৯৯০ সালে তিনি ম্যানচেস্টার থেকে লন্ডনে যাবেন ট্রেনে করে, কিন্তু তার ট্রিপ চার ঘণ্টা দেরি হলো। তখনই তার মাথায় এলো এক বালকের গল্প যে কিনা জাদু শেখার স্কুলে পড়বে। ট্রেনে বসেই তিনি লেখা শুরু করে দিলেন।

কিন্তু ডিসেম্বর মাসে রোলিং এর মা মারা গেলেন দশ মাস রোগে ভোগার পর। তখন রোলিং হ্যারি পটার লিখছিলেন, কিন্তু তার মাকে বলে যেতে পারেননি। মাকে হারিয়ে অনেক ভেঙে পড়েন রোলিং। এর প্রভাব পরে তার লেখাতে। তিনি হ্যারিকে মা-বাবাহীন এক অনাথ হিসেবে ফুটিয়ে তুলেন। নিজের জন্মদিনকে হ্যারির জন্মদিন হিসেবে লিখেন। পাঠকদের মনে থাকবে, এরিসেডের আয়নার কথা, সেটা এর প্রভাবেই লেখা, হ্যারির চাওয়া-পাওয়া তার মৃত বাবা-মাকে কাছে পাওয়া। [খেয়াল করে দেখবেন, Erised কে উল্টলে Desire হয়, কারণ রোলিং এর সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা বা ডিজায়ার ছিল সেটাই; আয়নার গায়ে দুর্বোধ্য যা লিখা ছিল, পুরোটা উল্টোলেও দেখবেন অর্থপূর্ণ বাক্য হয়]

এরিসেডের আয়না

এরপর তিনি পর্তুগালে চলে যান, সেখানে রাতে ইংরেজি ক্লাস নিতেন, আর দিনে লিখতেন। সেখানে ১৮ মাস থাকার পর দেখা হয় টিভি সাংবাদিক Jorge Arantes এর সাথে। তারা দুজনেই আবার লেখিকা জেন অস্টেনের ভক্ত। ১৯৯২ সালে তাদের বিয়ে হয়, আর ৯৩ সালে তাদের মেয়ে জেসিকা পৃথিবীতে আসে। তার আগে অবশ্য রোলিং এর একবার মিসক্যারেজ হয়েছিল। কেউ কেউ বলে থাকেন রোলিং কিছু মাত্রায় নির্যাতনের স্বীকার হন এবং ১৯৯৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারা আলাদা হয়ে যান। রোলিং  চলে আসেন তার বোনের কাছে স্কটল্যান্ডে। তার সুটকেসে তখন ছিল হ্যারি পটারের তিনটা চ্যাপটার।

গ্র্যাজুয়েশনের সাত বছর পরেও রোলিং নিজেকে ব্যর্থ ভাবতে লাগলেন, ব্যর্থ একটা বিয়ে, বেকার এবং এক সন্তানের মা, যাকে খাওয়াবার মতো টাকা যোগাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। ডাক্তার তাঁকে ক্লিনিকালি ডিপ্রেশনের রোগী হিসেবে চিহ্নিত করলেন, বললেন সুইসাইডাল। তার এ অবস্থার কথা মনে করে তিনি ডিমেন্টর চরিত্রগুলো নিয়ে আসেন তার তৃতীয় বইতে, যারা মানুষকে আত্মাশুন্য করে রেখে যায়। তিনি “ওয়েলফেয়ার বেনেফিট”-এর জন্য অ্যাপ্লাই করেন, কারণ তিনি “দরিদ্র” ছিলেন। তার প্রাক্তন স্বামী এসে তার কন্যাকে নিয়ে যেতেও চাইছিল তখন।

এ ভাতা পাওয়া অবস্থাতেই তার প্রথম উপন্যাস লেখা শেষ হয়। ক্যাফেতে মেয়ে জেসিকাকে ঘুম পাড়িয়ে তিনি লিখতেন। সেটা ছিল ১৯৯৫ সাল। এক পুরনো টাইপরাইটারে তিনি তার প্রথম বই “Harry Potter and the Philosopher’s Stone” লেখা শেষ করলেন। বারোটি প্রকাশনীতে সাবমিট করলেন, সবগুলোই প্রত্যাখ্যান করল ছাপাতে।

এক বছর পর ব্লুমসবারি প্রকাশনী তাঁকে দেড় হাজার পাউন্ড অগ্রীম দিয়ে প্রকাশ করতে রাজি হয়। কারণ প্রকাশনীর চেয়ারম্যানের ৮ বছরের মেয়ে প্রথম চ্যাপটারটা পড়ে খুব পছন্দ করেছিল এবং পরের চ্যাপটার পড়তে চাচ্ছিল। তবে ব্লুমসবারি বলে দিয়েছিল, এই শিশু সাহিত্য লিখে বেশি কামাই হবে না, রেগুলার চাকরি খুঁজতে হবে। ১৯৯৭ সালে স্কটিশ আর্ট কাউন্সিল তাঁকে ৮ হাজার পাউন্ড ভাতা দেয় লেখা চালিয়ে যাবার জন্য।

জুন মাসে প্রথম বইয়ের এক হাজার কপি ছাপানো হয়, আর ৫০০ কপি লাইব্রেরিতে বিলানো হয়। আজকে সেই কপিগুলো কিনতে হলে আপনাকে গুণতে হবে পঁচিশ হাজার পাউন্ড। পাঁচ মাস পর সেই উপন্যাস সেরা শিশুসাহিত্যের পুরস্কার জিতে গেল! আর ফেব্রুয়ারিতে আবারো। ১৯৯৮ সালে আমেরিকায় সে বই প্রকাশ হবার অধিকার স্কলাস্টিক কিনে নিল এক লক্ষ ডলারে! তবে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় Harry Potter and the Sorcerer’s Stone; আজকে রোলিং  দুঃখ করে বলেন, তখন যদি তার ক্ষমতা থাকত তাহলে এই নাম তিনি পরিবর্তন করতে দিতেন না।

১৯৯৮ সালে দ্বিতীয় বই Harry Potter and the Chamber of Secrets প্রকাশিত হয় এবং আবারো পুরস্কার জিতে নেয়। ১৯৯৯ সালে Harry Potter and the Prisoner of Azkaban বইটা বের হবার পর, পরপর তিন বছর একই পুরস্কার জেতার রেকর্ড করে ফেলেন তিনি। এমনকি তিনি ২০০০ সালে নিজে থেকেই তার পরের বই Harry Potter and the Goblet of Fire সেই প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে নেন, যেন অন্য কেউ জিততে পারে। সে বছর চতুর্থ বই একই সাথে ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় এক নম্বরে চলে যায়। প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় বিক্রি হয় ৩০ লক্ষ কপি! কিন্তু সে বইটা লিখতে তার কষ্ট হয়েছিল, তিনি নাকি একটা ভুল করে ফেলেছিলেন আর সে ভুলটা ঠিক করতে তার অনেক চ্যাপ্টার আবার লিখতে হয়।

তিন বছর পর তিনি ঢাউস সাইজের ৫ম বই Harry Potter and the Order of the Phoenix নিয়ে হাজির হন, এবং সেটা সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৯০ লক্ষ কপি বিক্রি হয়।

২০০৬ সালে ষষ্ঠ বই Harry Potter and the Half-Blood Prince প্রকাশিত হয়। তার সবগুলো বইয়ের জন্যই তিনি পুরস্কার পেয়েছিলেন, সেটা বলা বাহুল্য।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি এক হোটেল রুমে বসে শেষ অধ্যায়টা লেখা শেষ করেন। ২১ জুলাই সে বই বাজারে আসে, রাত ১২টার সময়। এবং এ যাবৎ দ্রুততম সময়ে বিক্রি হয়ে যাওয়া সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বই হবার রেকর্ড করে, প্রথম দিনেই বিক্রি হয় ১১০ লক্ষ কপি। মজার ব্যাপার, এ বইয়ের শেষ অধ্যায়টা তিনি সেই ১৯৯০ সালের দিকেই লিখে রেখেছিলেন। এতদিন ধরে তিনি মাঝের গ্যাপগুলো পূরণ করেন। এবং শুরু থেকেই তিনি জানতেন শেষের চমকগুলো কী হবে।

হ্যারি পটার সিরিজের বই সাতটি

হ্যারি পটার ব্র্যান্ডের ভ্যালু এখন আমেরিকাতে ১৫ বিলিয়ন ডলার। সবগুলো বই মিলিয়ে ৪,১৯৫ পৃষ্ঠার এ সিরিজ ৬৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এ সাত বই থেকে নির্মিত হয় ৮টি হলিউড সিনেমা। নাম চরিত্রে অভিনয় করেছেন ড্যানিয়েল র‍্যাডক্লিফ যাকে রোলিং  নিজেই বেছে নিয়েছিলেন।

ড্যানিয়েল র‍্যাডক্লিফ

তিনি ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস চিত্রনাট্যও লিখেছেন (২০১৬) এবং হ্যারি পটার সিরিজের অষ্টম বই/নাটক হিসেবে কার্সড চাইল্ড নিয়ে আসেন ১০ বছর পর। এছাড়াও তিনি ক্যাজুয়াল ভ্যাকেন্সি এবং ছদ্মনামে কর্মরান স্ট্রাইক সিরিজ লিখলেও সেগুলো হ্যারি পটার পর্যায়ে যেতে পারেনি।

হ্যারি পটার লোগো

২০০১ সালে তিনি আবার বিয়ে করেন একজন ডাক্তারকে। তার দরিদ্র জীবনের কথা মনে রেখে তিনি বছরে ৫.১ মিলিয়ন পাউন্ড দান করে দেন দরিদ্রদের জন্য এবং ওয়ান প্যারেন্ট চ্যারিটি ফাউন্ডেশন জিঞ্জারব্রেডের প্রেসিডেন্ট তিনি। তার মা যে রোগে মারা যান, সে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস রোগের ওষুধ তৈরির জন্যও তিনি টাকা দেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টান।

হ্যারি পটারের তুমুল জনপ্রিয়তায় অনেক নকল হ্যারি পটার পান্ডুলিপি ঠেকাতে তিনি অনেকবার মামলায় গিয়েছেন। তার জিতে নেয়া পুরস্কারের তালিকায় গেলে এ লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে বিধায় সেদিকে আর না বাড়াই।

তার লেখিকা নাম J. K. Rowling (অনেকে ভুল উচ্চারণ করেন রাওলিং, আসলে রোলিং হবে, ব্রিটিশ উচ্চারণে Bowling যেভাবে উচ্চারণ করতে হয়) যার পূর্ণ রূপ Joanne Kathleen Rowling; আসলে তার নাম কেবল Joanne Rowling; কিন্তু প্রকাশকেরা বলেছিল যে, কোনো মহিলার লেখা শিশুসাহিত্য কেউ পড়বে না এজন্য প্রথম নাম যেন ইনিশিয়াল দিয়ে চালান তিনি। তার কোন মিডল নেম না থাকায় দাদির ক্যাথলিন নামটা তিনি নিয়ে নেন। এমনিতে তার ডাক নাম “জো”। তার পার্সনালিটি টাইপ হলো “INFJ” যদি কেউ মিলিয়ে নিতে চান।

ছোট থাকতে তার বন্ধু ছিল দু ভাই, যাদের নাম ছিল পটার, সেখান থেকেই তিনি হ্যারি পটার নাম বেছে নিয়েছিলেন। প্রথম বইতে হ্যারি ছোট থাকলেও ধীরে ধীরে এ সিরিজটি কেবল শিশুসাহিত্যের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসে।

নাটালি ম্যাকডোনাল্ড নামের এক ন’ বছর বয়সী ভক্ত লিউকোমিয়ার রোগী ছিল; তিনটা বই প্রকাশ হবার পর মেয়েটি চিঠি লিখে চতুর্থ বইতে কী হয় জানবার জন্য। রোলিং চিঠিটা হাতে পান দেরিতে, তখনই সংক্ষেপে কাহিনী জানিয়ে দেন মেয়েটিকে। কিন্তু চিঠি পৌঁছাবার আগেই মেয়েটি মারা যায়। তাকে স্মরণ করে নাটালি ম্যাকডোনাল্ড নামের একটি চরিত্রকে বইতে গ্রিফিন্ডর হাউজে দেন তিনি।

২০০৪ সালে তিনি বিলিয়নিয়ার হবার মর্যাদা পান। তাই আক্ষরিক অর্থে তিনি একদম দরিদ্র থেকে রাণী বলতে যা বোঝায় এমন জীবন অতিক্রম করেছেন। আর জয় করে নিয়েছেন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়।

জে কে রোলিং; হাতে সপ্তম হ্যারি পটার বই

তথ্যসূত্র

১) J. K. Rowling- Wikipedia

২) “Record for best-selling book series”. Guinness World Records. Archived from the original on 23 October 2012.

৩) Rowling, J.K. (16 February 2007). “The Not Especially Fascinating Life So Far of J.K. Rowling”. Accio Quote (accio-quote.org). Retrieved 28 April 2008.

৪) “Biography: J.K. Rowling”. Scholastic.com.

৫) “Biography”. JKRowling.com. Retrieved 17 March 2006.