আমেরিকা! পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হওয়ার হাতছানি এখন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের স্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সামনে। আমেরিকার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। বলা হচ্ছে এ যাবৎকালে ডেমোক্রেটদের মাঝ থেকে নমিনেশান পাওয়া প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মাঝ থেকে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রার্থী তিনি। যদিও সকল জরিপ বলছে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে হিলারিই বেশ কিছুটা ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে। তাই পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা হিলারি ক্লিনটনের বিষয়েই কিছু চমকপ্রদ তথ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের আয়োজন।

হিলারি ক্লিনটন; Source: time.com

মাউন্ট এভারেস্টের প্রথম বিজয়ীর নামে হিলারির নাম

অ্যাডমুন্ড হিলারি ; Source: whatculture.com

১৯৯৫ সালে হিলারি দাবী করেছিলেন তার মা পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতে প্রথম আহরোণকারী এডমন্ড হিলারির নামে তার নাম রেখেছিলেন। এ জন্যই তার নামে ডাবল “L” ব্যবহার করা হয়। কারণ এডমন্ড হিলারির নামেও ডাবল “L” ছিল। কিন্তু ক্লিনটনের জন্ম হয়েছিল ১৯৪৮ সালে। আর এডমন্ড হিলারি মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছিলেন তারও ৫ বছর পরে। এ বিষয়টি ধরা পড়ার পর ২০০৬ সালে হিলারি নিশ্চিত করেন যে তার নাম এডমন্ড হিলারির নাম অনুসারে রাখা হয়নি। পরবর্তিতে হিলারি ক্লিনটনের মুখপাত্র এ কাহিনীর পেছনের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি জানান এটা একটা মিষ্টি পারিবারিক গল্প ছিল যা হিলারির মা হিলারি ক্লিনটনকে তার নামের বিষয়ে শুনিয়ে থাকত যাতে সে আরো মহৎ হয়ে উঠতে পারে।

হিলারির অতীত ক্যারিয়ার স্বপ্ন

বিল ক্লিনটনকে বিয়ে করার আগে হিলারির নাম ছিল হিলারি রোডহ্যাম। প্রথম দিকে তার রাজনীতিতে মোটেও আগ্রহ ছিল না। প্রথম দিকে হিলারি একজন্ বেসবল খেলোয়াড় হতে চেয়েছিলেন। এমনকি সাংবাদিক এবং নভোচারি হওয়ার স্বপ্নও দেখেছিলেন সাবেক এই ফার্স্ট লেডি।

নাসাকে লিখা চিঠি

Source: itunes.apple.com

১৯৬০ এর দিকে ক্লিনটন আমেরিকার সরকারের স্পেস প্রোগ্রামের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে পড়েন। তখনও তার বয়স অত্যন্ত কম ছিল। তখন থেকেই তিনি নভোচারী হতে চেয়েছিলেন। এ উদ্দেশ্যে ১৪ বছর বয়সে ১৯৬২ সালে হিলারি নাসার কাছে একটি চিঠি লিখেন। এতে তিনি নভোচারী হওয়ার সুপ্ত বাসনার কথা লিখেন এবং কিভাবে তিনি সেই ক্যারিয়ার বাছাই করতে পারেন সে বিষয়ে জানতে চান। নাসা তাকে উত্তরে বলেছিলঃ “আমরা মহিলা নভোচারীর নেয়ার বিষয়ে আগ্রহী নই”।

মেরিনার হওয়ার পথে ব্যার্থতা

Source: whatculture.com

হিলারির বয়স যখন ২৭ বছর তখন তিনি আর্কানসাসের মেরিনে যোগদান করতে চেয়েছিলেন। কারণ আগে থেকেই তার সৈনিক জীবনের প্রতি বেশ আগ্রহ ছিল। কিন্তু তাকে এ পদের জন্য অযোগ্য বিবেচনা করা হয়েছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল তার বয়স অনেক বেশি। এবং তার চোখে সমস্যা আছে (তখন হিলারি চোখে মোটা চশমা পড়তেন।)। এছাড়াও তিনি একজন নারী এ বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল।

সাবেক রিপাবলিকান

Source: whatculture.com

হিলারি ক্লিনটন একসময় রিপাবলিকান ছিলেন। এমনকি ১৯৬৪ সালে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ব্যারি গোল্ডওয়াটারের হয়ে ক্যাম্পেইনও করেন। যদিও নির্বাচনে ব্যারি গোল্ডওয়াটার পরাজিত হন। এছাড়াও হিলারি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ওয়েলসলি ইয়াং রিপাবলিকানের প্রেসিডেন্টও ছিলেন। যদিও ১৯৬৮ সালে তিনি পার্টি পরিবর্তন করে ডেমোক্রেটদের দলে যোগ দেন এবং ১৯৭২ সালে ডেমোক্রেট প্রার্থী জর্জ ম্যাকগভার্ন এবং ১৯৭৬ সালে জিম্মি কার্টারের হয়ে প্রচারণা চালান।

হিলারির গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জয়

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড হাতে হিলারি ক্লিনটন; Source: etonline.com

১৯৯৬ সালে হিলারি ক্লিনটন একটি বই লেখেন। বইটির নাম ছিল “ইট টেকস আ ভিলেজঃ অ্যান্ড আদার লিসনস চিলড্রেন টিচ আস”। বইটি নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলার ছিল। ১৯৯৭ সালে বইটির অডিও রেকর্ডিং এর জন্য হিলারি “বেস্ট স্পোকেন ওয়ার্ল্ড অ্যালবাম ফর দ্যা বুকস অডিও রেকর্ডিং” ক্যাটাগরিতে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতে নেন। এই একই ক্যাটাগরিতে এর আগে বিল ক্লিনটন ২ বার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন। হিলারির লেখা অন্যান্য বইগুলো হলঃ “ডিয়ার সকস, ডিয়ার বাডিঃ কিডস লেটারস টু দ্যা ফার্স্ট পেটস” (১৯৯৮), “অ্যান ইনভাইটেশান টু দ্যা হোয়াইট হাউসঃ অ্যাট হোম উইথ হিস্ট্রি” (২০০০), “লিভিং হিস্ট্রি” (২০০০), “হার্ড চয়েসেস” (২০১৪)। এর মাঝে লিভিং হিস্ট্রি এবং হার্ড চয়েসেস বই দুটি তার আত্মজীবনীমূলক বই।

নিজের নামের পরিবর্তন

স্বামী বিল ক্লিনটনের সাথে হিলারি ক্লিনটন; Source: dailysignal.com

বিল ক্লিনটনকে বিয়ে করার পর ১৯৭৫ সালে হিলারি ক্লিনটন ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি তার নাম হিলারি রোডহ্যামই রাখবেন। পরিবর্তন করে নিজের স্বামীর নাম নিজের নামে লাগাবেন না। কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন এটি তার ব্যক্তিগত জীবনকে তার স্বামীর কর্মজীবন থেকে আলাদা করে রাখবে এবং এটি এটাও দেখাবে যে বিয়ের পরও তিনি আগের মতই রয়েছেন। যদিও তার এই সিদ্ধান্ত তার নিজের মা এবং বিল ক্লিনটনের মা ভালোভাবে নিয়েছিলেন না। পরবর্তিতে বিয়ের ৭ বছর পর হিলারি তার নিজের নাম হিলারি রোডহ্যাম থেকে পরিবর্তন করে হিলারি ক্লিনটন রাখেন। এ নাম পরিবর্তনের পেছনে অবশ্য আর্কানসাসের ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার বিষয়টিই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল।

মাউন্ট ম্যাকিনলি ন্যাশনাল পার্কের ডিশ ওয়াশার

১৯৬৯ সালের গ্রীষ্মে হিলারি আলাস্কায় মাউন্ট ম্যাকিনলি ন্যাশন্যাল পার্কে ডিশ ওয়াশারের কাজ করতেন। এরপর তিনি স্যালমন মাছের একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ ক্যানারিতেও কিছুদিন কাজ করেন। সেখান থেকে কিছুদিন পর হিলারিকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর হিলারি সেই প্রতিষ্ঠানের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়ে অভিযোগ করলে প্রতিষ্ঠানটি রাতারাতি বন্ধ করে দেয়া হয়।

আইন পেশা

১৯৬৯ সালে হিলারি মাসাচুসেটের ওয়েলসলি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার স্নাতকের বিষয় ছিল পলিটিক্যাল সায়েন্স। এরপর তিনি বিখ্যাত ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। হিলারি পরবর্তি সময়ে ইউনিভার্সিটি অভ আর্কানসাসে আইনের শিক্ষক ছিলেন। তিনি ওয়াল-মার্ট এবং টিসিবিওয়াই এর বোর্ডের একজন আইনজীবি হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। ওয়াল-মার্টের প্রথম মহিলা আইনজীবি ছিলেন হিলারি। ১৯৭১ সাল থেকে ইয়েলে অধ্যয়নরত থাকা অবস্থা থেকেই হিলারি রোডহ্যাম বিল ক্লিনটনের সাথে ডেটিং শুরু করেন।

মনিকা এবং বিল ক্লিনটন

চিত্রঃ মনিকা এবং বিল ক্লিনটন (Source: news.com.au)

যখন প্রথম প্রকাশিত হয় যে, প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন সাবেক হোয়াইট হাউস ইন্টার্ন মনিকার সাথে প্রণয়ে লিপ্ত তখন হিলারি ক্লিনটন বিষয়টি প্রথম জানার পর বলেছিলেন যে, খবটি রিপাবলিকানদের ষড়যন্ত্রের একটি অংশ, যে ষড়যন্ত্র তারা বিল ক্লিনটন ডেমোক্রেটিক দলের নমিনেশান পাওয়ার পর থেকেই চালিয়ে আসছিল।

৮ বছরে ৮০ দেশ

আমেরিকার ফার্স্ট লেডি হিসেবে রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় ছিলেন। তিনি মাত্র ৮ বছরে ৮০টিরও অধিক দেশে ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি তার অফিস সময়ের ২৫% এরও বেশি সময় ভ্রমণে কাটিয়েছিলেন।

রেড পিপার ফ্লেকস এবং টাবাস্কো সস

ক্লিনটনকে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল সেক্রেটারি অভ স্টেট হিসেবে ভ্রমণের সময় তিনি সর্বদা কি সাথে রাখেন? তার উত্তর বেশ অবাক করা ছিল। সানক্রীম, ব্ল্যাকবেরি এবং আইপ্যাড কনভার্টর বাদেও হিলারি বলেন তিনি সর্বদা সাথে রেড পিপার ফ্লেকস এবং টাবাস্কো সস বহন করেন। হিলারি অবশ্য স্পাইসি খাবার অত্যন্ত বেশি পছন্দ করে থাকেন।

 

This article is in Bengali Language. It is about Hillary Clinton, one of the prominent political figures in US history.

References:

1. http://whatculture.com/history/20-mind-blowing-facts-about-hillary-clinton?

2. http://dailysignal.com/2015/04/12/15-facts-about-hillary-clinton/

Featured Image: www.abcnews.go.com