গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়গুলো অভিযাত্রীদের জেনে রাখা দরকার

রোমাঞ্চকর অভিযানে বেরিয়ে পড়া মানুষগুলোকে দেখলে বা তাদের অভিযানের কাহিনী শুনলে বা পড়লে প্রায়ই অনেকের মনে হয়, যদি আমিও এমন অভিযানে যেতে পারতাম! যেতে পারেন আপনিও, শুধু দরকার অদম্য ইচ্ছা ও কিছু প্রয়োজনীয় কৌশল সম্পর্কে জানা। যারা অ্যাডভেঞ্চার করে বেড়ায় তাদের সাথে আপনার-আমার পার্থক্য কি? তারা নিজেদের মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করেছেন প্রতিটি অভিযানের জন্য। আপনি যদি ভ্রমণপিপাসু হন এবং যেকোনো রোমাঞ্চকর অভিযানে যাওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছা রাখেন, সেটা হতে পারে কয়েকদিনের ট্রেকিং, কোনো জনহীন প্রান্তরে ক্যাম্পিং কিংবা চরম ঠান্ডা বা গরম আবহাওয়ায় পাহাড় চড়া- সবকিছুর জন্যই আপনার কিছু নির্দিষ্ট বিষয় জানতে হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। সেরা পর্বতারোহী ও ক্রীড়াবিদদের থেকে পাওয়া এবং কিছুটা ব্যক্তিগত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা থেকে তেমনই কিছু কৌশল নিয়ে আজ লিখব, যা যেকোনো অভিযাত্রীর জানা থাকা প্রয়োজন।

যথাযথ পোশাক পরা

বৃষ্টি উপভোগে যে পোশাক আপনার জন্য উপযুক্ত, টিকে থাকার জন্য কসরৎ করা অবস্থায় সে পোশাক উপযুক্ত না-ও হতে পারে। তাই সঠিক অভিযানের জন্য সঠিক পোশাক নির্বাচন জরুরী। পোশাকের সবচেয়ে নিচের স্তরটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পোশাকটি এমন তন্তুর হওয়া চাই যাতে দক্ষভাবে শরীরের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিভিন্ন অভিযানকারীর মতে, এক্ষেত্রে উলের পোশাক ভালো কাজে দেয়। কেননা উল গরমকালে শরীরকে ঠান্ডা রাখে, আর শীতে শরীরকে উষ্ণতা দেয়। এছাড়াও উল এন্টিব্যাকটেরিয়াল হওয়ায় পরপর বেশ কিছুদিন গায়ে থাকলেও অত বাজে গন্ধ হয় না যতটা হয় যেকোনো কৃত্রিম তন্তুর পোশাকে। তবে সব উলই ভালো নয়, কিছু উলের পোশাক আছে অপেক্ষাকৃত খসখসে এবং গায়ে দিলে চুলকায়। সেগুলো একটু দেখে বাদ দেয়াই ভালো। ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ উল হিসেবে ধরা হয় ‘মেরিনো উল’ নামক এক জাতীয় উল, যা সাধারণত নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার এক বিশেষ প্রজাতির ভেড়া থেকে পাওয়া যায়।

মেরিনো উলের টিশার্ট; source: welltraveledmile.com

এছাড়াও ভ্রমণের সময় জলরোধক অর্থাৎ ওয়াটারপ্রুফ হালকা জ্যাকেট নেয়া উচিৎ যা একইসাথে ঠান্ডা বাতাস প্রতিরোধ করে। ভ্রমণ সম্পর্কিত জিনিস বিক্রি করে এমন বেশ নামকরা কিছু দোকানে এ জাতীয় জ্যাকেট অনায়াসেই পাওয়া যায়, যা ব্যবহারের পর ভাঁজ করে একদম ছোট করে ব্যাগে পুরে ফেলা যায়। ফলে অনেক বেশি জায়গাও নষ্ট হয় না আর বহন করতেও সুবিধা।

প্যান্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আরামের ব্যাপারটা মাথায় রাখা উচিৎ। কিছু প্যান্ট আছে যার পায়ের দিকটা সহজেই খুলে ইচ্ছেমত হাফপ্যান্ট বানিয়ে ফেলা যায়। তাই যেসব জায়গায় আবহাওয়া ঠান্ডা-গরমে ওঠানামা করে বা হয়ত কিছু জায়গায় আপনার পানিতে নামা প্রয়োজন, সেসব জায়গায় এ ধরনের প্যান্টগুলো বেশ কাজে দেয়।

সহজেই এই প্যান্ট বদলে ফেলতে পারবেন হাফ প্যান্টে; source: greenglobaltravel.com

দিকনির্ণয় করতে পারা

যারা প্রকৃত অ্যাডভেঞ্চারে আগ্রহী এবং দুর্গম জায়গাগুলোতে অভিযান করতে চান বা পছন্দ করেন তাদের অবশ্যই মানচিত্র এবং কম্পাসের ব্যবহার জানা উচিৎ। আজকাল মোবাইলের ম্যাপ ও জিপিএস এর উপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় এই ব্যাপারটা অনেকেই গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এমন অনেক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে যেখানে হয়ত আপনার মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে গেছে কিংবা নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না, এমন সময়ে আপনার দিকনির্ণয়ের জ্ঞানটুকুই আপনাকে বিপদ থেকে বাঁচাবে।

ম্যাপ বোঝাটা জরুরী; © Hage

অনেক ক্ষেত্রে এটি মানসিকভাবেও আপনাকে শক্তি পেতে সাহায্য করবে, আপনি ফোনের অনুপস্থিতিতেও অসহায় বোধ করবেন না। তাই যে অঞ্চলেই অভিযানে যান না কেন, প্রথমেই সেই এলাকার ব্যাপারে ভালো ধারণা নিয়ে এবং সেখানকার মানচিত্র ভালো করে বুঝে সম্ভব হলে সাথে নিয়ে যান এবং কম্পাস দিয়ে দিকনির্ণয় শিখুন।

একলা ভ্রমণে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

অনেকেই একলা ভ্রমণে বেরিয়ে পরেন নিজের মতো করে উপভোগ করতে। সেক্ষেত্রে প্রথমে নিরাপত্তা বিষয়ক তালিকা তৈরী করা ভাল। কী কী ধরনের বিপদ হতে পারে এবং কীভাবে তা সামাল দেয়া যায় তা আগে থেকেই ধারণা থাকলে অনেক অনভিপ্রেত ঘটনা এড়ানো সম্ভব। প্রথম পদক্ষেপ হবে পরিচিত মানুষদের জানিয়ে যাওয়া যে আপনি কোথায় যাচ্ছেন। এরপর যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার স্থানীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর যোগাযোগের উপায় ও তাদের ফোন নম্বর সংগ্রহে রাখুন। স্থানীয় লোকজনের আচার ব্যবহার এবং তাদের ভাষার ব্যাপারে একটু খোঁজ নিন। অনেক সময় ভিন্ন ভাষার কারণে বেশ ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। যদি একদম নতুন হন একলা ভ্রমণের ব্যাপারে, যাবার আগে এই ব্যাপারে দক্ষ কারো সাথে পরামর্শ করে নেয়া ভালো হবে। তার অভিজ্ঞতা থেকেও আপনি অনেক কিছু বুঝতে ও জানতে পারবেন। এ ধরনের ভ্রমণের ক্ষেত্রে মূল ভ্রমণ পরিকল্পনার বাইরেও কিছু পরিকল্পনা রাখা উচিৎ যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতেই অসুবিধায় না পড়তে হয়।

অরোরা বোরেয়ালিস লাইটের নীচে একজন একলা ভ্রমণকারী; © Paul Zizka

ব্যাকপ্যাক সঠিকভাবে গোছানো

হ্যাঁ, এটিও আপনার জানা থাকা দরকার যে কীভাবে ব্যাকপ্যাকে জিনিস গোছালে আপনার তা বহন করতে এবং প্রয়োজনীয় জিনিস সহজে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। আপনি যখন কোনো অ্যাডভেঞ্চারে যাবেন প্রায় সময়ই হুটহাট জিনিস দরকার হবে যা ওই মুহুর্তে খুঁজে না পেলে খুব হতাশ ও বিরক্ত লাগবে। তাই আগে থেকেই সবকিছু জায়গামতো রাখা উচিৎ।

প্রথমেই আপনার ভ্রমণে কী কী লাগবে তার একটা তালিকা করে সব জিনিসপত্র একত্র করে ফেলুন। এরপর হালকা, মোটামুটি ভারী ও ভারী জিনিসগুলো আলাদা করুন। যেসব জিনিস অপেক্ষাকৃত কম ভারী এবং শুকনো থাকা জরুরী, যেমন তাবু, স্লিপিং ব্যাগ, রান্নার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি যদি থাকে, এগুলো ব্যাগের নিচের দিকে নিয়ে তার উপর অপেক্ষাকৃত ভারী জিনিসগুলো নিন যাতে ভারটা আপনার মেরুদন্ডের কাছাকাছি পড়ে। দিনভর আপনার যেসব জিনিসপত্র প্রয়োজন হতে পারে, যেমন ম্যাপ, হালকা খাবার, সানগ্লাস, টুপি, পানি, বৃষ্টিরোধক জ্যাকেট এই জাতীয় জিনিসগুলো উপর দিকে ও আশেপাশের ছোট পকেটগুলোয় রাখুন যাতে দরকারে সহজেই বের করতে পারেন। একদম ছোট ছোট জিনিসগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন রঙ এর ছোট ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। তাতে কোন ব্যাগে কী আছে তা সহজেই খুঁজে পাবেন। যেমন মোবাইল এর চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংক জাতীয় জিনিসগুলো এক রঙের ব্যাগে, আবার হালকা ও প্রয়োজনীয় প্রসাধন, যেমন সানস্ক্রিন ক্রিম, টুথপেস্ট, ব্রাশ, সাবান এ জাতীয় জিনিসগুলো অন্য রঙের ব্যাগে রাখলে স্বল্প সময়ে খুঁজে পাওয়া যাবে।

সব জিনিস একসাথে জড়ো করে ব্যাকপ্যাকে গুছিয়ে নেয়া ভালো; source: tombihn.com

একদম প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া অভিযানে কোন অতিরিক্ত কিছু নিয়ে ব্যাগ ভারী না করাই ভালো। কেননা আপনাকে কোন অবস্থায় থাকতে হবে, কতটা সময় হাঁটতে হবে কিংবা কেমন রাস্তায় হাটতে হবে বলা যায় না, তখন এই অতিরিক্ত ভারী ব্যাগ আপনার জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই পরিধেয় পোশাকের বেলায়ও একটু চিন্তাভাবনা করে ভারী পোশাকগুলো বাদ দিয়ে এবং বারবার ব্যবহারযোগ্য টেকসই পোশাক অল্প পরিমাণে নেয়াই ভালো।

হাইড্রেটেড থাকা

কোনো অভিযানে যাওয়ার আগে যদি আপনার যথাযথ হাইড্রেশন পরিকল্পনা না থাকে তবে আপনি নিশ্চিতভাবে ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছেন। সাধারণ অবস্থাতেই পর্যাপ্ত পানি দরকার হয় শরীরের। আর ভ্রমণের সময় সেই প্রয়োজন স্বাভাবিকভাবেই আরো বেড়ে যায়। তাই যে জায়গায় যাচ্ছেন সেখানকার ম্যাপ থেকে কোথায় কোথায় পানযোগ্য পানি পাওয়া যেতে পারে, অর্থাৎ নদী, লেক বা ঝর্ণা আছে কিনা বা কতদূরে আছে একটু খোঁজ নিয়ে যাওয়া ভালো। সেই অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি নিয়ে যাবেন যাতে ঐটুকু গিয়ে আবার পানি নিয়ে নেয়ার আগ পর্যন্ত সাথে থাকা পানি দিয়ে কাজ চালানো যায়। পানি ধারণের অনেক বোতলে, যেগুলো সাধারণত ভ্রমণের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাতে ফিল্টার থাকে যাতে যতটুকু পারা যায় পরিশুদ্ধ পানি পাওয়া সম্ভব হয়। এ ধরনের কিছু নিয়ে নিলে অভিযানে অসুস্থ হয়ে পড়া থেকে বাঁচা যাবে।

একজন পর্বতারোহী পানি পরিশুদ্ধ করে নিচ্ছেন; © Lars Schneider

ভ্রমণের সময় পানি শূন্যতার লক্ষণগুলো বুঝতে হবে। যেমন, অতিরিক্ত ক্লান্তি, উচ্চতায় অসুস্থ বোধ করা, মাথাব্যাথা, শুষ্ক ত্বক ও ঠোঁট ইত্যাদি। বিভিন্ন পর্বতারোহী ও ট্রেকারদের মতে সবচেয়ে ভালো হয় শরীর আগে থেকেই হাইড্রেটেড করে নেয়া। অর্থাৎ রওনা করার পূর্বেই যথেষ্ট পানি পান করে নেয়া নেয়া এবং চলার পথে ইলেক্ট্রোলাইট ট্যাবলেট পানিতে গুলে তা খেয়ে নেয়া। ইলেক্ট্রোলাইট ট্যাবলেটগুলো যথেষ্ট শক্তি দেয় ভ্রমণে হাঁটার জন্য, সাথে শরীরকেও হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে বেশি সময়ের জন্য।

প্রয়োজনীয় খাবার ও ঔষধ

এমন খাবার সাথে নেয়া উচিৎ যা সহজে তৈরী করা যায় এবং অনেক শক্তি দেয়। যেমন ট্রেকিং এর সময় হাঁটতে হাঁটতেই আপনি দুই তিনটা খেজুর মুখে পুরে দিতে পারবেন। কিংবা কিছু বাদাম একটু পরপর খেলে আপনি যথেষ্ট শক্তি পেয়ে যাবেন। এই জাতীয় ফলমূল, যেমন খেজুর, আপেল, কলা এগুলো বহন করা যেমন সহজ তেমনই আপনাকে এগুলো শক্তিও দেবে প্রচুর। আর ক্যাম্পিং এর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আমিষ ও শর্করা যাতে থাকে খাবার তালিকায় তা লক্ষ্য রাখা উচিৎ। শর্করার জন্য ভাতের বিকল্প নেই। তবে রান্নার যথাযথ ব্যবস্থা না করা গেলে ইনস্ট্যান্ট নুডুলসও বেশ কাজে দেয়। শুধু গরম পানি করে নিলেই হয়। আর আমিষের প্রয়োজন মেটাতে টিনজাত মাংসের বিকল্প নেই। আপনার অ্যাডভেঞ্চার ঠিক কতদিনের আর কতটুকু দুর্গম এলাকায় তার উপর খাদ্যের পরিমাণ নির্ভর করে। অনেক অভিযানকারীই স্থানীয় ফলমূল বা শাক খেয়ে থাকেন। তবে একদম অপরিচিত কিছু না খাওয়াই ভালো, কেননা ওগুলো বিষাক্ত বা ক্ষতিকর হতে পারে।

এন্টার্কটিকা বেজক্যাম্পে সকালের নাস্তা তৈরী করছেন এক পর্বতারোহী; © Jake Norton

আপনি যখন অ্যাডভেঞ্চারে যাচ্ছেন সেখানে যেকোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এবং আশেপাশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ঔষধ না পাওয়াই স্বাভাবিক। এজন্য প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, ব্যথা নিরোধক ঔষধ, জ্বর ও ঠান্ডার ঔষধ, মাংসপেশীতে ব্যবহারের স্প্রে- এসব প্রয়োজনীয় ঔষধ অবশ্যই মনে করে সাথে নেয়া উচিৎ।

উপায় উদ্ভাবনে দক্ষ হোন

যেহেতু অ্যাডভেঞ্চারের জন্য ব্যাকপ্যাক হালকা রাখাটা বেশ জরুরী, তাই যেকোনো জিনিসের একের চেয়ে বেশি ব্যবহার জানা আপনার জন্য প্রয়োজন। ব্যাকপ্যাকে এমন দরকারী জিনিসই নিতে হবে যা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায়। যেমন, আগুন জ্বালিয়ে রাখতে বাতাসকে বাঁধা দেয়ার কাজে ফয়েল পেপার ব্যবহার করা যায়। আবার তা রান্নার কাজেও ব্যবহার করা যায়। প্রয়োজনে সূর্যের আলোর প্রতিফলন ঘটিয়ে তা দিয়ে সংকেতও দেয়া যায়। শক্ত রাবার ব্যান্ড দিয়ে ক্ষতের উপর অনায়াসেই কাপড়ের পট্টি আটকানো যায়, আবার প্যান্টের নিচের দিকটা তা দিয়ে আটকে জামার ভেতর ক্ষতিকর পোকামাকড়ের প্রবেশ রোধ করা যায়। মিন্ট টুথপেস্ট পোকার কামড় বা পুড়ে যাওয়ার ব্যথা প্রশমিত করে। এরকম বিভিন্ন জিনিসের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ব্যবহার জানলে আপনি যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশেও অনায়াসে টিকে থাকতে পারবেন।

সরঞ্জামাদি কেনার সময় সতর্ক থাকুন

আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না কঠিন উঁচুনিচু কোনো পথে হাঁটার সময় আপনার জুতোটা ছিড়ে যাক? কিংবা আপনার ট্রেকিং পোলটা ভেঙে যাক বা ব্যাগের হাতল ছিড়ে যাক? তাই ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি কেনার সময় টেকসই বুঝে কিনতে হবে। কারণ এমন কোনো জায়গায় আপনি এসব সমস্যায় পড়তে পারেন যেখানে আপনাকে সাহায্য করার মতো কেউ থাকবে না। আবার জুতা কেনার সময় কোন উদ্দেশ্যে কিনছেন তা মাথায় রাখতে হবে। ট্রেকিং এর জন্য সব জুতা উপযুক্ত হয় না, পিছলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যেকোনো সময়। তাই জুতার তলাটা ট্রেকিং এর উপযোগী কিনা দেখে নেয়া উচিৎ।

পর্বতারোহণ উপযোগী জুতো; source: survivingtheplatitudes.com

টেক-বিশেষজ্ঞ হওয়া

এ ব্যাপারটা অপরিহার্য না হলেও অবশ্যই আপনাকে বাড়তি কিছু সুবিধা দেবে অ্যাডভেঞ্চারে। প্রযুক্তির নতুন সব আবিষ্কারের সুবিধা নেয়ার মানে সবসময় এই নয় যে আপনি প্রকৃতির বিশুদ্ধতা নষ্ট করছেন। যেমন, বহনযোগ্য হালকা সোলার চার্জারগুলো অনায়াসেই আপনার জিপিএস, ফোন বা ক্যামেরা চার্জ দিতে পারবেন জরুরী মুহূর্তে। যেকোনো অভিযানে বেরিয়ে পড়ার আগে সাথে নেয়া নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হয়ে নিন এবং শুধুমাত্র তার উপর নির্ভরশীল না হয়ে বিকল্প ব্যবস্থাও চিন্তা করে রাখুন।

একজন অভিযাত্রী তার জিপিএস ও ম্যাপ উভয়ের সাহায্যে অবস্থান নির্ণয় করছে; © Cristopher Kimmel

কখন হাল ছাড়তে হবে তা জানা

যেকোনো অভিযানের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হলো আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই এমন পরিস্থিতিতে পড়া। হতে পারে তা পাহাড় ধ্বস, বা ঝড় ও বজ্রপাত, বা ভ্রমণসঙ্গীর অতিরিক্ত তাপমাত্রায় অবসাদে ভোগা, যা আপনার পাহাড়চূড়ায় ওঠার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে ভেস্তে দিতে পারে, কিংবা দিনভর ট্রেকিং এর পরিকল্পনা অর্ধেকেই শেষ করতে হতে পারে, যা একদমই স্বাভাবিক। জোর করে প্রতিকূল পরিবেশে অ্যাডভেঞ্চার চরম ক্ষতির মুখোমুখি করতে পারে। আজ বাঁচলে কাল আবার চেষ্টা করাই যাবে। প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ বেশিরভাগ সময়েই ভাল কিছু ডেকে আনে না। অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলে সারাজীবন তার বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়। তাই কোথায় হাল ছাড়তে হবে এই ব্যাপারটা মাথায় রাখা জরুরী।

মানসিকভাবে শক্ত থাকা

তালিকার শেষে থাকলেও এই ব্যাপারটাই যেকোনো অভিযানের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ। শুধুমাত্র মানসিক জোরের কারণেই অনেক শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। অ্যাডভেঞ্চার যদি হয় হিমালয়ের শিখরে ওঠা, এমন সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ অবশ্যই দরকার হবে, সাথে নিজের উপর বিশ্বাস এবং সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে পড়লে কী করতে হবে তার সম্যক একটা ধারণা আপনাকে মানসিক শক্তি দেবে। নিজেকে প্রস্তুত মনে করতে হবে যেকোনো অভিযানের জন্য, এবং অবশ্যই সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও থাকতে হবে। মানসিক ক্লান্তি শারীরিক ক্লান্তির সৃষ্টি করে। যার কারণে অভিযানটা যতটা না কষ্টকর তারচেয়েও বেশি কষ্টকর মনে হতে পারে আপনার কাছে।

মানসিক শক্তিই আপনাকে সামনে এগিয়ে নেবে; © Menno Boermans

খারাপ আবহাওয়া, আঘাত বা অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা অপরিহার্যভাবে আপনার ইচ্ছাশক্তিকে কমিয়ে দিতে চাইবে। কিন্তু আপনি যদি পজিটিভ মানসিকতা ধরে রাখতে পারেন এবং নেগেটিভ ব্যাপারগুলোকে উপযোগী কিছুতে পরিবর্তন করার অনুশীলন করেন তবে আপনি নিজের ভেতর উদ্যমটা ধরে রাখতে পারবেন। যতই শারীরিকভাবে উপযুক্ত হোন না কেন, দুর্বল মানসিকতা নিয়ে অভিযান শেষ করা দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে যায়।

Related Articles