২০২৬ সাল নাগাদ ‘মবিওয়ান’ নামের উড়ন্ত ট্যাক্সি নামাবে এয়ারস্পেস

স্বয়ংক্রিয় আকাশ ভ্রমণ

স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রিক গাড়ি রাস্তাঘাটে মানুষের চলাফেরার ধরণ পাল্টে দিলেও উড়ন্ত ট্যাক্সি আমাদের একেবারে মাটি থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছে। ডেট্রয়েটের কোম্পানি ‘এয়ারস্পেসএক্স‘ এ মাসের শুরুতে উত্তর আমেরিকার আন্তর্জাতিক অটো প্রদর্শনীতে ‘মবিওয়ান’ নামের উড়ন্ত ট্যাক্সি প্রদর্শন করেছে।

স্বয়ংক্রিয়তাকে মাথায় রেখে মবিওয়ানের নকশা তৈরি করা হয়েছে। এটি ২-৪ জন যাত্রী অথবা ২০০ কেজি পণ্য নিয়ে বিমানবন্দর বা শহরের কেন্দ্রে ৬০ মাইল পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। এটি মাটি থেকে হেলিকপ্টারের মতো করে আরোহণ করলেও পাখার অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে প্লেনের মতো করে সর্বোচ্চ ২৫০মিটার/সেকেন্ড বেগে উড়তে পারে।

প্রদর্শনীতে মবিওয়ান;  Source: AirSpaceX

যাত্রীদেরকে ব্রডব্র্যান্ডের মাধ্যমে উচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে। এছাড়াও এটিতে সংঘর্ষ এড়ানো এবং নিরাপদ বার্তা প্রেরণের ব্যবস্থাও রয়েছে। মবিওয়ান নিজে নিজে শিখতে ও পাইলটের থেকে ইঙ্গিত নিতে সক্ষম। আপাতত প্রতিটি ফ্লাইটের জন্য একজন করে নিরাপত্তা পাইলট রয়েছেন।

এয়ারস্পেসএক্স এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জন রিমানেলির মতে, মবিওয়ান পরিচ্ছন্ন, শান্তিপূর্ণ এবং চাহিদা সাপেক্ষে ন্যায্য মূল্যে আকাশযাত্রা প্রদান করবে। অবশ্য তিনি সম্ভাব্য খরচের কথা উল্লেখ করেন নি। তিনি বলেন, “বাস্তবতা হচ্ছে, সকলেই যানবাহনকে সমস্যা মনে করে। অটো কোম্পানিগুলো যানবাহন কমাতে স্বয়ংক্রিয়তার দিকে নজর দেয়নি।

আকাশপথের সীমিত জায়গা

নিউ অ্যাটলাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু ট্যাক্সি হিসেবে ব্যবহার করা ছাড়াও মবিওয়ান চিকিৎসা ও উদ্ধারকার্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। এমনকি একে গবেষণা ও নজরদারির কাজেও ব্যবহার করা যাবে।

মবিওয়ানের একটি মডেল; Source: The Electric VTOL News

রিমানেলি দাবি করেন, মবিওয়ান ২০২০ সালে বাহ্যিক প্রদর্শনী শুরু করবে। এয়ারস্পেসের প্রধান বাণিজ্যিক অফিসার জেপি ইয়োরো ২০২৬ সালের মাঝে ২,৫০০ মবিওয়ান ছাড়ার পরিকল্পনার কথা জানান। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বড় শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি জানান, মবিওয়ানের কার্যক্রম পুঁজি সংক্রান্ত হলেও আকাশপথে যাত্রার সেবা অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, “আমরা অর্থায়নের একটি বড় খাতের ব্যাপারে বিবেচনা করছি।

এয়ারস্পেসএক্স মনে করে, মবিওয়ান স্থলের যানবাহন ও ভ্রমণের সময় কমাতে সাহায্য করবে। তবে তারাই উড়ন্ত ট্যাক্সির নিয়ে কাজ করা একমাত্র কোম্পানি না যারা এই কথা ভাবছে। উবার, নাসা, এয়ারবাস এবং বোয়িংয়ের কাজেও এ ধরনের উড়ন্ত ট্যাক্সির ধারণা রয়েছে।

আকাশপথ তুলনামূলকভাবে খালি দেখালেও পর্যাপ্ত পরিমাণে উড়ন্ত ট্যাক্সি আকাশপথকে যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও মূল্যবান করে তুলবে, বিশেষত যদি সেগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার উপর দিয়ে চলায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। কোনো সন্দেহ নেই যে, উড়ন্ত ট্যাক্সির ধারণাটি খুব রোমাঞ্চকর, তবুও দেখার বিষয় এটি কতটুকু বাস্তবসম্মত।

ফিচার ইমেজ: The HUB Detroit

Related Articles