ইতিহাসে যত গোয়েন্দা পুলিশ সংস্থার নাম আছে, তার মধ্যে অন্যতম ব্যাপ্তিশীল গোয়েন্দা পুলিশ ছিল পূর্ব জার্মান রাষ্ট্রের ‘স্টাসি’। এটি ব্যক্তিগত নজরদারি ও তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য কুখ্যাত ছিল। ১৯৮৯ সালে এই সংস্থার প্রায় এক লক্ষ নিয়মিত কর্মী ছিল, অবশ্য কিছু তথ্যমতে, এই সংখ্যাটি ছিল পাঁচ লক্ষ। এছাড়া পূর্ব জার্মানির এক কোটি ষাট লক্ষ জনগণের জন্য প্রায় বিশ লক্ষ ইনফরমেন্ট বা সংবাদদাতা ছিল। এর নিখুঁত জনশক্তি ও সম্পদ একে সমাজের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে।

তারা পূর্ব জার্মান নাগরিকদের কার্যত প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরদারিতে রাখে। হাজার হাজার এজেন্টরা ফোনে আড়ি পাতত, রাজনৈতিক আন্দোলনগুলোয় প্রবেশ করত এবং জনগণের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে রিপোর্ট করত। এমনকি পোস্ট অফিসগুলোতেও কিছু অফিসার নিযুক্ত ছিল। তারা পূর্ব জার্মান নাগরিকদের সাথে কমিউনিস্ট শাসন বহির্ভূত কোনো রাষ্ট্রের আদান-প্রদান করা চিঠি বা পণ্যের প্যাকেট খুলে দেখত। এরা দমননীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করত। কয়েক দশক ধরে স্টাসি অত্যন্ত শক্তিশালী একনায়ক শাসনের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত ছিল। 

পূর্ব জার্মানির পুলিশ স্টাসির কাছে জনগণের সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য ছিল; Image Source: Getty Images

স্নায়ুযুদ্ধের পর উদার গণতন্ত্রের বিজয় হয়। তখন এধরনের পুলিশ সংস্থা আর কার্যকর থাকে না। বৈধ শাসন ব্যবস্থা গঠনে বিশ্বব্যাপী নীতির পরিবর্তন হয়েছিল। ২০০০ সালের দিকে নতুন প্রযুক্তি ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন জনগণের ক্ষমতায়নের অঙ্গীকার করে। এর ফলে প্রতিটি নাগরিক পূর্বের চেয়ে বেশি তথ্য গ্রহণের অধিকার পায়। একই সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নতুন সম্প্রদায় গঠনেও সাহায্য করে এই প্রযুক্তি।

কিন্তু এই উদার গণতন্ত্রকামী ভবিষ্যতের কল্পনা পরবর্তী সময়ে অতি সরল ধারণা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বরং, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বৈরশাসকরা নতুন পদ্ধতিতে নিজেদের ক্ষমতা সংরক্ষণ করতে পারছে, যা অনেকটা স্টাসির মতোই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বয়ংক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে শাসকরা তাদের প্রতিপক্ষের ওপর সহজেই নজরদারি করতে পারছে। এতে চিরায়ত নজরদারি ব্যবস্থার চেয়ে কম অনধিকার চর্চার মাধ্যমেই কাজ করা যায়। ডিজিটাল পণ্যের মাধ্যমে একনায়ক শাসকরা মানব নির্ভর পদ্ধতির চেয়ে বৃহত্তর পরিসরে কাজ করতে পারছে।

শুধু তা-ই নয়, এতে তারা অল্প খরচে কম সরঞ্জামেই নজরদারির কাজ করতে পারছে। যেমন- কোনো অঞ্চলের জনগণের ফোনে পাঠানো ক্ষুদে বার্তা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট বা তাদের চলাফেরা পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য কোনো সফটওয়্যার প্রোগ্রাম কিনতে হয় না। যখন নাগরিকরা টের পায়, তাদের শাসক তাদের ওপর নজর রাখছে, তারা তাদের চলাফেরা বদলে ফেলে। ফলে, শাসকদের আর শারীরিকভাবে দমননীতি প্রয়োগ করতে হয় না।

তবে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন আড়ালেই ছিল। ২০০০ সাল থেকে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নতুন নতুন প্রযুক্তি ইতিবাচক ধ্যান-ধারণার জন্ম দেয় সবার মাঝে। এই আশাবাদ তুঙ্গে ওঠে ২০১০ দশকের শুরুর দিকে। এই সময়ে লিবিয়া, মিসর, তিউনিসিয়া ও ইয়েমেনে বিশ্বের দীর্ঘতম শাসনকালীন চার স্বৈরশাসকের পতন হয়, যার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তখন উন্মুক্ত তথ্য প্রবাহের সুযোগ হয় এবং নাগরিকরা প্রযুক্তি দ্বারা সমৃদ্ধ হয়।

ফলে, মনে করা হয়, প্রযুক্তির বিকাশের ফলে স্বৈরশাসকরা তাদের ক্ষমতা আর দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে পারবে না। কিন্তু বর্তমানে এটা স্পষ্ট যে, প্রযুক্তি আর প্রতিবাদের ভাষা প্রচার করতে পারছে না। শাসকদের দমন নীতির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে দিচ্ছে না। জনগণের ভয়ে স্বৈরশাসকেরা বর্তমানে নিজেদের মধ্যে পরিবর্তন এনেছে। তারা আধুনিক যুগের স্বৈরতন্ত্র পরিচালনার জন্য নতুন প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নিয়েছে।

আরব বসন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম; ©Peter Macdiarmid/Getty Image 

বর্তমানে ডিজিটাল স্বৈরতন্ত্রে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করা হচ্ছে একনায়কতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য। এই ডিজিটাল স্বৈরতন্ত্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন। প্রযুক্তির কারণে জনগণের সরকার বিরোধী আন্দোলন বা প্রতিবাদ চিরায়ত স্বৈরশাসকদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এটি প্রতিরোধ করার জন্য স্বৈরশাসকরা ডিজিটাল বর্ম তৈরি করছে। ফলে, ডিজিটাল একনায়কতন্ত্র পূর্বের চিরায়ত শাসনব্যবস্থার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

সহস্রাব্দের শুরুতে আশাবাদীরা শুনিয়েছিলেন, প্রযুক্তির উন্নতিতে স্বৈরশাসকদের পতন হবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা বলছে, তারা প্রযুক্তিকে আরো ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারছে নিজেদের ক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য।

ডিজিটাল যুগে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ধরনে পরিবর্তন এসেছে। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতো প্রযুক্তির কারণে সাধারণ জনগণ নিষ্ঠুর ও দমনমূলক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে। মাস মোবিলাইজেশন প্রজেক্ট ও অটোক্রেটিক রেজিমসের ডাটা থেকে জানা যায়, ২০০০-১৭ সালের মধ্যে শতকরা ষাট ভাগ স্বৈরশাসক অন্তত একবার সরকার বিরোধী আন্দোলনের সম্মুখীন হয়, যাতে পঞ্চাশ বা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক জনসমাগম ছিল।

এসব আন্দোলনের অনেকগুলোই একনায়ক শাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করতে সক্ষম হয়। ২০০০-১৭ সালের মধ্যে ৪৪ জন স্বৈরশাসকের ১০ জন ক্ষমতাচ্যুত হন জনগণের আন্দোলনের কারণে। আরো ১৯ জন ক্ষমতা হারান নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার মাধ্যমে।

জনগণের প্রতিবাদের উত্থানের কারণে স্বৈরাচারী রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ঐতিহাসিকভাবে স্বৈরশাসকদের কাছে বড় হুমকি ছিল সামরিক কর্মকর্তাদের ক্যু বা অভ্যুত্থান। ১৯৪৬ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ১৯৮ জন স্বৈরশাসকের পতন হয়। তাদের এক-তৃতীয়াংশই ছিল সামরিক কর্মকর্তাদের ক্যু-এর কারণে। অন্যদিকে আন্দোলনের কারণে পতন হয় মাত্র ১৬ শতাংশ শাসকের। কিন্তু বর্তমান শতকে এসে এই চিত্র পালটে গেছে।

২০০১-১৭ সালের মধ্যে সামরিক ক্যু-এর কারণে মাত্র ৯ শতাংশ স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে। অন্যদিকে গণআন্দোলনের কারণে সরকার পতন হয় আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এই সময়ে আরব বসন্ত ছাড়াও বুরকিনা ফাসো, জর্জিয়া ও কিরগিজস্তানের স্বৈরতন্ত্রের অবসান হয় গণ আন্দোলনের কারণে। জনগণের প্রতিবাদই হয়ে ওঠে একবিংশ শতাব্দীর স্বৈরশাসকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে ক্রমবর্ধমান গণআন্দোলনের হুমকি বর্তমানের স্বৈরশাসকদের পরাজিত করতে পারেনি। আগে তারা যখন সামরিক অভ্যুত্থানকে ভয় করত, তখন এটি প্রতিরোধে কৌশলী ব্যবস্থা গ্রহণ করত। এগুলোর মধ্যে ছিল সামরিক কর্মকর্তাদের পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দেওয়া এবং প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি করা, যেন তারা অনুসারী গড়ে তোলার মতো স্বাধীন ক্ষেত্র না পায়।

জনগণের প্রতিবাদের উত্থানের কারণে স্বৈরাচারী রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে; Image Source: history.com

আন্দোলনের চর্চা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বৈরশাসকেরা তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য গণসংহতির হুমকি প্রশমিত করার দিকে মনোযোগ দেয়। ফ্রিডম হাউজের তথ্যানুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে বৈশ্বিকভাবেই রাজনৈতিক ও নাগরিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সিংহভাগ ঘটেছে স্বৈরশাসিত দেশগুলোয়। এসব দেশে স্বৈরশাসকেরা জনগণের রাজনৈতিক ও নাগরিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে জনগণের পক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়া ও আন্দোলন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সুশীল সমাজের চিন্তার অনুশীলনের পথ সংকীর্ণ করার পাশাপাশি স্বৈরশাসিত রাষ্ট্রগুলো ডিজিটাল পণ্যের মাধ্যমে ভিন্নমত দমন করা শিখছে। প্রযুক্তি বর্তমানে প্রতিবাদে সাহায্য করলেও স্বৈরশাসকরা একই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে ‘বিপজ্জনক’ জনআন্দোলন প্রতিরোধ করার জন্য।

ভ্যারাইটিজ অভ ডেমোক্রেসি ও মাস মোবিলাইজেশন প্রজেক্ট থেকে জানা যায়, যেসব স্বৈরশাসক ডিজিটাল দমননীতি প্রয়োগ করে, তারা অন্য স্বৈরশাসকদের তুলনায় গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকিতে কম থাকে। এটি শুধু জনগণের প্রতিবাদের সম্ভাবনাই কমিয়ে দেয় না, বরং দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিক্ষোভ আন্দোলন হওয়ার সম্ভাবনাও কমিয়ে দেয়। ফলে, ২০১০ সালের থাইল্যান্ডের লাল শার্ট বিক্ষোভ ও ২০১১ সালে মিশরের মোবারক বিরোধী আন্দোলনের মতো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কমে যায়। কম্বোডিয়ার উদাহরণ দেখেই বোঝা যায় এই বিষয়।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন ১৯৮৫ সাল থেকে দেশটির ক্ষমতায় আছেন। তার সরকার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য প্রযুক্তির সাহায্য অবলম্বন করেছে। হুন সেনের শাসনামলে চিরায়ত মিডিয়ায় বিরোধী দল সম্পর্কিত খবর প্রকাশ করা সীমিত করা হয়েছে। ফলে, ২০১৩ সালের জুলাইয়ের নির্বাচন পর্যন্ত বিরোধী দলকে অনলাইন মিডিয়া বা ডিজিটাল ক্ষেত্রের ওপর নির্ভর করতে হতো জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য।

২০১৩ সালে কম্বোডিয়ার জনগণের বিক্ষোভ; Image Source: CNN

নির্বাচনে হুন সেনের দল প্রতারণার আশ্রয় নেয়। ফলে হাজার হাজার নাগরিক রাস্তায় নেমে আসে নতুন নির্বাচনের জন্য। সরকার তখন জনগণের বিক্ষোভ দমনের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অনলাইনেও দমন নীতি প্রয়োগ করে। ২০১৩ এর আগস্টে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী সংস্থা সাময়িকভাবে ফেসবুক ব্লক করে দেয়। ডিসেম্বরে সিয়েম রিপ প্রদেশের কর্তৃপক্ষ চল্লিশটিরও বেশি ইন্টারনেট ক্যাফে বন্ধ করে দেয়। পরের বছর সরকার সাইবার ওয়ার টিম গঠন করে।

এটি ইন্টারনেটে নজরদারি করে সরকার বিরোধী কার্যক্রম খুঁজে পেলে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নিযুক্ত থাকে। তার পরের বছর সরকার একটি নতুন আইন করে, যার ফলে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণ চলে আসে সরকারের অধীনে। তখন একটি বাহিনী গঠন করা হয়, যাদের দ্বারা যেকোনো টেলিযোগাযোগ সংস্থার সেবা দেয়া স্থগিত করার ক্ষমতা থাকে। এছাড়া, তারা এসব সংস্থার কর্মচারীদের বহিষ্কার করার ক্ষমতাও পায়। এসব পদক্ষেপের কারণে দেশটিতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ-আন্দোলন অনেকটাই কমে গিয়েছে। ২০১৭ সালে কম্বোডিয়ায় মাত্র একটি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৬।

স্বৈরশাসকেরা শুধু প্রতিবাদ দমনের জন্যই নয়, তাদের শাসনের সনাতন পদ্ধতিগুলোকে আরো দৃঢ় করার জন্যও প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। তারা অনলাইনের বাইরে বাস্তব জীবনেও বিরোধী পক্ষের লোকদের নিপীড়ন ও হত্যার জন্য ডিজিটাল দমননীতি ব্যবহার করে। ফলে, এটি নির্দেশ করে, স্বৈরশাসকদের চিরায়ত দমন নীতি ডিজিটাল ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে না। বরং, চিরায়ত দমননীতিকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে। এতে একনায়ক শাসকরা কাকে বন্দি করবে বা কাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তা আরো সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারছে। সঠিকভাবে প্রতিপক্ষকে লক্ষ করার ফলে নির্বিচারে দমন কার্যক্রম চালনা করতে হয় না। এতে প্রতিবাদের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিও অনেকটা কমে যায়।

আধুনিক স্বৈরতন্ত্রের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সংযোজন উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি সমৃদ্ধ নজরদারি ব্যবস্থা। হাই রেজ্যুলেশন ক্যামেরা, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখা বিশ্লেষণ, বিগ ডাটা প্রযুক্তি নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণের নতুন নতুন পদ্ধতি সৃষ্টি করছে। এই প্রযুক্তিগুলোর মাধ্যমে সরকার তার নাগরিকদের ওপর নজরদারি করতে পারছে, ভিন্নমত দেখলে সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারছে। এমনকি কখনো কখনো কোনো বিক্ষোভ সংঘটিত হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারছে।  

ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি ব্যবস্থার আরো উন্নতি হয়েছে; Image Source: Getty Images

চীনের মতো কোনো দেশের শাসকই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে দমনমূলক কার্যক্রমের জন্য বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। চীনের একমাত্র রাজনৈতিক দল কমিউনিস্ট পার্টির কাছে প্রতিটি নাগরিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অবিশ্বাস্য রকমের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। প্রত্যেকের আয়কর রিটার্ন, ব্যাংকের তথ্য, কেনাকাটার তালিকা, অপরাধ ও মেডিকেল রেকর্ড- সব তথ্য সম্পর্কেই কমিউনিস্ট পার্টি জ্ঞাত। ক্ষমতাসীনরা এসব তথ্যকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ‘সোশাল ক্রেডিট স্কোর’ গঠন করে।

সোশাল ক্রেডিট সিস্টেম হচ্ছে চীনের নাগরিকদের জন্য গ্রহণযোগ্য আচরণ নির্ধারণ করার প্রক্রিয়া। এর দ্বারা চীনের নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কোনো নাগরিক বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বস্ত মনে না হলে রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। এতে অনেকে ডিপোজিট ছাড়া অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার সুবিধা, রেল বা আকাশপথে ভ্রমণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে ক্ষমতাসীনদের দ্বারা জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রক্রিয়া শুধু আরো কঠোরই হবে, যাকে বলা হয় ‘সোশাল ম্যানেজমেন্ট’।

চীন ডিজিটাল দমন প্রক্রিয়া বাস্তব জীবনেও ব্যাপকভাবে অনুশীলন করছে। জিনজিয়াং প্রদেশে চীন সরকার দশ লাখেরও বেশি উইঘুর সম্প্রদায়কে ‘পুনঃশিক্ষা’ ক্যাম্পে আটকে রেখেছে, যারা ক্যাম্পের বাইরে তারাও শহরে বন্দি অবস্থায় আছে। কারণ, শহরগুলো ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার সমৃদ্ধ গেট দিয়ে ঘেরা। সফটওয়্যারই ঠিক করে দেয়- কে গেট দিয়ে যেতে পারবে, কে পারবে না, কাকে সেখানেই আটক করতে হবে।

চীন উইঘুর সম্প্রদায় সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে তাদের মোবাইল ফোন সম্পর্কিত তথ্য, জিনগত তথ্য, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সম্পর্কিত তথ্য ইত্যাদি। এসব তথ্য একত্র করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচিত হওয়া কার্যক্রমকে প্রতিহত করা হয়। 

চীন অনলাইন নজরদারি ও দমন প্রক্রিয়াকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে; © James Ferguson

নতুন প্রযুক্তি চীনকে তাদের সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নজর রাখতেও সাহায্য করছে। একনায়ক শাসকেরা সবসময় নিজের দলের ভেতরের মানুষদের নিয়েই ভীত থাকে। এরা শঙ্কায় থাকে সামরিক অভ্যুত্থান কিংবা নিজ দলের প্রভাবশালী নেতার বিদ্রোহী হয়ে ওঠার। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে শাসকরা সরকারি কর্মকর্তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি কেমন, তা নজরদারিতে রাখতে পারে। সরকারকে কলঙ্কিত করতে পারে, এমন কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হয়। চীন অনলাইনে নাগরিকদের মনের ভাব প্রকাশে অনেক বিধিনিষেধ রাখে। তবে, স্থানীয় শাসকদের নিয়ে কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েইবোতে পোস্ট দিলে তা সেন্সর করে না। কারণ, এতে সরকার স্থানীয় প্রশাসকদের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পায়।

চীন বর্তমানে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে তাদের সেন্সরশিপ প্রক্রিয়াকে আরো নিখুঁত করার জন্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ছবি ও টেক্সট বিশ্লেষণ করা হয়। তারপর সেগুলো থেকে বাছাই করে সরকারের বিরুদ্ধে যায় এমন উপাদান ব্লক করে দেয়া হয়। কিছুদিন আগে হংকংয়ের আন্দোলনের সময় চীনের অভ্যন্তরের ইন্টারনেট থেকে প্রায় তৎক্ষণাৎ সময়েই সরকারের বিরুদ্ধে যায়, এমন তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়।

এরকম সেন্সরশিপ দিয়েও যদি ভিন্নমত দমন করা না যায়, তখন পুরো ইন্টারনেট অথবা নির্বাচিত কিছু সাইটে নাগরিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে প্রতিপক্ষের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারে না, সংগঠিত হতে পারে না এবং তাদের বক্তব্য প্রচার করার সুযোগও পায় না। গত নভেম্বরে ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক হারে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তাদের সরকারও ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়।

চীন ডিজিটাল দমন প্রক্রিয়ায় চালকের আসনে থাকলেও অন্যান্য দেশও পিছিয়ে নেই। অনেক রাষ্ট্রই চীনকে অনুসরণ করছে। রাশিয়া চীনের মতোই তাদের ইন্টারনেটকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখছে। বিশ্বের অনেক দেশই ব্যাপক পরিসরে সেন্সরশিপ প্রক্রিয়া ও স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আফ্রিকার স্বৈরাচারী কিছু রাষ্ট্রের কর্মকর্তারা রীতিমতো চীনে গিয়ে অনলাইনে তাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছে।

প্রযুক্তির ব্যবহার চীনের সরকারকে শুধু নাগরিকদের দমনের ক্ষমতাই দেয়নি, তাদের সহায়তা করার সুযোগও দিয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে চীন সরকারি সেবাগুলো ব্যাপক পরিসরে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। সোশাল ক্রেডিট সিস্টেমের মাধ্যমে তারা সরকারের সমালোচনাকারীদের শাস্তি দেয় এবং বিশ্বস্ত বা আনুগত্য প্রকাশকারীদের পুরষ্কৃত করে। চীনের নাগরিকদের যাদের সোশাল ক্রেডিট স্কোর ভালো থাকে, তারা রাষ্ট্রের বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করতে পারে। এর মধ্যে আছে সহজে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ, বিদ্যুৎ বা পানির বিলে ডিসকাউন্ট পাওয়া, বাস ভ্রমণে সুবিধা পাওয়া ইত্যাদি। এর ফলে একনায়ক শাসকের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিকদের প্রতি সহযোগিতার ভারসাম্য রক্ষা হয়।

স্বৈরশাসকেরা নাগরিকদের কাছে তাদের শাসন ব্যবস্থার যৌক্তিকতা বোঝাতে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে জনগণের মনে তাদের প্রতি একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় একাউন্ট থেকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়িয়ে সমালোচনাকারী পোস্ট থেকে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেয়া হয়।

বর্তমানে অত্যাধুনিক ডিপফেক ও মাইক্রো-টার্গেটিং প্রযুক্তির কারণে বিশ্বাসযোগ্য অডিও, ভিডিও বা ছবি নির্বাচন করা দুরূহ হয়ে পড়ছে। ফলে ডিজিটাল জালিয়াতিও বেড়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে স্বৈরশাসকরা তাদের নাগরিকদের মনোভাব নিজেদের দিকে নিয়ে আসার জন্য ব্যবহার করে। মাইক্রোটার্গেটিং এর মাধ্যমে সরকার নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে বিকৃত তথ্য সরবরাহ করে তাদের প্রভাবিত করতে পারে। অনেকটা বিজ্ঞাপনদাতারা অনলাইনে যেভাবে তাদের টার্গেট ক্রেতাদের কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছায়। অন্যদিকে, ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিপক্ষ নেতাদের বক্তব্য ভুলভাবে জনগণের কাছে উপস্থাপন করা যায়। ফলে, জনমনে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা ছড়ানো যায়।

ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিপক্ষ নেতাদের বক্তব্য ভুলভাবে জনগণের কাছে উপস্থাপন করা যায়; Image Source: Getty Images

স্বৈরশাসকরা নিজেদেরকে জনগণের বন্ধু হিসেবে উপস্থাপনের জন্যও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে। তারা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কিছু উপাদান নাগরিকদের জন্য রাখে। এরকম একটি ব্যবস্থা হচ্ছে অনলাইনে জনগণের মতামত ও বিতর্কে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। চীনের স্থানীয় কিছু প্রশাসক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোলিং ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে নাগরিকদের মতামত প্রদানের সুযোগ দেয়। এতে অল্পশিক্ষিত নাগরিকদের কাছে কমিউনিস্ট পার্টি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। তাদের কাছে এই বার্তা দেওয়া হয় যে, তাদের মতামতও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। যদিও প্রকৃতপক্ষে এগুলো লোক দেখানো কাজকর্ম।   

স্বৈরতন্ত্র প্রযুক্তিকে বরণ করে নেয়ার সাথে সাথে এটি গণতন্ত্রের জন্য ভয়ংকর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে স্বৈরশাসকরা পূর্বের চেয়ে বেশি সময় ক্ষমতা ধরে রাখতে পারছে। ১৯৪৬ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসকদের গড় শাসনামল ছিল দশ বছর। কিন্তু ২০০০ এর পর শাসনামল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তা আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।

যেসব স্বৈরশাসক ভিন্নমত দমনের জন্য প্রযুক্তিকে বেশি ব্যবহার করছে, তাদের শাসনামলই সবচেয়ে বেশি। ২০০০-১৭ সালের মধ্যে এক বছরের বেশি ক্ষমতায় ছিলেন এমন স্বৈরশাসক ছিলেন ৯১ জন। তাদের মধ্যে ৩৭ জন স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে। যারা ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছেন, তারা প্রত্যেকেই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছেন।

আধুনিক স্বৈরশাসকদের প্রযুক্তির কল্যাণে পূর্বের স্বৈরশাসকদের মতো বিশাল পুলিশ বাহিনী গঠনের প্রয়োজন হয় না। পূর্ব জার্মানির স্টাসির মতো পুলিশ বাহিনী গঠন করা দীর্ঘদিন সময়ের ব্যাপার। শাসকদের হাজার হাজার বিশ্বস্ত লোক দরকার হয় এই বাহিনী গঠনের জন্য। তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করতে হয়। বেশিরভাগ স্বৈরশাসকেরই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। পূর্ব জার্মানির প্রতি ৬৬ জন নাগরিকের জন্য একজন গুপ্তচর ছিল।

অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করলে এ সংখ্যা অনেক কম। অবশ্য বর্তমানে উত্তর কোরিয়ায় সবচেয় বড় পুলিশ ও গুপ্তচর বাহিনী রয়েছে তাদের নাগরিকদের জন্য। তাদের প্রতি ৪০ জন নাগরিকের জন্য একজন সংবাদদাতা রয়েছে। অন্যদিকে, ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে প্রতি একজন নাগরিকের জন্য ছিল ৫,০৯০ জন। ডিজিটাল যুগে স্বৈরশাসকদের জনগণকে নজরদারিতে রাখার জন্য এত বিপুল পরিমাণ জনশক্তির প্রয়োজন হয় না।

বর্তমানে স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলো নতুন প্রযুক্তি কিনে সরকারি কর্মকর্তাদের একটি ছোট দলকে প্রশিক্ষণ দেয়। এতে চীনের মতো প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সফল স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলো থেকে সাহায্যও নেয় তারা। হুয়াওয়ে চীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা সম্পন্ন একটি প্রযুক্তি কোম্পানি। এই কোম্পানি অনেকগুলো স্বৈরশাসিত দেশে নজরদারি প্রযুক্তি পণ্যের সরবরাহ করেছে। ২০১৯ সালে উগান্ডার সরকার তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একাউন্ট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা হ্যাক করে। তাদের এই প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয় ইসরাইল ও ইতালির ডিজিটাল ফার্ম থেকে।

ইসরাইলি কোম্পানিগুলো বিশ্বব্যাপী স্বৈরশাসিত অনেকগুলো দেশে গুপ্তচরবৃত্তির সফটওয়্যার বিক্রি করেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে- অ্যাংগোলা, বাহরাইন, কাজাখস্তান, মোজাম্বিক ও নিকারাগুয়া। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোও ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি বিক্রি করছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

স্বৈরশাসকেরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকতে পারে। তাই বর্তমানে স্বৈরতন্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এটি হচ্ছে গণতন্ত্রের আড়ালেই। অর্থাৎ, দেশগুলোতে নামেই গণতান্ত্রিক সরকার কিন্তু কার্যক্রম স্বৈরতন্ত্রের মতো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী আইন প্রয়োগ করা উচিত, যেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা না হয়।   

This is a Bengali article written about digital dictatorship. It is a translated article from Foreign Affairs. 

Reference:

Foreign Affairs

Featured Image: Sebastien Thibault/agoodson.com