প্রায় দেড়শ বছর পর সুপার ব্লু ব্লাড মুন দেখুন এ মাসেই!

শেষ যেবার পৃথিবীর আকাশে ভাস্বর হয়ে উঠেছিলো ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’, সেটা ছিল ১৮৬৬ সালের ৩১ মার্চ। প্রায় ১৫২ বছর বাদে এ বছর ৩১ জানুয়ারিতে আরেকবার পৃথিবী সাক্ষী হতে চলেছে এমন অভূতপূর্ব ঘটনার। পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলে এ মাসে নিশ্চয়ই দুর্লভ এই সুযোগটা ছাড়তে চাইবেন না। আর যদি সেখানে বসবাস করে না থাকেন, দেরি করবেন না আর। প্লেনের টিকেটটা কেটেই ফেলুন। এমন সুযোগ কি আর বারবার আসে?

সুপার ব্লু ব্লাড মুন; Source: Yahoo

প্রশ্ন হচ্ছে, এই ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’ মূলত কী?

সুপার ব্লু ব্লাড মুন আসলে তিনটি ভিন্ন ঘটনার সংমিশ্রণ- একটি সুপারমুন, একটি ব্লু মুন এবং একটি ব্লাড মুন।

সুপারমুন

পূর্ণিমার সময় চাঁদ যখন তার কক্ষপথে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একে আখ্যায়িত করেছেন সুপারমুন হিসেবে। সেখান থেকে জনপ্রিয়তা পেয়েছে শব্দটি। তখন চাঁদ পৃথিবীকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে অতিক্রম করে। সেই সময়টিতে চাঁদ আকারে অনেক বড় দেখায়। সুপারমুনের সময় চাঁদকে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বড় এবং ৩০ শতাংশ দ্যুতিময় মনে হয়। গত ৩ ডিসেম্বরের পর তৃতীয়বার এবং এই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সুপারমুনের দেখা মিলবে পৃথিবীর আকাশে। গত ১ অথবা ২ জানুয়ারিতে আকাশে আলোকিত করেছিল প্রথম সুপারমুন, নাম ছিল উলফ মুন।

ব্লু মুন

কোনো বছরের এক মাসের মধ্যে যদি দু’বার পূর্ণিমার চাঁদ দেখা যায় তবে সেই দ্বিতীয় পূর্ণিমাকে বলা হয় ব্লু মুন। এই সময়টিতে প্রথম পূর্ণিমা সাধারণত মাসের একদম শুরুর দিকে হয়ে থাকে। আর যেহেতু চন্দ্র মাস সাড়ে ২৯ দিনে শেষ হয়, তাই ফেব্রুয়ারি ছাড়া অন্য যেকোনো মাসে দু’বার ফুল মুন হতে পারে। ‘ব্লু মুন’ শব্দটির সাথে এখানে রঙয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। সাধারণত, প্রতি দুই বছর সাত মাসের মধ্যে মাত্র একবার দেখা মেলে এই ব্লু মুনের। আর আমরা যেমন আমাবস্যার চাঁদ বলতে দুর্লভ বস্তু বোঝাই, তেমনই ব্লু মুনের সাক্ষাতের ঠিক এই শর্ত থেকেই তৈরি হয়েছে ইংরেজি অভিব্যক্তি “Once in a blue moon”।

যেহেতু এই জানুয়ারি মাসের প্রথমদিকেই একবার পূর্ণিমা হয়েছে, তাই মাস শেষ হবার দিন আমরা দেখতে পাবো দ্বিতীয় পূর্ণিমার। এবং মজার ব্যাপার হলো, এই বছর আমরা দেখতে পাবো দুটি ব্লু মুন। হ্যাঁ, আগামী মার্চ মাসে দেখা মিলবে দ্বিতীয় ব্লু মুনের। আর সেই কারণে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস কাটবে অমাবস্যায়! প্রতি ১৯ বছরে একবার এই ঘটনা ঘটে।

ব্লাড মুন

সোজা বাংলায় রক্তিম বর্ণের চাঁদ কিংবা রক্ত জোছনা। ব্লাড মুন মূলত চন্দ্রগ্রহণকেই ইঙ্গিত করে, যখন চাঁদ লাল রঙে একাকার হয়ে যায়। সেই সময় পশ্চিমাকাশ জুড়ে ওঠে লালচে রঙের অলক্ষুণে এক চাঁদ। চাঁদের এই রক্তিম বর্ণ ধারণ করা কোনো বিশেষ ঘটনা নয়, তবে কেন অলক্ষুণে?

কারণ, চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ বরাবরই লাল রং ধারণ করে, পার্থক্যটা শুধু গাঢ়ত্বের। আর সেই গাঢ়ত্বের পরিমাণটি নির্দেশ করে পৃথিবীর দূষণের হার। অর্থাৎ রেড মুনে চাঁদের লাল রং গাঢ় হওয়ার মানে হলো, পৃথিবীর বাতাসে ভাসছে প্রচুর পরিমাণে ধূলিকণা।

আর এই মাসের ৩১ তারিখে দেখা যাবে একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। উপরের তিন চাঁদের সমাহার, যা একত্রে সুপার ব্লু ব্লাড মুন!

দেখার সময়সূচি; Source: Nasa

নাসার দেয়া বিবৃতি অনুযায়ী, এ বছর ৩১ জানুয়ারি সূর্যোদয়ে সুপার ব্লু ব্লাড মুন দেখা যাবে উত্তর আমেরিকার আলাস্কা অথবা হাওয়াইয়ে। এবং আপনি যদি মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, রাশিয়ার উত্তরাঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডের অবস্থান করে থাকেন তাহলে তা উপভোগ করতে পারবেন চন্দ্রোদয়ের সময়।

ফিচার ইমেজ- Travel + Leisure

Related Articles