এই লেখাটি লিখেছেন একজন কন্ট্রিবিউটর।চাইলে আপনিও লিখতে পারেন আমাদের কন্ট্রিবিউটর প্ল্যাটফর্মে।

প্রফেসর ইয়ুভাল নোয়াহ হারারি হলেন স্যাপিয়েন্স: অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অব হিউম্যান কাইন্ড, হোমো ডিউস, টুয়েন্টি ওয়ান লেসন্স ফর টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’’র মতো বিশ্বব্যাপী বহুল বিক্রিত ও জনপ্রিয় গ্রন্থের লেখক। তার সামাজিক প্রতিষ্ঠান স্যাপিয়েন্সশিপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থ সাহায্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহনের পর ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের ফান্ডে দশ লক্ষ ডলার দান করেছে। সম্প্রতি তিনি জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন। সাক্ষাতকারটি রোর বাংলার পাঠকদের জন্য ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা হলো।

ডয়চে ভেলে: প্রফেসর হারারি, আমরা একটি বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে ‍দিয়ে যাচ্ছি। পৃথিবী যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তাতে কোন বিষয়টি আপনাকে বেশি ভাবাচ্ছে?

হারারি: আমার ধারণা ভাইরাসটি নিজে সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। একে দমনের জন্য সব রকমের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মানুষের রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো আমাদের ভেতরের শয়তান, আমাদের ঘৃণা-বিদ্বেষ, লোভ এবং অজ্ঞতা। দুঃখজনকভাবে, এই ভাইরাস প্রতিরোধে আমরা বৈশ্বিক সংহতির বদলে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো, অন্য দেশকে দোষারোপ, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দোষারোপের মতো রাস্তা বেছে নিয়েছি।

তবে আমি আশা করি, এই সংকটের বিরুদ্ধে আমরা বৈশ্বিক সংহতি গড়ে তোলার খাতিরে ঘৃণা-বিদ্বেষের বদলে প্রয়োজনীয় সহানুভূতির চর্চা করতে পারব।  তাতে বিপদগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করার মতো উদারতা তৈরি হবে আমাদের মধ্যে। তাছাড়া প্রচলিত ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলোর বদলে প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করার মতো সক্ষমতা তৈরি করতে হবে আমাদের। আমরা যদি এই শর্তগুলো পূরণ করতে পারি, তবে নিঃসন্দেহে আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।

ডয়চে ভেলে: আপনি বলেছিলেন, আমাদের সামনে এই সংকট থেকে উত্তোরণের জন্য দুটি পদ্ধতির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে। একটি হলো সর্বাত্মক নজরদারিমূলক ব্যবস্থা, অপরটি নাগরিকদের ক্ষমতায়ন। আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে এই মহামারি নজরদারির ইতিহাসে একটি সন্ধিক্ষণ হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু যে বিষয়টি আমার আয়ত্তের বাইরে, সে বিষয় সম্পর্কে আমি কিভাবে সচেতন থাকতে পারি?

হারারি: এটি পুরোপুরি আপনার আয়ত্তের বাইরে নেই; অন্তত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় তো বটেই। আপনি কোনো একজন বিশেষ রাজনীতিবিদ এবং নির্দিষ্ট কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারেন। তারা সংসদে গিয়ে বিশেষ কোনো নীতি নির্ধারণ করতে পারে। অর্থাৎ এই রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আপনার কিছু ক্ষমতা রয়েছে বলা যায়। যদি এখন কোনো নির্বাচনী ব্যবস্থা না-ও থাকত, তারপরেও রাজনীতিবিদেরা জনগণের চাপ কবুল করতেন। জনগণ যদি এই মহামারিতে আতঙ্কিত হয়ে এমনটা চায় যে, কোনো একজন শক্তিশালী নেতা এই সংকট সামাল দিক, তাহলে একজন একনায়কের পক্ষে এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা সহজ হবে। অন্যদিকে, কোনো রাজনীতিবিদ সীমা অতিক্রম করে গেলে যদি জনগণের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে এর ফলে একটি ভয়াবহ পরিণতি থেকে বেঁচে যাওয়া সম্ভব।

ইয়ুভাল নোয়াহ হারারি হলেন এই সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসবিদ এবং দার্শনিক; Image Courtesy: Kurier

ডয়চে ভেলে: আমি কীভাবে বুঝব যে, কোন বিষয় বা কোন ব্যক্তির উপর আস্থা রাখা যাবে?

হারারি: প্রথমত, আপনার অতীতের অভিজ্ঞতা রয়েছে। যে সকল রাজনীতিবিদ বছরের পর বছর আপনাকে মিথ্যা কথা বলে গেছে, এই সংকটে তাদের উপর আস্থা রাখার কোনো যুক্তি নেই। দ্বিতীয়ত, মানুষজন আপনাকে যে-সকল তত্ত্বের গল্প শোনায়, সেগুলোর ব্যাপারে আপনি প্রশ্ন তুলতে পারেন। যদি কেউ আপনার কাছে এসে এই ভাইরাসের উৎপত্তি এবং ছড়িয়ে পড়া সম্পর্কে কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা বলে, তাহলে তাকে ভাইরাস কী এবং কীভাবে তা ছড়িয়ে পড়ে সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে বলবেন। যদি সে বা তারা এর সদুত্তর দিতে না পারে, তাহলে বুঝবেন তার এ বিষয়ে প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। এই মহামারি সম্পর্কে তার কোনো কথায় বিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই। আপনার নিজের জীববিজ্ঞানে পি.এইচ.ডি. করার দরকার নেই। শুধু এ সকল বিষয়ে প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক কিছু বোঝাপড়া থাকাটা জরুরি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা দেখেছি লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতিবিদগণ বিজ্ঞানকে এই বলে আক্রমণ করছেন যে, বিজ্ঞানীরা হলেন জনবিচ্ছিন্ন কুলীন, জলবায়ু পরিবর্তন আসলে একটা ধাপ্পাবাজি ইত্যাদি। এদের কথায় আপনার বিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই। এই সংকটের মূহুর্তে বিশ্বজুড়ে দেখা গেছে, মানুষ আর সবকিছুর উপরে বিজ্ঞানের প্রতিই আস্থা রাখে।

আমি আশা করব, শুধু এই সংকটের সময়েই নয়, মানুষ যেন এটি বিপদ কেটে গেলেও মাথায় রাখে। আরো আশা করব যাতে আমরা বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ভাইরাস এবং বিবর্তনবাদ সম্পর্কে ভালোভাবে বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা দিই। এই মহামারি ছাড়াও বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তন, বাস্তুতন্ত্রের বিনাশ এবং এ জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে যে সতর্কবার্তাগুলো দিয়েছেন, সেগুলো যেন একই রকম গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়।

ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা বিপদ ডেকে আনতে পারে; Image Courtesy: Odyssey

ডয়চে ভেলে: বহু দেশ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ডিজিটাল নজরদারি পদ্ধতির প্রয়োগ করছে। এই বিষয়গুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়?

হারারি: যখন আপনি নাগরিকদের উপর নজরদারি বাড়াবেন, তখন একই সাথে আপনার সরকারের উপরও নজরদারি বাড়ানো উচিত। এই সংকটের মধ্যে সরকারগুলো জলের মতো অর্থ ব্যয় করছে। আমেরিকা দুই ট্রিলিয়ন ডলার, জার্মানি কয়েকশত মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ ঘোষণা করেছে। নাগরিক হিসবে আমি জানতে চাই, কে এই সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে এবং বরাদ্দগুলো যাচ্ছে কোথায়। এই অর্থ দিয়ে কি সে সকল বৃহৎ প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে, যারা কি না তাদের ব্যবস্থাপকদের ভুল সিদ্ধান্তের ফলে এই মহামারির পূর্বে থেকেই লোকসানের মধ্যে ছিল? অথবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়, রেস্টুরেন্ট এবং দোকানের মতো জায়গাগুলোতে অর্থসাহায্য দেওয়া হচ্ছে কি না। কোনো সরকার যদি নজরদারির ব্যাপারে খুব আগ্রহী হয়ে থাকে, তাহলে তা হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক। তাতে যদি তারা বলে, “দেখুন, বিষয়টা একটু জটিল। আমরা আমাদের সবগুলো অর্থ স্থানান্তরের দলিল উন্মুক্ত করে দিতে পারি না।” তাহলে আপনি বলতে পারেন, “না। এটা খুব বেশি জটিল বিষয়ও নয়। যেভাবে আমি প্রত্যেকদিন কোথায় যাই এটা জানতে একটি বিশাল নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই আপনারা আমার করের টাকা কোথায় ব্যয় করছেন তা দেখানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

ডয়চে ভেলে: এই পদ্ধতি কাজ করে কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা পুঞ্জীভূত হতে না দিয়ে ক্ষমতার বন্টনের মাধ্যমে।

হারারি: একদম। আপনি যদি করোনায় আক্রান্ত কোনো রোগীর কাছাকাছি থাকা কোনো ব্যক্তিকে সতর্ক করতে চান, তাহলে দুটি উপায় আছে। একটি হলো, কোনো একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকদিনের তথ্য সংগ্রহ করবে এবং আপনি কোনো করোনা বাহিত রোগীর সংস্পর্শে থাকলে আপনাকে সতর্ক করে দেবে। আরেকটি উপায় হলো, কেন্দ্রীয় কোনো কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই দুটি মোবাইল ফোন একে অপরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবে। আমি যদি ভাইরাস বাহিত কোনো রোগীর পাশ দিয়ে হেঁটে যাই, তাহলে তার এবং আমার ফোন দুটি নিজেরাই নিজেদের সাথে যোগাযোগ করে নিয়ে আমাকে সতর্ক করে ‍দিবে। তাতে কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ সকলের তথ্য সংগ্রহ করে সবাইকে অনুসরণ করবে না।

ডয়চে ভেলে: এই মহামারির কারণে সম্ভাব্য নজরদারি ব্যবস্থা একধাপ এগিয়ে গিয়েছে। আপনি যাকে বলবেন ‘চামড়ার নীচের নজরদারি’। আমাদের শরীরের নরম চামড়া ফেটে যাচ্ছে। এই বিষয়ে আমাদের কী করণীয়?

হারারি: আমাদের এই বিষয়ে খুব খুব সতর্ক হওয়া উচিত। চামড়ার উপরের নজরদারি ব্যবস্থা লক্ষ্য করে আপনি বাইরের জগতে যা করছেন, আপনি কোথায় যাচ্ছেন, কার সাথে দেখা করছেন, টিভিতে কী দেখছেন, অনলাইনে কোথায় ভিজিট করছেন। এটি আপনার শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে না। চামড়ার নীচের নজরদারি ব্যবস্থা আপনার শরীরের ভেতরে কী ঘটছে তা লক্ষ্য করে। শরীরের তাপমাত্রা থেকে শুরু করে আপনার রক্তচাপ, হৃদস্পন্দনের হার, মস্তিষ্কের কার্যাবলির মতো বিষয় এটি পর্যবেক্ষণ করে। একবার এটি শুরু করতে পারলে আপনি পূর্বের যেকোনো সময়ের ‍তুলনায় মানুষের সম্পর্কে অনেক অনেক বেশি জানতে পারবেন।

আপনি এমন একটি সর্বগ্রাসী শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবেন, যার অস্তিত্ব পূর্বে কখনো ছিল না। আপনি যদি জানতে পারেন আমি কী পড়ছি বা আমি টেলিভিশনে কী দেখছি, তাহলে আমার সাহিত্যরুচি বা আমার রাজনৈতিক দর্শন এবং আমার ব্যক্তিত্ব সম্পর্ক আপনি কিছু ধারণা পাবেন। তারপরও এটি সীমিত। এখন চিন্তা করুন, প্রবন্ধটি পড়ার সময় বা প্রোগামটি টেলিভিশনে বা অনলাইনে দেখার সময় আপনি আমার শরীরের তাপামাত্রা, রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দনের মতো বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। তাহলে আপনি জানতে পারবেন প্রতিমূহুর্তে আমি কী অনুভব করছি। এই প্রযুক্তি দিয়ে খুব সহজেই একটি সর্বগ্রাসী নারকীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

তবে এটি অনিবার্য নয়। আমরা চাইলে তা প্রতিরোধ করতে পারি। কিন্তু তা করতে হলে প্রথমত আমাদের এই নজরদারি ব্যবস্থার বিপদ সম্পর্কে অনুধাবন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, এই জরুরি অবস্থার মধ্যে আমরা কী ঘটতে দিচ্ছি সে বিষয়ে সতর্ক থাকা লাগবে।

একুশ শতকের জন্য একুশটি শিক্ষা নিয়ে হাজির হয়েছেন হারারি; Image Courtesy: Yuval Noah Harari

ডয়চে ভেলে: এই সংকট কি আপনার নিজের আঁকা একুশ শতকের মানুষের প্রতিচ্ছবিকে পুনরায় সংশোধনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?

হারারি: আমি ঠিক জানি না। কারণ এটা নির্ভর করছে এই মূহুর্তে আমরা কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি তার উপর। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় শ্রেণীর বিপদটি নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি এই সংকটের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়তা বেড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে রোবট এবং কম্পিউটার মানুষকে ক্রমবর্ধমান হারে প্রতিস্থাপিত করছে। কারণ মানুষ এখন গৃহবন্দি। তাছাড়া মানুষের সংক্রমিত হওয়ার ভয় আছে, রোবটের তা নেই। আমরা হয়তো দেখব, বিভিন্ন দেশ তাদের বেশ কিছু শিল্প-কারখানা নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং অ-বিশ্বায়নের ফলে, বিশেষভাবে সস্তা কায়িক শ্রমের উপর নির্ভরশীল উন্নয়নশীল দেশগুলো হঠাৎ করেই বিপুল পরিমাণে অপ্রয়োজনীয় শ্রেণীর মানুষ আবিষ্কার করবে, যারা কি না তাদের কাজ হারিয়েছে স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কিংবা এজন্য যে, তাদের কর্মক্ষেত্র স্থানান্তরিত হয়ে গেছে।

একই ঘটনা ধনী দেশগুলোর মধ্যেও ঘটতে পারে। বর্তমান সংকট চাকরির বাজারে বিস্ময়কর রকমের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। মানুষ বাসায় বসে অনলাইনে কাজ করছে। আমরা যদি সতর্ক না হই, তাহলে অন্তত কয়েকটি খাতে সংগঠিত শ্রমব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। তবে এটিও অনিবার্য নয়। এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এই অবস্থায় আমরা নিজেদের দেশে বা বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার সিদ্ধান্ত নিতে পারি। বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো শিল্প এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচুর পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে। তারা এর সাথে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার শর্ত জুড়ে দিতে পারে। সুতরাং বলা যায়, সবকিছু নির্ভর করছে আমাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর উপর।

ডয়চে ভেলে: ভবিষ্যতের ইতিহাসবিদগণ আমাদের বর্তমান মূহুর্ত সম্পর্কে কী বলবেন?

হারারি: আমার ধারণা ভবিষ্যতের ইতিহাসবিদগণ একে একুশ ‍শতকের ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনকারী সময় হিসেবে দেখবেন। কিন্তু আমরা কোনদিকে মোড় নেব, সেটা নির্ভর করবে আমাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর উপর। এটা অনিবার্য কোনো বিষয় নয়।

This is a bengali tranlated interview by Yuval Noah Harari on Coronavirus and its after effects on the world in different sectors.

Reference

1. The Biggest Danger Is Not the Virus Itself

Feature Image: Diario de Sevilla