আলোচিত-সমালোচিত বাংলাদেশ ক্রিকেটের ২০১৮

বছর শেষ। হাজারো পরিবর্তন, নতুনত্ব, কিংবা নতুন মোড়কে পুরনো গল্পের বইগুলো আবারও দোকানে উঠবে। পুরনো মাঠে নতুন করে শুরু হবে খেলার লড়াই, পুরনো গ্যালারিতে পুরনো দর্শকরা নতুন দিনের উল্লাসে ফাটাবে গলা। প্রায় সব ক্ষেত্রের মতো ক্রিকেটেও বাংলাদেশে ছিল মনে রাখার মতো বেশ কিছু পরিবর্তন। এ বছরেও ওয়ানডেতে মনে রাখার মতো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে টাইগাররা, ছিল টেস্টের অর্জনও। টি-টোয়েন্টিতেও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিমরা। ছিল ব্যর্থতাও। পুরনো ব্যর্থতার ক্ষতের পাশাপাশি নতুন আঘাতও ছিল। বছর শেষে এসেছে কিছু ‘বোনাস’। চলুন জেনে নেওয়া যাক বছরজুড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সালতামামি।

ব্যর্থতার তিন ফাইনাল

সিরিজ ও টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এ বছর মোট তিনবার ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।  বছরের শুরুতেই ছিল ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ। যেখানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে গিয়ে হার মানে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল ম্যাচ শেষে; Image Source: AP

এরপর শ্রীলঙ্কার মাঠে ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে ইনিংসের শেষ বলে বাংলাদেশকে হারায় ভারত।

একই বছরে এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এবারও ফাইনাল থেকে বিদায়; বাংলাদেশ হারে ৩ উইকেটে, ধূলিস্মাৎ হয় আরও একটি স্বপ্নের।

জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যান

২০১৮ সালে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে মোট ৪৪ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত এক বছরে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচ খেলার ঘটনা। এ বছর জয়ের পরিসংখ্যানেও অন্যান্যবারের চেয়ে বেশ এগিয়ে বাংলাদেশ। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ১৯ ম্যাচে জিতেছিলো, এ বছর জিতেছে ২১টি।  ড্র হয়েছে একটি।

সর্বোচ্চ সংখ্যক জয় এসেছে ওয়ানডে ক্রিকেটে, ২০ ম্যাচের ১৩টিতেই জয়। আট টেস্ট ম্যাচে জয় এসেছে তিনটিতে, ড্র একটি। ১৬ টি-টোয়েন্টির মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে চারটিতে।

ইনজুরির মিছিল

এ বছরে ক্রমাগত ইনজুরির মধ্যে ছিল বাংলাদেশ। বছরের শুরুতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঙ্গুলে বড় ধরণের চোট পান। ওই ম্যাচে আর তার নামা হয়নি।

ইনজুরি কাটিয়ে ফিরতে ফিরেছিলেন মাসখানেক পর। কিন্তু সেই আঘাতপ্রাপ্ত হাত আবারও ভোগায় তাকে। কয়েক দফা সাকিবের ইনজুরি ও অস্ত্রোপচার নিয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও সাকিবের দুই রকম মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরী হয়। এই মুহূর্তে সাকিব অপেক্ষায় আছেন অস্ত্রোপচারের।

তামিম ইকবাল ইনজুরিতে পড়েন এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার ম্যাচে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক হাত দিয়ে ব্যাট করতে নেমেছিলেন, গড়েছিলেন নজির। সেই ইনজুরি কাটিয়ে ডিসেম্বরে উইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফেরেন বাংলাদেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল।

সাকিবের ইনজুরি; Image  Source: Dhaka Tribune

বড় ইনজুরি ছিল নাসির হোসেনের। জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ক্রিকেটার বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে চোট পান। তার আগে থেকেই পা নিয়ে ভোগান্তিতে ছিলেন তিনি। অস্ত্রোপচার শেষে নাসির এখন নিজের পুনর্বাসন চালিয়ে যাচ্ছেন, অপেক্ষা করছেন আবারও মাঠে ফেরার। 

এছাড়া বছরজুড়ে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মাশরাফি বিন মুর্তজারা ছোটখাটো ইনজুরির মধ্যে গিয়ে বছর পার করেছেন।

ব্যাটিংয়ে কীর্তিমান মুশফিক

বছরের শেষ দিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রানের ইনিংস খেলে উইকেটরক্ষক হিসেবে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে দু’টি ডাবল সেঞ্চুরি দখল করে রেকর্ড গড়েন মুশফিক। এর আগে ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে ২০০ রানের ইনিংস খেলে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মুশফিক। বলে রাখা ভালো, তিনিই বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান।

শুধু তাই নয়, এই বছর বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও মুশফিক। বছরজুড়ে ৪৩ ম্যাচে ৫০ ইনিংস খেলতে গিয়ে ঝুলিতে পুরেছেন দু’টি সেঞ্চুরি আর নয়টি হাফ সেঞ্চুরি। মোট সংগ্রহ ১,৬৫৭ রান, যা তামিম ইকবালের এক বছরের রানের রেকর্ড ভেঙেছে (গত বছর সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ছিলেন তামিম)।

সাহসী তামিম, নায়ক তামিম

সেই ম্যাচে তামিম; Image Source: AFP

এশিয়া কাপে ফাইনালে ওঠার লড়াই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে না জিততে পারলে সেই ভরসা শেষ হয়ে যাবে। বাংলাদেশ আগে ব্যাট করতে নামলে ইনিংসের শুরুতেই আঙ্গুলে চোট পান ওপেনার তামিম ইকবাল। চোটের অবস্থা এতোটাই গুরুতর ছিল যে, হাতের গ্লাভস কেটে তারপর আঙ্গুল বের করা হলো। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেন্যুতে শেষ দিকে লঙ্কান বোলারদের তোপে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলো বাংলাদেশ। একা মুশফিকুর রহিম টেনে নিচ্ছিলেন দলকে। কিন্তু ওভার থাকলেও তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো লোক আর ছিল না। এমন সময় অধিনায়ক মাশরাফির পরামর্শে ওই ভাঙ্গা আঙুল নিয়েই সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাঠে নামলেন তামিম, একটি বল খেললেনও। বাকি ওভারগুলোতে আর স্ট্রাইক প্রান্তে যেতে হয়নি তাকে। কিন্তু দলের রানের খাতায় যোগ হয়েছিল আরও বেশ কিছু রান, যা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শক্ত লক্ষ্য দিতে সাহায্য করেছিলো টাইগারদের। তামিমের নায়কোচিত সেই একটি বলের মোকাবেলা শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ও এনে দিয়েছিল। কিন্তু দূর্ভাগ্য, বাংলাদেশ হেরেছিল ফাইনালে, ভারতের বিপক্ষে।

মুমিনুলের উদযাপন

সাবেক কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহের হাত ধরে বাংলাদেশ ‘দল’ হিসেবে সফলতা পেলেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল। সবচেয়ে বড় অভিযোগ মুমিনুল হককে নিয়ে। ক্রিকেট সমর্থকদের অনেকেই মনে করেন, হাতুরুসিংহে অনেকটা ‘নিজ উদ্যোগে’  মুমিনুলকে অবহেলা করেছেন। ভালো পারফরম্যান্স করার পরও দলের বাইরে রেখেছেন। এর প্রমাণ আমরা পেয়েছি ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও। পরিসংখ্যানে ভালো অবস্থানে থাকলেও তাকে দলেই নেওয়া হয়নি। অবশ্য চাপে পড়ে মুমিনুলকে দলে টেনেছিলো টিম ম্যানেজমেন্ট।

মুমিনুল হক। Image Source: AP

সেই মুমিনুলই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেঞ্চুরির পর একরকম পৈশাচিক উদযাপনে মেতে ওঠেন। যেন ব্যাট হাতে নিজের যোগ্যতা দিয়ে জবাবটা দিয়েছিলেন। সেই জবাবটা হয়তো হাতুরুসিংহের জন্যই, যে ম্যাচে তিনি শ্রীলঙ্কার কোচ হয়ে বসে ছিলেন ড্রেসিংরুমে।

সেবার ১৭৬ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেছিলেন মুমিনুল। শুধু তাই নয়, পরের ইনিংসেও ১০৫ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করে নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন।

নারী দলের এশিয়া কাপ জয়

দুইবার ফাইনালে জায়গা করেও যে মাশরাফি বিন মুর্তজা—সাকিব আল হাসানরা এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি, সেই এশিয়া কাপে মেয়েদের টুর্নামেন্টে মূলপর্বে প্রথমবারের মতো জায়গা পেয়েই শিরোপা জিতে নেন জাহানারা হক-রুমানা আহমেদরা।

এশিয়ার রাণী হওয়ার ম্যাচে উদযাপনে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল; Image Source: Daily Star

নারী দলের ওই সাফল্য পুরো দেশের নারী ক্রিকেটের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, যার রেশ রয়ে গেছে এখনও। বছরের শেষ দিনের খবর, রুমানা আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন আইসিসির টি-টোয়েন্টি দলের সদস্য হিসেবে। বাংলাদেশ থেকে তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি এই তালিকায় এ বছর নাম লেখাতে পেরেছেন।

আশরাফুলের মুক্তি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে ২০১২ সালে নিষিদ্ধ হওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলের পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা কেটেছে এ বছরেই। এর বছর দুয়েক আগে তিনি আংশিক মুক্তি পেয়েছিলেন, যার মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেলেও আন্তর্জাতিক কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক দলগুলোতে খেলার অনুমতি পাননি। ২০১৮ সালের নিষেধাজ্ঞা কেটে যাওয়ার পর তিনি আবারও ফিরতে পারবেন ক্রিকেটের সবক্ষেত্রেই। এরই মধ্যে ২০১৮ বিপিএল আসরে তিনি চিটাগং ভাইকিংস দলে জায়গা পেয়েছেন।

নাঈম হাসানের বিশ্বরেকর্ড

উইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অভিষেক হয় ১৭ বছর বয়সী অফস্পিনার নাঈম হাসানের। অভিষেক ম্যাচেই ৫ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক টেস্টে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েন এই তরুণ ক্রিকেটার।

সাব্বিরের নিষেধাজ্ঞা

শুরুটা হয়েছিলো রাজশাহীতে জাতীয় লিগের মাঠে এক কিশোর সমর্থককে পেটানোর মধ্য দিয়ে। একই ঘটনায় তিনি আম্পায়ারদের হুমকি দেন বিসিবির কাছে নালিশ না দিতে। ওই অভিযোগের পর বিসিবি তাকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের গালাগালি করা, ব্যক্তিগত জীবনে শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া, সতীর্থ মেহেদি হাসান মিরাজের সঙ্গে বৎসা – সব মিলিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও একই সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

এছাড়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বিরুদ্ধে স্ত্রী’র করা যৌতুক মামলা, নাসিরের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবহির্ভূত আচরণের কারণে তাদেরকে সতর্ক করে বিসিবি।  

কোচ নিয়ে দর কষাকষি

বাংলাদেশ ক্রিকেট  দলের নতুন কোচ স্টিভ রোডস; Image Source: Cricinfo

চান্দিকা হাতুরুসিংহে নাটকীয়ভাবে দায়িত্ব ছাড়ার পর দীর্ঘদিন কোচহীন অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ। দারুণ সম্ভাবনাময় এই দলটির কোচ হতে চেয়ে রিচার্ড পাইবাস ও ফিল সিমন্স বাংলাদেশে এসেছিলেন সাক্ষাৎকার দিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের কারোর সঙ্গেই ব্যাট-বলে হয়নি বিসিবির। সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনকে টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের মোড়কে কোচের দায়িত্ব দেওয়া হলেও সুবিধা করতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত বিসিবি কোচ খুঁজতে নিয়োগ করে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী কোচ গ্যারি কারস্টেনকে। শুরুতে তাকেই চেয়েছিল বিসিবি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই অধিনায়ক রাজি হননি, অবশ্য উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। সেই কারস্টেনই খুঁজে দিলেন ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডসকে। কোচ হিসেবে তার প্রথম আন্তর্জাতিক দল বাংলাদেশই।

নির্বাচন, মাশরাফি ও রেকর্ড জয়

নির্বাচনের মাঠে মাশরাফি বিন মুর্তজা; Image Source: Dhaka Tribune

খেলোয়াড়ি জীবনে থাকা অবস্থাতেই জাতীয় নির্বাচনে সাংসদ পদে নির্বাচনে অংশ নেন বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। যদিও বারবার বলেছেন, আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ক্রিকেটই তার ধ্যানজ্ঞান, তারপরও রাজনীতিতে মাশরাফি কতটা কী করতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত নড়াইলে রেকর্ড ভোটে তার জয় পাওয়াটা প্রাথমিক প্রমাণ দিয়েছে যে, মাশরাফিকে চায় তার নির্বাচনী এলাকার সবাই। আর মাশরাফিও এই সুযোগটা চেয়েছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি মানুষকে সেবা করতে পারবেন।

This is an article on Year review of 2018 Bangladesh cricket. A smmary of 2018 Bangladesh cricket. Necessary link has been hyperlinked.

Feature Photo: Cricbuzz

Related Articles