কেমন ছিল বিশ্বকাপের শুরুর দিনগুলো?

বর্তমান পৃথিবীতে খেলাধুলার সবচেয়ে জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট অবশ্যই ফুটবল বিশ্বকাপ। প্রতি চার বছর পর এই বিশ্বকাপের কারণেই সমগ্র পৃথিবী এক অন্যরকম উন্মাদনার জোয়ারে ভেসে যায়। বিশ্বকাপ নিয়ে মানুষের আবেগ বলে শেষ করা যাবে না। প্রতিটি দেশের কাছেই বিশ্বকাপের মর্যাদা অন্যরকম। এই বিশ্বকাপে খেলতে দলগুলোকে দুর্গম পাহাড়ের সমতুল্য বাছাইপর্বের বাঁধা পার করতে হয়। এত জাঁকজমক, আবেগ, ভালোবাসা আছে বলেই ফুটবল বিশ্বকাপকে বলা হয় দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ

তবে শুরুর দিকে কিন্তু বিশ্বকাপ নিয়ে এরকম মাতামাতি ছিল না। আজ যে বিশ্বকাপ খেলতে এত বাছাইপর্বের বাঁধা পার হতে হয় সেই বিশ্বকাপে খেলার আমন্ত্রণই একসময় অনেক দেশ অবলীলায় ফিরিয়ে দিয়েছে! তুচ্ছ ঝামেলাকে কেন্দ্র করে বড় বড় দলগুলো বিশ্বকাপ বয়কট করেছে! তবে ফিফার কর্মকর্তারা থেমে থাকেননি, তাদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই সেই কঠিন সময় কাটিয়ে বিশ্বকাপ হতে পেরেছে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। আজ আমরা বিশ্বকাপের শুরুর দিনগুলো নিয়েই জানবো, কিভাবে বিশ্বকাপ আজকের এই শক্ত অবস্থানে পৌঁছালো জানবো সেই কথাও।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্পোর্টস টুর্নামেন্ট হচ্ছে এই ফুটবল বিশ্বকাপ; Image Source : Behance

বিশ্বকাপ শুরুর পূর্বকথা

ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ফিফার গোড়াপত্তনের আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। গ্লাসগোতে ১৮৭২ সালে অনুষ্ঠেয় ইংল্যান্ড বনাম স্কটল্যান্ডের সেই ম্যাচের ফলাফল ছিল গোলশূন্য ড্র। এরপর আস্তে আস্তে বিশ্বব্যাপী ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণেই ১৯০০ ও ১৯০৪ সালের অলিম্পিকে ফুটবল অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে সেটা ছিল প্রদর্শনী খেলা হিসেবে। অর্থাৎ ফুটবলের জন্য কোনো পদক তখন অলিম্পিকে বরাদ্দ ছিল না। পদক বরাদ্দ না থাকলেও অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্তির পর ফুটবলের জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পায়। তখন থেকেই সারাবিশ্বে ফুটবল খেলা তত্ত্বাবধানের জন্য একটা বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের অভাব অনুভূত হতে শুরু করলো। সেই লক্ষ্যেই প্যারিসে ১৯০৪ সালের ২১শে মে ফিফা গঠন করা হয়। ফিফার প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন সুইজারল্যান্ডের রবার্ট গুয়েরিন।

ফিফার প্রতিষ্ঠাকালীন কার্যালয়; Image Source : FIFA

ফিফা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিফার কর্মকর্তারা অলিম্পিকের বাইরে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। ওদিকে ১৯০৮ সালের অলিম্পিক থেকে ফুটবলের জন্য পদক বরাদ্দ করে দেয় আইওসি। এর ফলে বিশ্বব্যাপী ফুটবলের জনপ্রিয়তা হুহু করে বাড়তে থাকে। এ কারণে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ফিফার অভিপ্রায় দিন দিন বাড়তেই থাকে। বিশেষ করে ১৯২১ সালে ফরাসি ফুটবল সংগঠক জুলে রিমে ফিফার সভাপতি হওয়ার পর সেই চেষ্টার পালে নতুন করে হাওয়া দেয়।

ফিফার এই চেষ্টা নতুন মাত্রায় মোড় নেয় অলিম্পিক কমিটির নেওয়া একটা সিদ্ধান্তের কারণে। ১৯৩২ সালের অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে, কিন্তু তখন যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা একদম নিচের দিকে ছিল। এ কারণে আইওসি ১৯৩২ সালের অলিম্পিকে ফুটবলকে সংযুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু ফিফা এই সিদ্ধান্ত কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলো না। শেষপর্যন্ত জুলে রিমের আন্তরিক চেষ্টায় ১৯২৮ সালের ২৮শে মে ফিফার কংগ্রেসে ঘোষণা দেওয়া হয়, ১৯৩০ সালে ফিফা নিজেই একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে।

জুলে রিমের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই ফুটবলের একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পেরেছিলো ফিফা; Image Source : Mirror

এই ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই টুর্নামেন্টের স্বাগতিক দল খোঁজার জন্য তোড়জোড় শুরু করে দেয় ফিফা। স্বাগতিক হওয়ার জন্যে হাঙ্গেরি, সুইডেন, স্পেন, ইতালি ও নেদারল্যান্ডস আগ্রহী থাকলেও শুরু থেকেই সেই দৌড়ে এগিয়ে ছিল উরুগুয়ে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ে তাদের স্বাধীনতার একশ বছর পূর্তি ধুমধাম করে উদযাপন করতে চাচ্ছিলো। তাছাড়া উরুগুয়ের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রতিযোগী দেশগুলোর যাতায়াত ভাড়া থেকে শুরু করে সবধরনের খরচ বহন করতে রাজি ছিল। অন্য কোনো দেশ এই খরচ বহন করতে রাজি ছিল না, তাই পর্যায়ক্রমে অন্য দেশগুলো আয়োজক হওয়ার দৌড় থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। এ কারণে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উরুগুয়েই প্রথম বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়। প্রথম আসরে কোনো বাছাইপর্ব ছিল না, ফিফার পূর্ণসদস্য যেকোনো দেশ চাইলেই বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারতো।

শুরুর আগেই বিপত্তি

কিন্তু সবকিছু জুলে রিমের পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি। সেসময়ে ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দা ছিল। তাছাড়া বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র যাতায়াতের ভাড়াটাই যথেষ্ট ছিল না, জাহাজে চড়ে ইউরোপ থেকে উরুগুয়েতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া মানে কমপক্ষে দু’মাস ঐ দলের খেলোয়াড়েরা তাদের ক্লাবের হয়ে খেলতে পারবে না। কিন্তু এত দীর্ঘ সময়ের জন্য তারকা খেলোয়াড়দের ছাড়তে ক্লাবগুলো রাজি হচ্ছিলো না। এ কারণে ইউরোপের প্রায় সবগুলো দল নিজেদের দেওয়া কথার খেলাপ করে বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছিলো। এক্ষেত্রে আবারো ত্রাণকর্তা হয়ে আসেন জুলে রিমে। জুলে রিমের কারণেই ফ্রান্স, বেলজিয়াম, রোমানিয়া ও তৎকালীন যুগোস্লাভিয়া বিশ্বকাপ খেলতে রাজি হয়েছিলো। 

প্রথম বিশ্বকাপের অফিসিয়াল পোস্টার; Image Source : Wikimedia

অবশেষে শুরু হলো বিশ্বকাপ

শেষপর্যন্ত সব সংশয় দূর করে ১৯৩০ সালের ১৩ জুলাই ইতিহাসের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয়। উদ্বোধনী দিনে দুটি ম্যাচ একইসাথে শুরু হয়, ফ্রান্স মুখোমুখি হয় মেক্সিকোর আর বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয় যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেন ফ্রান্সেরি লুসিয়েন লরেন্ট। উরুগুয়ের রাজধানী মন্টিভিডিওর তিনটি স্টেডিয়ামেই সেই বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়! জাঁকজমক কম থাকলেও প্রথম আসর বেশ ভালোভাবেই আয়োজিত হয়। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে স্বাগতিক উরুগুয়ের বিশ্বজয়ের মাধ্যমেই প্রথম আসরের সমাপ্তি ঘটে। এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে ফুটবলের একটা নতুন অধ্যায়ের দ্বার উন্মোচিত হয়। ফিফার কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় অলিম্পিকের মতো ফুটবল বিশ্বকাপও চার বছর পরপরই অনুষ্ঠিত হবে। 

প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের খেলোয়াড়েরা; Image Source : FIFA

বয়কট বয়কট খেলা!

১৯৩৪ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ইতালিতে, ফিফা আশা করেছিলো প্রথম আসরের সাফল্য দেখে সেবার অনেক দলই বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহ দেখাবে। বেশ কিছু দল আসলেই আগ্রহ দেখিয়েছিলো। এ কারণেই সেই আসরের প্রতিযোগী দেশ ঠিক করার জন্য ফিফাকে বাছাইপর্বের আয়োজন করতে হয়। কিন্তু আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে সেই আসর বয়কট করায় শুরুর আগেই রঙ হারায় সেই বিশ্বকাপ। আগের আসরে মাত্র চারটি ইউরোপিয়ান দলের উরুগুয়েতে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারটিই ১৯৩৪ বিশ্বকাপ বয়কট করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করে উরুগুয়ে। বয়কট করার এই প্রবণতা আরো বেড়ে যায় ফ্রান্সে অনুষ্ঠেয় ১৯৩৮ বিশ্বকাপে। টানা দুবার ইউরোপে বিশ্বকাপ আয়োজিত হওয়ার প্রতিবাদে সেবার ব্রাজিল বাদে দক্ষিণ আমেরিকার বাকিসব দেশ বিশ্বকাপ বয়কট করে! ফিফা বুঝতে পারছিলো যে, এভাবে বয়কট করার প্রবণতা দূর করতে না পারলে বিশ্বকাপ কিছুতেই সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।

তবে এই ব্যাপার নিয়ে কিছু একটা করার আগেই বেজে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। তবে এই যুদ্ধের সময়েও জুরিখে নিজেদের অফিস রক্ষণাবেক্ষণ করে যাচ্ছিলো ফিফা। ১৯৪৫ সালে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলো, তখন ফিফার অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই সঙ্গীন যে মাত্র এক বছরের মধ্যে ১৯৪৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করাটা ফিফার পক্ষে অসম্ভব ছিল। এ কারণে ১৯৪৬ সালেও বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। শেষপর্যন্ত ১৯৪৬ সালে জুলাই মাসের ১ তারিখে লুক্সেমবার্গে দীর্ঘদিন পর ফিফার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেই কংগ্রেসে ৩৪টি অ্যাসোসিয়েশন একত্রিত হয় আর সবাই মিলে ফিফার প্রেসিডেন্ট জুলে রিমেকে একটি বিশেষ উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পঁচিশ বছর ধরে ফিফার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ফুটবলকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পুরস্কার হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপকে জুলে রিমে কাপ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আর ঘোষণা দেওয়া হয় যে পরের বিশ্বকাপ ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হবে।

যুদ্ধের দুঃসহ স্মৃতি কাটিয়ে আবারো ফিরলো বিশ্বকাপ

১২ বছর পর ১৯৫০ সালে আবারো বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ দলগুলো অংশ নেয়। তবে ব্রাজিলের ফুটবল বোর্ডের সাথে ঝামেলার কারণে এই আসরও বয়কট করে আর্জেন্টিনা। মোট ১৩টি দেশ ১৯৫০ বিশ্বকাপে অংশ নেয়। তবে সেই আসরের অন্যতম দুর্বল দিক ছিল অগোছালো ফরম্যাট। ১৯৫০ বিশ্বকাপে কোনো ফাইনাল ম্যাচ ছিল না, চার গ্রুপের চার শীর্ষ দলকে নিয়ে হয়েছিলো সুপার ফোর। সুপার ফোরে যাদের পয়েন্ট বেশি থাকবে তারাই হবে চ্যাম্পিয়ন এটাই ছিল সেই আসরের নিয়ম!

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ১৯৫৪ বিশ্বকাপে মোটামুটি গোছানো একটি ফরম্যাট দাঁড় করায় ফিফা। সেই আসরে অংশগ্রহণকারী ১৬ দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিলো। এরপর প্রতি গ্রুপের সেরা দুই দলকে নিয়ে পর্যায়ক্রমে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন দলকে খুঁজে নেওয়া হবে- এরকমটাই ছিল ১৯৫৪ বিশ্বকাপের ফরম্যাট। তবে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে গ্রুপের প্রতিটি দল একে অপরের মুখোমুখি হয়নি, গ্রুপপর্বে প্রতিটি দল তিনটি ম্যাচের বদলে খেলেছিলো দুটি করে ম্যাচ! ১৯৫৮ বিশ্বকাপে এসে এই সমস্যারও অবসান ঘটায় ফিফা। সেই আসরে গ্রুপের প্রতিটি দল একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিলো। মূলত ১৯৫৮ বিশ্বকাপের মাধ্যমেই দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ  হওয়ার দিকে একধাপ এগিয়ে যায় ফুটবল বিশ্বকাপ।

১৯৫৮ বিশ্বকাপের মাধ্যমেই বিশ্বকাপ আয়োজনে একধরনের স্থিতিশীলতা আসে; Image Source : Pinterest

আর বয়কট সমস্যা দূর করার জন্যে ফিফা অভিনব এক ব্যবস্থা নেয়। ফিফা সিদ্ধান্ত নেয় কোনো মহাদেশে পরপর দুটি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে পারবে না। এর ফলে স্বাগতিক দেশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরাশক্তিগুলোর বিশ্বকাপ বয়কট করা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তখনো একটি সমস্যা রয়ে গিয়েছিলো, বিশ্বকাপে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকানদের দাপটের কারণে এশিয়া ও আফ্রিকার মতো বিশাল দুই মহাদেশ থেকে খুবই অল্প পরিমাণ দল বিশ্বকাপে সুযোগ পেতো। ফলে এমনও বিশ্বকাপ হয়েছিলো যেখানে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের কোনো প্রতিনিধিই অংশ নিতে পারেনি! এই সমস্যা দূর করার জন্য ফিফা পর্যাক্রমে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১৬ থেকে ২৪, এরপর ২৪ থেকে ৩২ এ উন্নীত করে। এছাড়া ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপ যথাক্রমে এশিয়া ও আফ্রিকায় আয়োজন করেছে ফিফা। ফিফার এসব বুদ্ধিদীপ্ত উদ্যোগের ফলেই দিন যত গিয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা ততই বৃদ্ধি পেয়েছে।

আফ্রিকায় বিশ্বকাপ আয়োজন করাটা ফিফার অন্যতম বড় একটি সাফল্য; Image Source : footballtripper

শেষকথা

আজ থেকে ৮৮ বছর আগে একদম শূন্য থেকে যে টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হয়েছিলো, আজ সেই টুর্নামেন্টটি পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্পোর্টস টুর্নামেন্টে। প্রতি চার বছর পর এই বিশ্বকাপের কারণেই পুরো বিশ্ব ফুটবলজ্বরে কাঁপতে থাকে। প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো একটি শহরের তিনটি স্টেডিয়ামে আর একবিংশ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এগারটি শহরের বারটি স্টেডিয়ামে! প্রথম বিশ্বকাপের তুলনায় সবকিছুই অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই সুসময়ে শুরুর সেই কঠিন দিনগুলো কেউ ভুলে যায়নি। শুরুর দিকে জুলে রিমের সেই লড়াইয়ের ফসল আজকের এই বিশ্বকাপ। জুলে রিমের দেখা সেই স্বপ্ন তখন অনেকের কাছে অলীক কল্পনা মনে হলেও আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। যতদিন এই পৃথিবীতে ফুটবল বেঁচে থাকবে, ততদিন এই পৃথিবী শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে জুলে রিমেকে। 

ফিচার ইমেজ : baoquocte.vn

Related Articles