এই লেখাটি লিখেছেন একজন কন্ট্রিবিউটর।চাইলে আপনিও লিখতে পারেন আমাদের কন্ট্রিবিউটর প্ল্যাটফর্মে।

সেপ্টেম্বর ৬, ১৯৯৭।

লন্ডনের রাস্তা ধরে রাজকীয় প্রতীকে আচ্ছাদিত কফিন বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন রানী এলিজাবেথের  ওয়েলশ গার্ড রেজিমেন্টের কয়েকজন সদস্য। কেনসিংটন প্রাসাদ থেকে অভিযাত্রা শুরু হয়েছে, হাইড পার্ক, রয়্যাল আলবার্ট হল, বাকিংহ্যাম আর সেন্ট জেমস প্রাসাদ ঘুরে উদ্দেশ্য ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবি। বাকিংহ্যাম প্রাসাদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছোট্ট করে মাথা নোয়ালেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। সেন্ট জেমস প্রাসাদ থেকে শবযাত্রার সঙ্গি হলেন রানীর স্বামী ডিউক অফ এডিনবার্গ, প্রিন্স অফ ওয়েলস চার্লস, তার দুই ছেলে রাজপুত্র উইলিয়াম আর হ্যারি, এবং  অ্যালথর্পের আর্ল স্পেন্সার। ফুলে ফুলে ভরা কফিনের উপর অপটু হাতে মায়ের উদ্দেশ্যে লেখা উইলিয়াম আর হ্যারির কার্ড শোভা পাচ্ছিল।

কফিন বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে; Image Source: yahoo.com
প্রিন্সেস ডায়ানার শবযাত্রার পেছনে তার ভাই, চার্লস, উইলিয়াম, হ্যারি এবং ডিউক অফ এডিনবার্গ ©Mirrorpix

রাস্তার দু'ধারে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় এক মিলিয়নের মতো মানুষ। এটি কোনো রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া না হলেও ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবিতে দেশ বিদেশের নামকরা সব ব্যক্তির ভিড়। আছেন বর্তমান এবং প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্ট সদস্য, মার্কিন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন, ফরাসী ফার্স্ট লেডি বার্নাডেট শিরাক, জর্ডান ও নেদারল্যান্ডসের রানী, গ্রীস এবং স্পেনের রাজা, জাপানের রাজপুত্র আর রাজকন্যা, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা, টম হ্যাঙ্কস,টম ক্রুজ, স্টিভেন স্পিলবার্গসহ হলিউড আর সঙ্গীত জগতের অনেক তারকাব্যক্তিত্ব। একসাথে প্রবেশ করলেন বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ এলটন জন এবং জর্জ মাইকেল।

সকাল এগারটায় শুরু হলো প্রিন্সেস অফ ওয়েলস  ডায়ানা স্পেন্সারের শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা। তার দুই বোন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের বক্তব্যের পরে মঞ্চে উঠলেন এলটন জন, পিয়ানোর মূর্ছনায় গাইলেন তার অন্যতম সেরা গান, ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড ১৯৯৭। প্রিন্সেস ডায়ানার সাথে সাথে মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন করে নিল এই গান।  

প্রিন্সেস ডায়ানা

ডায়ানা ফ্রান্সিস স্পেন্সারের জন্ম ১৯৬১ সালে। ভিসকাউন্ট স্পেন্সার এবং তার প্রথম স্ত্রী ফ্রান্সেস রুথের ঘরে। ছেলেবেলা কেটেছে পার্ক হাউজে, যা ছিল রানী এলিজাবেথের স্যান্ডরিংহ্যাম (Sandringham estate) সম্পত্তির অন্তর্গত। ডায়ানার বাবা-মা তার থেকেই এই বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন। ছোট্ট ডায়ানার খেলার সাথি ছিল রাজপুত্র চার্লসের দুই ছোট ভাই, এডওয়ার্ড আর অ্যান্ড্রু।১৯৮০ সালে চার্লসের সাথে ডায়ানার বাগদান হল, পরের বছর মহা ধুমধাম করে হল রাজকীয় বিয়ে। ১৯৮২ সালে তাদের প্রথম সন্তান উইলিয়াম এবং ১৯৮৪ তে দ্বিতীয় সন্তান হ্যারির জন্ম হয়।

লেডি ডায়ানা স্পেন্সার, প্রিন্সেস অফ ওয়েলস; Image Source: gianangelopistoia.eu

লাজুক এবং কিছুটা অন্তর্মুখী স্বভাবের ডায়ানা নিজেকে পাদপ্রদীপের আলোতে গড়ে তুলতে বাধ্য হলেন। তার সৌন্দর্য এবং ফ্যাশন সচেতনতা দ্রুতই তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। বহু সমাজসেবামূলক কাজেও তিনি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু দাম্পত্য সম্পর্কের  টানাপোড়নের জের ধরে ১৯৯৬ সালে চার্লস আর ডায়ানার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। রাজপরিবারের সাথে সম্পর্কের ইতি টানলেও বিচ্ছেদের শর্ত অনুযায়ী বেশ কিছু সুবিধা ডায়ানা ভোগ করতে থাকেন। ততদিনে তিনি পরিণত হয়েছেন গ্লোবাল আইকনে। এইডস, ল্যান্ডমাইন নিষিদ্ধকরণসহ বহু সেবামুলক কার্যক্রমে তার সমর্থন ও সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল। ছেলেদের নিয়ে তিনি প্রায়ই চলে যেতেন সাধারণ মানুষের মাঝে, খেতে বসতেন সাধারণ দোকানে, উঠে পড়তেন সরকারি যানবাহনে। জনগনের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আর জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বেড়েই চলছিল। তাকে অনেকেই বলতেন পিপল’স প্রিন্সেস। কিন্তু খ্যাতিই তার জন্য কাল হয়েছিল। ডায়ানার ছবি তুলতে সারাক্ষণই পাপারাজ্জিরা তাকে ধাওয়া করত। ১৯৯৭ সালের অগাস্টের ত্রিশ তারিখ প্যারিসে  তাদের ধাওয়া থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করার সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় ডায়ানার মৃত্যু হয়। তার বিপুল জনপ্রিয়তা ব্রিটিশ রাজপরিবারকে বাধ্য করে রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করতে। শোক প্রকাশ করতে রানী এলিজাবেথ নিজে সেপ্টেম্বরের পাঁচ তারিখ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

এলটন জন ও প্রিন্সেস ডায়ানা

এলটন জনের সাথে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্পর্ক ডায়ানার পুত্রবধু হয়ে আসবার অনেক আগে থেকেই। রানী এলিজাবেথের বোন মার্গারেট ছিলেন সঙ্গিতের বিরাট ভক্ত। তিনিই উঠতি গায়ক এলটন জনকে আমন্ত্রন জানালেন কেনসিংটিন প্রাসাদের এক নৈশভোজে। তারপর থেকে প্রায়শই রাজপরিবারের নানা অনুষ্ঠানে তিনি আমন্ত্রিত হতেন। প্রিন্সেস মার্গারেটের সঙ্গি হয়ে এলটন বিভিন্ন প্রদর্শনীতে যেতেন, গান গাইতেন প্রিন্স চার্লসের চ্যারিটি আয়োজনে এবং রাজকীয় অনুষ্ঠানে।  তার তারকাখ্যাতিও তখন তরতর করে বাড়ছিল। রানী এলজাবেথের স্বামী ফিলিপ এবং রাজমাতা এলিজাবেথের সাথেও তার পরিচয় হয়েছিল।  

এলটন জন; Image Source: biography.com

১৯৮১ সালে উইন্ডসর প্রাসাদে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর জন্মদিনের আয়োজনে ডায়ানার সাথে এলটনের দেখা হয়। অনুষ্ঠান শেষে চার্লসের তখনকার বাগদত্তা ডায়ানা এলটনকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠিও লিখেছিলেন। তাদের মাঝে দ্রুতই বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু এইডস রোগীদের জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্য একটি বই প্রকাশকালে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। এলটন চেয়েছিলেন ডায়ানাকে দিয়ে বইটির ভূমিকা লেখাতে। কিন্তু তখনও ডায়ানা রাজপরিবারের একজন, এবং এইডস তখন যতটা না রোগ তার থেকে বেশি বিতর্কের ইস্যু। তৎকালীন রক্ষণশীল ব্রিটিশ রাজপরিবার চায়নি নিজেদের এর সাথে সরাসরি জড়িত করতে। কিন্তু পরে ইতালিয়ান ফ্যাশন ডিজাইনার জান্নি ভারসাচের (Gianni Versace) নিহত হলে ১৯৯৭ সালের ১৫ জুলাই তার শেষকৃত্যে তাদের বন্ধুত্ব আবার জোড়া লাগে। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই ডায়ানা মারা যান।

ভারসাচির শেষকৃত্যে এলটন জনকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন ডায়ানা © Reuters

ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড

এলটন জনের সাথে ১৯৬৭ সালে পরিচয় হয় বার্নি টপিনের। টপিন হয়ে উঠেন এলটনের গীতিকার। ১৯৭০ সালে অকালে খ্যাতিমান সঙ্গীতশিল্পী জনাস জপ্লিনের মৃত্যু হলে কেউ একজন তাকে বর্ণনা করতে ক্যান্ডল ইন দ্য উইন্ড বাক্যটি ব্যবহার করেন। টপিনের মাথায় তা গেঁথে গেল। তিনি গান লিখে এলটনের হাতে তুলে দিলে তিনি খুব তাড়াতাড়িই দূর দিয়ে ফেললেন।  

১৯৭৩ সালে গুডবাই ইয়েলো ব্রিক রোড অ্যালবামে গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়।  ১৯৮৬ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের শেষ পর্যায়ে সিডনির এক অনুষ্ঠানে মেলবোর্ন সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার সাথে ক্যান্ডল ইন দ্য উইন্ডের একটি লাইভ ভার্সন রেকর্ড করা হয়। এটি সিঙ্গল হিসেবে পরের বছর আমেরিকা আর ব্রিটেনে মুক্তি দেয়া হল। ব্রিটেনে এর আগেও পুরোনো একটি সংস্করণ মুক্তি দেয়া হয়েছিল, যা মিউজিক চার্টের এগার নম্বরে ছিল। নতুন মুক্তির পর এবার তা পাঁচ নম্বরে উঠে আসে। আমেরিকাতে গানটি ছিল চার্টের ছয়ে। এরপর বিভিন্ন সময়ে কনসার্টে এলটন জন গানটি পারফর্ম করতেন।  মেরিলিন মনরোর শোকগাথা হিসেবে পরিচিত হলেও পরবর্তীকালে টপিন দাবি করেন যে খ্যাতি বিড়ম্বিত যেকোনো তারকার জন্যেই আসলে গানটি যথাযথ। 

ক্যান্ডল ইন দ্য উইন্ডের মূল সুর খ্যাতির প্রচণ্ড চাপে একজন মানুষের দুঃখজনক পরিণতি নিয়ে। একে মেরিলিন মনরোর জীবনগাথা বলেও অনেকে মনে করেন। কারণ গানের শুরুর লাইনটিই  এরকম, “গুডবাই নরমা জিন” (Goodbye Norma Jeane / Though I never knew you at all)। নরমা জন ছিল মেরিলিন মনরোর বাবা-মা’র দেয়া নাম। গানের চরণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কীভাবে তারকাখ্যাতি মনরোকে ক্রমেই ঠেলে দিয়েছিল ব্যথা আর নিঃসঙ্গতায় ভরা এক জীবনের দিকে। গানে এসেছিল তার মৃত্যুর কথা, এবং কীভাবে সেই মৃত্যুকে পুঁজি করে সংবাদপত্রগুলো কাটতি বাড়াতে মেতে উঠেছিল তার নির্মম বয়ান। মেরিলিন মনরোর জীবনকে তুলনা করা হয় বাতাসের মধ্যে মোমবাতির শিখার সাথে। বাতাসের ঝাপটায় বিক্ষিপ্ত শিখা যেমন নিভু নিভু হয়ে যায়, তেমনি খ্যাতির চাপে মনরোর জীবন হয়ে পড়েছিল বিপর্যস্ত। 

ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড-১৯৯৭

ডায়ানার মৃত্যুর পরে রাজপরিবার এলটন জনকে অনুরোধ করল প্রিন্সেস অফ ওয়েলসের সম্মানে একটি গান পরিবেশন করার জন্য। এলটন প্রথমেই ভাবলেন ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ডের কথা। ডায়ানার কাছেও গানটি প্রিয় ছিল। কিন্তু শেষকৃত্যের মতো একটি শোকাবহ অনুষ্ঠানে হলিউড তারকার জীবন নিয়ে গান কতটা উপযুক্ত হবে তা নিয়ে তিনি দ্বিধান্বিত ছিলেন। ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবি থেকেও এই ব্যাপারে প্রশ্ন উত্থাপিত হলো। ফলে এলটন জন বার্নি টপিনের সাথে যোগাযোগ করলেন, যিনি তখন ক্যালিফোর্নিয়াতে। হাতে নতুন গান লেখার সময় নেই। তাই টপিন ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ডের কথার কিছুটা পরিবর্তন করে নতুন রূপ দিলেন, যা ডায়ানার জীবনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গানের প্রথম লাইনটিই ছিল “গুডবাই ইংল্যান্ড’স রোজ”।

ডায়ানার শেষকৃত্যে এলটন জনের পরিবেশনা © Anwar Hussein/Getty Images

৫ সেপ্টেম্বর রিহার্সেলের পরে ৬ তারিখ গানটি পরিবেশন করেন। এলটন নিজেই পরে বলেছিলেন তিনি শুধু ভয় পাচ্ছিলেন গানের চরণ বা সুরে কোনো ভুল করে ফেলেন কি না, অথবা গাইতে গাইতে নিজের আবেগ প্রকাশিত হয়ে পড়ে কি না। এলটন যখন গান শেষ করেন তখন অ্যাবিতে উপস্থিত কারো চোখই শুকনো ছিল না। তার পরিবেশনসহ পুরো অনুষ্ঠান টিভির পর্দায় দেখছিল ৩০ মিলিয়নেরও বেশি ব্রিটিশ, আর বিশ্বব্যাপী আড়াই বিলিয়ন মানুষ তা প্রত্যক্ষ করে।

বাণিজ্যিক সফলতা

৬ সেপ্টেম্বরেই লন্ডনের এক স্টুডিওতে বসে এলটন জন গানটি রেকর্ড করেন। সঙ্গীত পরিচালনা করেন জর্জ মার্টিন, বিটলস ব্যান্ডের সাথে দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্টতার সূত্র ধরে যাকে ডাকা হত দ্য ফিফথ বিটলস। আমেরিকায় রিলিজ হবার এক সপ্তাহের মধ্যেই আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড-১৯৯৭ বিক্রি হয় সাড়ে তিন মিলিয়নেরও বেশি কপি। রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকার হিসেবে ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড-১৯৯৭ এর ১১ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল, যা দশ মিলিয়নের বেশি বিক্রি হওয়া ইতিহাসের একমাত্র ডায়ামন্ড সার্টিফাইড সিঙ্গেল। অক্টোবরের ১১ তারিখ থেকে টানা চৌদ্দ সপ্তাহ চার্টের শীর্ষে অবস্থান করে গানটি।

ইংল্যান্ডে একদিনেই গানটি ইক্রি হয়েছিল সাড়ে ছয় লাখ কপি, যা এক সপ্তাহে গিয়ে দাঁড়ায় দেড় মিলিয়নে। পাঁচ সপ্তাহ ধরে মিউজিক চার্টের প্রথম স্থান ধরে রাখে ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড-১৯৯৭, সর্বমোট বিক্রি হয় প্রায় পাঁচ লাখ কপি। ফলে গানটি পায় ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বাধিক ব্যবসাসফল সিঙ্গেলের মর্যাদা।

কানাডাতে টানা ৪৫ সপ্তাহ এই গান চার্টের প্রথমে ছিল, আর তিন বছর পর্যন্ত ছিল প্রথম বিশটি গানের মধ্যে। বলা হয় মুক্তির পর নাকি প্রথমদিকে প্রতি সেকেন্ডে এই গানের ছয়টি কপি বিক্রি হচ্ছিল। ১৯৯৭ সালে এই গানের জন্য এলটন জন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। ১৯৯৮ সালে তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করা হয়। 

সারা বিশ্বে ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড-১৯৯৭ এর ৩৫ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। গিনেজ বুক অফ রেকর্ডসের হিসেবে সর্বাধিক বিক্রীত সিঙ্গেলের তালিকায় এটি দ্বিতীয়। প্রথম স্থানে থাকা বিং ক্রসবির “হোয়াইট ক্রিসমাস” ৫০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল বলে মনে করা হয়, তবে এর এক বড় অংশই ১৯৫০ সালে মিউজিক চার্টের প্রচলন শুরু হবার আগে, তাই সঠিক সংখ্যা পাওয়া যায় না। ফলে অনেকে ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড-১৯৯৭ কেই সর্বাধিক বিক্রীত সিঙ্গেল দাবি করেন। এর বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে দেয়া হয় প্রিন্সেস ডায়ানার পৃষ্ঠপোষকটায় থাকা চ্যারিটিগুলোকে। চ্যারিটির জন্য ডায়ানা মেমোরিয়াল ফান্ড গঠন করা হয়েছিল। ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত এখানে জমা হয় ১৩৮ মিলিয়ন পাউন্ড, যার ৩৮ মিলিয়নই এসেছিল ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড-১৯৯৭ এর বিক্রইয়লব্ধ অর্থ থেকে।  

দ্বিতীয়বার আর নয়

ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড-১৯৯৭ মানুষের সামনে এলটন জন একবারই পরিবেশন করেছেন, সেটা ডায়ানার শেষকৃত্যে। তার কোনো অ্যালবামেও তিনি এই গানটি যুক্ত করেন নি। কনসার্ট আর টিভি প্রোগ্রামে তিনি পুরোনো সংস্করণটি গাইলেও ডায়ানার উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত সংস্করণটি দ্বিতীয়বার গাইতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, যদি না উইলিয়াম অথবা হ্যারি তাকে অনুরোধ করেন।   

ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড-১৯৯৭ এর সম্পূর্ণ লিরিকস:

Goodbye England's rose
May you ever grow in our hearts
You were the grace that placed itself
Where lives were torn apart
You called out to our country
And you whispered to those in pain
Now you belong to heaven
And the stars spell out your name

And it seems to me you lived your life
Like a candle in the wind
Never fading with the sunset
When the rain set in
And your footsteps will always fall here
Along England's greenest hills
Your candle's burned out long before
Your legend ever will

Loveliness we've lost
These empty days without your smile
This torch we'll always carry
For our nation's golden child
And even though we try
The truth brings us to tears
All our words cannot express
The joy you brought us through the years

Goodbye England's rose
From a country lost without your soul
Who'll miss the wings of your compassion
More than you'll ever know.

This is a Bengali language article about the Elton John song Candle in the Wind-1997. This article describes the events leading to the writing of the song and its performance as a tribute to Princess Diana, Princess of Wales, at her funeral. Necessary references are hyperlinked.

References

  1. John, E. (2019). Me: Elton John Official Autobiography. Henry Holt &.
  2. Candle in the Wind
  3. Candle in the Wind in Goodbye Yellow Brick Road
  4. How 'Candle in the Wind' became an anthem to Princess Diana
  5. Candle in the Wind” 1973 & 1997
  6. Cadden, M (2017). Diana: A funeral fit for a princess. US Today
  7. Diana, princess of Wales: Encyclopedia Britannica

ফিচার ইমেজ © Andres F. Uran /Unsplash