আমরা যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করি প্রায় সবার কাছেই ইউটিউব একটি পরিচিত নাম। কারণ বর্তমানে ইউটিউবই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট। সাম্প্রতিক তথ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভিত্তিক পর্যালোচনা, সংগীত ও নাচের ভিডিও, সিনেমা, টেলিভিশনে প্রদর্শিত নাটক, খেলাধুলোর ভিডিও, পড়াশুনা সম্পর্কিত আলোচনা; কী নেই এই ইউটিউবে! একজন মানুষের যেসব বিষয়ে আগ্রহ তার উপরে একটি হলেও ভিডিও পাওয়া যাবে ইউটিউবে।

ইউটিউব; Source: i1.wp.com

একটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, পুরো বিশ্বের প্রায় ১ বিলিয়ন মানুষ ইউটিউব ব্যবহার করে! অর্থাৎ প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন প্রতিদিন ইউটিউবে ভিডিও দেখে থাকেন। প্রত্যেক মাসে ইউটিউব ব্যবহারকারীরা প্রায় ৬ বিলিয়ন ঘন্টা সময় ব্যয় করেন শুধু ইউটিউব ভিডিও দেখে। এবং প্রত্যেকদিন প্রায় ৪ বিলিয়ন ভিডিও দেখা হয় ইউটিউবে। সেই সাথে ইউটিউবেই প্রতি মিনিটে ৪০০ ঘন্টার মতো ভিডিও আপলোড হয়ে থাকে।

প্রত্যেকদিন এত ভিডিও যারা আপলোড করেন তাদের ভেতরে অনেকেই আছেন যারা শুধু ইউটিউবের মাধ্যমেই ব্যক্তিগত জীবনে সফল হয়েছেন, ইউটিউব ব্যবহারকারীদের মধ্যে হয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়। এমনকি তাদের আয়ের মূল উৎসও এখন ইউটিউব।

আজ এমনই ৭ জন ব্যক্তিগত ভাবে সফল ও জনপ্রিয় ইউটিউবার এবং ইউটিউব থেকে তাদের আয় সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। উল্লেখ্য, এই তালিকায় ভিভো (VEVO) এবং ইউটিউবের অধীনে থাকা চ্যানেলগুলো বাদ দেয়া হয়েছে।

৭. ভানোস গেমিং (VanossGaming)

সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা: ২১ মিলিয়ন

২০১৬ সাল অব্দি আয়: ৭.৮ মিলিয়ন

ইভান ফং; Source: youtube.com

ইভান ফং (Evan Fong) এর ইউটিউব চ্যানেলের নাম ভানোস গেমিং। কানাডাবাসী এই ইউটিউবারের বয়স ২৫ বছর। ফং নামে তেমন পরিচিত না হলেও তিনি তার ইউটিউব নামের মাধ্যমে বেশ পরিচিত। তিনি সাধারণত কমেডিক ভিডিও শেয়ার করেন যেগুলো মূলত ভিডিও গেমের উপর ভিত্তি করে বানানো। সেসব ভিডিওতে অধিকাংশ সময়ে তাকে কোনো না কোনো গেম খেলতে দেখা যায়।

তার ভিডিওগুলোর আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো তার এডিটিংয়ে। তিনি মাঝে মাঝে তার খেলার হাস্যকর ও চুম্বক অংশ বা উত্তেজনাকর মুহুর্তের অংশগুলো এক সাথে যুক্ত করে অপেক্ষাকৃত স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও আপলোড করে থাকেন যেগুলো ‘মন্তাজ’ (Montages) নামে পরিচিত।

যদিও ইভান ফং ইউটিউবের অন্যতম জনপ্রিয় গেমার, ছোটবেলা থেকে তেমন গেমই খেলতেন না তিনি। কিছুটা শখের বশেই ২০১১ সালে ইউটিউব চ্যানেল খোলেন। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে তার চ্যানেল প্রথম দেড় বছর মধ্যম মানের ছিল। কিন্তু দৃশ্যপট পাল্টে যায় যখন থেকে তিনি তার “কল অব ডিউটি” গেম খেলার মজার মুহুর্তের ভিডিওগুলো শেয়ার করতে শুরু করেন। তার সেই ভিডিওগুলোতে মূলত তিনি এবং তার বন্ধুদের সাথে খেলতে থাকা অবস্থায় গেমের গ্লিচ এবং শত্রুদের অদ্ভুত অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের ফলে তাদের মধ্যে যে হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় সেগুলোই তুলে ধরেন।

এ ধরনের ভিডিওর জন্যই দ্রুত তার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে তার সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও সিরিজ হলো গ্রান্ড থেফট অটো ৫। এবং এর উপর করা ভিডিওগুলো তাকে অন্যান্য গেমার ইউটিউবারদের পেছনে ফেলতে সাহায্য করে। তিনি এতটাই দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছিলেন যে, একপর্যায়ে পিউডিপাই (PewDiePie) এর মতো চ্যানেলকে পেছনে ফেলে ভানোস গেমিং বেশি মানুষকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়।

আয়

ধারণা করা হয় ২০১৬ সাল পর্যন্ত তার নেট আয় ছিল প্রায় ৭.৮ মিলিয়ন ডলার। প্রথমত, তিনি ইউটিউবে তার ভিডিওগুলোয় বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে আয় করে থাকেন। এবং মাঝে মাঝে কিছু ভিডিও গেমিং প্রতিষ্ঠান; যেমন- ইএ (EA), ইউবিসফট (Ubisoft) তাকে তাদের গেমের প্রচারমূলক ভিডিও বানানোর মাধ্যমে অর্থ প্রদান করে থাকে।

৬. স্মশ (Smosh)

সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা: ২২ মিলিয়ন

২০১৬ সাল অব্দি আয়: ১১.৮ মিলিয়ন

স্মশ এর প্রতিষ্ঠাতা দুজন; Source: vignette.wikia.nocookie.net

ইউটিউব জগতে স্মশ একটি পরিচিত এবং জনপ্রিয় নাম। স্মশের পথচলা শুরু হয় মূলত ২০০২ সালে অ্যান্থনি প্যাডিলার ‘স্মশ ডটকম’ নামে একটি ওয়েবসাইট খুলার মাধ্যমে। পরবর্তীতে বন্ধু ইয়ান হেকক্স তার সাথে যুক্ত হলে, দুজনে মিলে ২০০৫ সালে স্মশ নামে ইউটিউব চ্যানেল খুলেন। বর্তমানে চ্যানেলটিতে ২২ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার রয়েছে এবং এর ভিডিওগুলো ৬ বিলিয়ন বার দেখা হয়েছে। ভিডিও গেমিং এবং কমেডিই বেশি শেয়ার করা হয় স্মশে। পুরো বিশ্বে স্মশের সাবস্ক্রাইবার থাকলেও আমেরিকার ইউটিউব ব্যবহারকারীদের মধ্যেই তারা বেশি জনপ্রিয়।

২০০৬ সালের মে থেকে জুন, ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর এবং ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস- এই তিন সময়ে স্মশ সবচেয়ে বেশিবার সাবস্ক্রাইবড হওয়া চ্যানেলের উপাধি অর্জন করেছে। প্যাডিলা ২০১৭ সালের জুন মাসে স্মশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় বর্তমানে হেকক্সই একমাত্র সহকারী প্রতিষ্ঠাতা যিনি এখনো স্মশে সক্রিয় রয়েছেন।

প্যাডিলা চলে গেলেও স্মশ থেমে নেই। বর্তমানে স্মশের সাথে সম্পর্কিত ১০টি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, যার মধ্যে ৭টিতে নিয়মিত ভিডিও শেয়ার করা হয়।

আয়

২০১৬ সাল অব্দি স্মশ প্রায় ১১.৮ মিলিয়ন আয় করেছে, যার অর্ধেকই এসেছে তাদের ইউটিউব চ্যানেলগুলোর ভিডিওতে দেখানো বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। পাশাপাশি তাদের ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন, নিজস্ব ব্রান্ডিংয়ের পণ্যদ্রব্য, বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতার জন্য বানানো ভিডিও এবং আইটিউন থেকে তাদের এপ্লিকেশন ও গান বিক্রির মাধ্যমেও স্মশ প্রচুর আয় করেছে।

৫. ফারনানফ্লু (Fernanfloo)

সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা: ২৪ মিলিয়ন

২০১৬ সাল অব্দি আয়: ৩.৫ মিলিয়ন

ডায়মন্ড প্লে বাটনের সাথে; Source: pbs.twimg.com

১৯৯৩ সালে এল সালভাদরে জন্ম নেয়া এই ইউটিউবারের আসল নাম লুইস ফারনান্দো ফ্লোরেস। তিনি সাধারণত কমেডি গেমিং এবং ভ্লগ করে থাকেন। তিনি এমন একজন ইউটিউবার যিনি মূলত কোনো এক ভিডিও দিয়ে ভাইরাল হয়ে জনপ্রিয়তা পান নি। বরং তিনি তার প্রচেষ্টা এবং কঠোর শ্রম দ্বারা ধীরেধীরে জনপ্রিয় হয়েছেন।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে তার জিটিএ এর ভিডিওগুলো; যেখানে তিনি নিজেই বলেছেন, একটি ৬ মিনিটের ভিডিওর পেছনে ১০ ঘন্টারও অধিক সময় রেকর্ডিং এবং ৫ ঘন্টার বেশি সময় তা সম্পাদনায় ব্যয় করেছেন! তিনি আরও বলেছেন, ২০১০ সালে প্রায় একটানা ১৫ ঘন্টা ‘কল অফ ডিউটি’ খেলার জন্য মুখের পক্ষাঘাতেও আক্রান্ত হয়েছিলেন।

ফ্লোরেস ২০১১ সালে তার ইউটিউব চ্যানেলটি চালু করেছিলেন। যদিও তিনি নিজ পরিবার থেকে কখনোই কোনো ধরনের সমর্থন পান নি, আজ তার অধীনে নিজের নাম ও লোগো সম্বলিত পোশাক, ব্যাগ, সোয়েটার এবং ব্যাকপ্যাকের ব্র্যান্ড রয়েছে।

আয়

তার প্রচুর সাবস্ক্রাইবার থাকলেও অন্যান্য টপ ইউটিউবারদের তুলনায় তার আয় কিছুটা কম। তবে ২৪ বছর বয়সী হিসেবে যা আয় করেন তা-ও নেহাত কম নয়। তিনিও তার ইউটিউব ভিডিওগুলোয় দেখানো বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করে থাকেন। এবং তার নিজস্ব ব্রান্ডিং এর পোশাক, ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক বিক্রি করেও আয় করেন। তার “ফারনানফ্লু” নামে এপও আছে। এসব থেকে ২০১৬ সাল অব্দি তিনি প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন।

৪. উইন্ডারসননুনস (Whinderssonnunes)

সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা: ২৪ মিলিয়ন

২০১৬ সাল অব্দি আয়: ১৭.৭ মিলিয়ন

বিজয়ী বাতিস্তা!; Source: gp1.com.br

পুরো নাম উইন্ডারসন নুনস বাতিস্তা একজন ব্রাজিলীয় গায়ক, কমেডিয়ান এবং ইউটিউবার। মূলত তার কমেডি ভিডিওগুলোর জন্যই বেশি পরিচিত উইন্ডারসননুনস ইউটিউব চ্যানেল। ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের সবচাইতে বেশি সাবস্ক্রাইব করা ইউটিউব চ্যানেল এটি। বর্তমানে প্রায় ২৪.৮ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার রয়েছে এবং চ্যানেলটির ভিডিওগুলো প্রায় ১.৯ বিলিয়ন বার দেখা হয়েছে।

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি ইউটিউবে ভিডিও শেয়ার করতে সচেষ্ট হন। ২০১২ সালে তার প্যারোডি ভিডিও “Alô vó, tô reprovado” মাত্র এক সপ্তাহেই ৫ মিলিয়ন ভিউ পায়। তারপর তার ইউটিউব চ্যানেল দ্রুত জনপ্রিয় হতে শুরু করে। কিন্তু ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে তার ইউটিউব একাউন্টটি হ্যাক হয় এবং হ্যাকার তার চ্যানেলটি ডিলিট করে দেয়। তারপর তিনি উইন্ডারসননুনস ইউটিউব চ্যানেলটি তৈরি করেন, যা আবার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে যায়।

তার চ্যানেলে প্রায় ৩০০’র উপর ভিডিও আছে, যেগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন প্যারোডি, ভ্লগ, গান এবং মুভি রিভিউ। অন্যান্য ইউটিউবার যেখানে প্রচুর সময় ব্যয় করেন শুধু ভিডিও সম্পাদনায়, উইন্ডারসননুনস এর ভিডিওগুলোতে তেমন কোনো সম্পাদনাই থাকে না। তিনি শুধু একটি দৃশ্যের পর আরেকটি জোড়া লাগান। তিনি প্রায় সব ভিডিওই শুরু করেন এটা বলে “Hey, little guy watching my channel, how are you?” অনেক সময় তাকে ধরা হয় ইউটিউবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। প্রথমে রয়েছেন পিউডিপাই ইউটিউব চ্যানেলের সুয়েড ফেলিক্স জেলবার্গ (Swede Felix Kjellberg)।

আয়

ব্রাজিলের টপ ইউটিউবার হওয়ার জন্য তার আয়ও প্রচু, যা ২০১৬ সালের হিসেবে ২৪ মিলিয়ন ডলার। ইউটিউব থেকে যদিও তার আয়ের মোটা অংশটা আসে, তবুও তিনি তার গান এবং স্টেজ পার্ফরমেন্সের জন্যও অর্থ পান। তিনি ব্রাজিলের প্রধান ইউটিউব তারকা হওয়ায় ব্রাজিলীয় অনেক স্পন্সরকে প্রমোশনের মাধ্যমেও টাকা আয় করে থাকেন।

৩. এলরুবিয়াসওএমজি (elrubiusOMG)

সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা: ২৬ মিলিয়ন

২০১৬ সাল অব্দি আয়: ৫ মিলিয়ন

রুবেন ডবলাস গান্ডারসন; Source: data.whicdn.com

২৭ বছর বয়সী রুবেন ডবলাস গান্ডারসন (Rubén Doblas Gundersen) বেশি পরিচিত তার ইউটিউব চ্যানেলের নাম এলরুবিয়াসওএমজি এর জন্য। তিনি জন্মসূত্রে স্প্যানিশ এবং স্পেনের সবচাইতে জনপ্রিয় ইউটিউবারও তিনি। অন্যান্য জনপ্রিয় ইউটিউবারদের মতোই গান্ডারসন বেশি পরিচিত তার গেমিংয়ের জন্য। তার বন্ধু মিগুয়েল এঞ্জেল এর উৎসাহে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ইউটিউব চ্যানেল খোলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল দুজনের এক সাথে গেম খেলার মুহূর্তগুলো বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া।

২০০৬ সালে তিনি প্রথম ভিডিও শেয়ার করেন তার ‘এলরুবিয়াস’ চ্যানেলে। কিন্তু তার ভাগ্য বদলে যায় যখন তিনি ২০১১ সালে তার দ্বিতীয় চ্যানেল ‘এলরুবিয়াসওএমজি’ চালু করেন। তিনি তার চ্যানেলে গেমিং ওয়াকথ্রু, রিভিউ দেয়া শুরু করেন এবং কমেডিক স্টাইলে ধারাভাষ্যও দেন।

তিনি ২০১৪ সালে ‘দ্য ট্রল বুক’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছেন, যা মাদ্রিদের বই মেলায় “বেস্ট সেলার” বই হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। ২০১৬ সালে অন্য সবাইকে পেছনে ফেলে তিনি হন ‘ইউটিউবার অফ দ্য ইয়ার’।

আয়

মনেটাইজড বা বিজ্ঞাপন যুক্ত ইউটিউবের যেকোনো ভিডিও থেকে যে অর্থ পাওয়া যায় তার একটি অংশ প্রথমে ইউটিউব নিয়ে নেয়। এক্ষেত্রে প্রতি ১০০০ বার দেখা ভিডিও দেখে ইউটিউবাররা সাধারণত ২ থেকে ৫ ডলার পেয়ে থাকেন। সে হিসেবে এলরুবিয়াসওএমজি’র ২৬ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার থেকে গান্ডারসন এ পর্যন্ত সাড়ে ৫ বিলিয়ন ভিউ পেয়েছেন, অর্থের হিসেবে যা প্রতিদিন তাকে ৪,০০০ ডলারেরও বেশি অর্থ দিয়েছে। তাছাড়া তার বিক্রিত বই থেকেও প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন তিনি।

২. হলাসয়জার্মান (HolaSoyGerman)

সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা: ৩২ মিলিয়ন

২০১৬ সাল অব্দি আয়: ৫.৫ মিলিয়ন

তার অবস্থান নাম্বার দুইয়ে; Source: ep00.epimg.net/tecnologia

জার্মান গার্মেন্ডিয়া মূলত একজন কমেডিয়ান এবং মিউজিশিয়ান। চিলির এই ইউটিউবার পুরো ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় ইউটিউব তারকা। হলাসয়জার্মান এর পাশাপাশি তার আরেকটি ইউটিউব চ্যানেল আছে, যার নাম জুয়েগাজার্মান (JuegaGerman)। এখানে তার প্রায় ১৯ মিলিয়নের বেশি সাবস্ক্রাইবার আছে এবং এই চ্যানেলটিতে মূলত ভিডিও গেমের উপরই বেশি নজর দেয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে তিনি চুপায়েলপেরো (Chupaelperro) নামে একটি বইও প্রকাশ করেছেন।

তিনি জনপ্রিয় হয়েছিলেন তার ‘দ্য অভিয়াস থিংস অব লাইফ’ ভিডিওটি দিয়ে। তার দুটি চ্যানেলই টপ ২০ ইউটিউব চ্যানেলের মধ্যে রয়েছে। ‘আইস এইজ’ সিনেমার স্প্যানিশ সংস্ক্রণে জুলিয়ানের চরিত্রে তার কণ্ঠস্বর ব্যবহার করা হয়েছে। তিনিই সর্বপ্রথম ইউটিউবার, যিনি দু’বার ইউটিউবের ‘ডায়মন্ড প্লে বাটন’ পেয়েছেন। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে তিনি এমটিভি মিলেনিয়াম এওয়ার্ডস থেকে ‘আইকন অফ দ্য ইয়ার’ পুরষ্কার জেতেন।

আয়

তার ভিডিওগুলোর শুরুতে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে এবং বিভিন্ন স্পন্সরদের জন্য প্রমোশনাল ভিডিও বানিয়ে গার্মেন্ডিয়া ২০১৬ সাল অব্দি প্রায় সাড়ে ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এছাড়াও তার “ফিলিং এভরি সানসেট” নামে একটি রকব্যান্ড দল আছে যেখান থেকেও কিছু আয় করে থাকেন।

১. পিউডিপাই (PewDiePie)

সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা: ৫৭ মিলিয়ন

২০১৬ সাল অব্দি আয়: ১৫ মিলিয়ন

ইউটিউব কিং-পিউডিপাই; Source: media-assets-03.thedrum.com

ইউটিউব জগতের রাজা বলা হয় তাকে। ২৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তির আসল নাম সুয়েড ফেলিক্স জেলবার্গ (Swede Felix Kjellberg)। তিনি তার অসাধারণ প্রতিভা এবং সাবস্ক্রাইবারদের (যাদের তিনি ‘ব্রো’ বা ভাই বলে ডাকেন) সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে ইউটিউবে এক অনন্য জীবনযাত্রা তৈরি করেছেন। উৎফুল্ল, কিছুটা পাগলাটে এই ইউটিউবারের ভিডিওগুলোতে তাকে মূলত গেম খেলতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে তিনি মজার, হাস্যকর এবং ব্যঙ্গধর্মী ভিডিও শেয়ার করেন।

তবে কিছুদিন আগে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রিপোর্ট’ পিউডিপাই এর নামে নেতিবাচক রিপোর্ট করে, যার ফলে ইউটিউব এবং ডিজনি তার সাথে সরাসরি ব্যবসা সম্পর্কিত সকল সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে। যদিও তাকে ইউটিউবে ভিডিও শেয়ার করা থেকে বয়কট করা হয়নি। তবে তিনি এর প্রতিক্রিয়া জানান একটি ভিডিওতে সরাসরি মধ্যমাঙ্গুলি দেখিয়ে! এবং যার ফলে তার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা উলটো আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে দিন দিন।

আয়

অন্যান্যদের মতোই পিউডিপাইয়ের আয়ের মূল অংশ আসে ইউটিউব থেকে। শুধু ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমেই প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এছাড়াও তার বেস্ট সেলার বই ‘দিস বুক লাভস ইউ’ প্রায় ১,১২,০০০ কপি বিক্রি হয়েছে, যা তাকে বেশ বড় অংকের অর্থ এনে দেয়। এছাড়াও তার নিজস্ব ব্রান্ডিংয়ের জিনিসপত্র বিক্রি, তার নিজের মোবাইল গেমের ডাউনলোড, পূর্বে ইউটিউব রেডে তার একটি ভিডিও সিরিজের সাবস্ক্রাইবারদের থেকে এবং তার স্পন্সর গেমিং কোম্পানি “রেজার” থেকেও অর্থ পেয়ে থাকেন।

তিনি বার বার এমন করে টুইট করে গেছেন; Source: superfame.com

পিউডিপাইয়ের একটি মজার তথ্য দিয়ে লিখা শেষ করছি। সামাজিক যোগাযোগের সাইট টুইটারে পিউডিপাই আমেরিকান গায়িকা এবং গীতিকার টেয়লর সুইফটকে ‘সেনপাই‘ (জাপানী ভাষায় যার অর্থ গুরু) বলে  টুইট করতেন। তিনি ২০১৪ সাল পর্যন্ত এভাবে টুইট করে গেছেন। ফলে পিউডিপাই অবশেষে সুইফটের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং সুইফট নিজেই টুইটারে পিউডিপাইকে অনুসরণ করেছিলেন।

ফিচার ইমেজ- gdb.rferl.org