সপ্তম পর্ব: দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার: বিপদশঙ্কুল যাত্রা

জীবনের শেষ বছর। আলেকজান্ডার বুঝতে পেরেছিলেন, তার জীবনের শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে। ব্যথা দিন দিন বুকের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে, আর সেইসাথে মদ্যপানও বেড়ে চলেছে ক্রমাগত। আলেকজান্ডার পরিণত হয়েছেন তার নিজের ছায়াতে।

পার্সেপোলিসে ফেরার পর তিনি খবর পেলেন, পাসারগাডে সাইরাসের সমাধিতে কারা যেন লুটপাট চালিয়েছে। খবর পেয়েই সোজা ছুটে গেলেন সমাধির দিকে। আলেকজান্ডার সমাধি আবার সংস্কার করার আদেশ দেন, যেটি এখনো ইরানের মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘক্ষণ সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেন তিনি। বুঝতে পারলেন, ক্ষমতা আর খ্যাতি কত দ্রুত চলে যায়।

পাসারগাড থেকে আলেকজান্ডার সুসায় ফিরে সেখানে দারিউসের মেয়ে বারসিনকে বিয়ে করার ইচ্ছা পোষণ করলেন, সাথে তার প্রিয় বন্ধু হেফাস্টিওনকেও বিয়ে দিলেন বারসিনের ছোট বোনের সাথে। একইসাথে ৮০ জন সেরা মেসিডন অফিসারের সাথে পারস্যের ৮০ জন অভিজাত পরিবারের সাথে বিয়ে হয়ে গেল। এই ‘গ্র্যান্ড ওয়েডিং’য়ের প্রায় পুরোটাই হয়েছিল পারস্য সংস্কৃতি অনুযায়ী, ফলে তার মেসিডোনিয়ান বাহিনীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে আর ঠিক হয়নি।

এবার মেসিডোনিয়ানরাও একমত হলো যে, আলেকজান্ডার এবার সীমা অতিক্রম করে ফেলেছেন। তারা যে অকুতোভয় মেসিডোনিয়ান আলেকজান্ডারকে চিনতো, সেই আলেকজান্ডার এখন রূপ নিয়েছে পার্সিয়ান হিসেবে। থেসালির পাহাড়, পেল্লা কিংবা অ্যাথেন্সের চেয়ে সুসা, পার্সেপোলিস আর ব্যাবিলনই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আলেকজান্ডারের কাছে মেসিডোনিয়ানদের তুলনায় পার্সিয়ানরাই এখন বেশি প্রাধান্য পায়।

সুসার গ্র্যান্ড ওয়েডিং; Image Source: American Gallery

এদিকে হেফাস্টিওন আর তার কিছু সাঙ্গোপাঙ্গো হয়ে উঠেছে অসুস্থ হয়ে পড়া আলেকজান্ডারের একান্ত সহচর। তাদেরকে এড়িয়ে আলেকজান্ডারের কাছে কোনোভাবেই পৌঁছানো সম্ভব না অন্য মেসিডন সেনাদের। মেসিডোনিয়ানদের একসময়ের একান্ত খোলামেলা আলেকজান্ডার আড়ালে পড়ে গেলেন তার অনুচরদের কাছে। অনেকের মতে, হেফাস্টিওন শেষপর্যন্ত আলেকজান্ডারের প্রতি বিশ্বস্তই ছিলেন, আবার অনেকে মনে করেন, হেফাস্টিওন এই ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে আলেকজান্ডারের প্রতি মেসিডোনিয়ানরা তাদের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটাল, যখন আলেকজান্ডার ১০ হাজার সৈন্যকে সামনে রেখে ঘোষণা দিলেন,

“তোমাদের আর দরকার নেই। তোমরা ইচ্ছা করলে মেসিডোনিয়ায় ফিরে যেতে পারো।”

যাদের সাহায্যে আলেকজান্ডার এই বিশাল এশিয়ার মালিক হলেন, তারা এ কথা শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়লো। বিয়াস নদীর তীরে যে পরিস্থিতি হয়েছিল, তখন হয়তো সবাই নির্দ্বিধায় মেসিডোনিয়ার পথে হাঁটা দিত। কিন্তু পারস্যের এই প্রান্তরে আলেকজান্ডারের এ ঘোষণা শুনে রাগে ফেটে পড়লো তারা, কেউ কেউ চিৎকার করে বললো,

“তুমি বাড়ি যাও। নিজের বাবার সাথে মরুভূমিতে হেঁটে আসো!”

আলেকজান্ডার ততক্ষণ স্বাভাবিকই ছিলেন, কিন্তু আমুনকে উদ্দেশ্য করে বলা এই কথায় আলেকজান্ডার সোজা ঐ সৈন্যের সামনে লাফ দিয়ে নেমে ঘুষি মারতে থাকলেন। সৈন্যরা আলেকজান্ডারকে একপাশে সরিয়ে দিয়ে সবাই একসাথে এ কাজের জন্য ক্ষমা চাইলেন। এরপর আলেকজান্ডার ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে আবারো ঘোষণা করলেন, যারা মেসিডোনিয়ায় ফিরতে চায়, তারা ফেরত যেতে পারে আর যারা পারস্যে থাকতে চায়- তারা এখানেই থাকতে পারবে।

মেসিডোনিয়ান বাহিনী তখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। আলেকজান্ডারের নাটকীয় জীবনের শেষ অঙ্কগুলো খুব দ্রুত ঘটতে থাকলো। একসময়ের শৌর্য-বীর্য আর সাহসে ভরপুর আলেকজান্ডার তার ক্ষত আর মদের নেশায় ক্রমেই হারিয়ে যেতে থাকলেন। সারারাত জেগে থাকার ফলে দিনের মাত্র তিন ঘণ্টা তিনি জেগে থাকতেন নিজের রাজত্ব দেখাশোনার জন্য!

এদিকে হঠাৎ করেই মারা গেলেন হেফাস্টিওন। সুস্থ, সবল হেফাস্টিওনের মারা যাওয়ার মতো তেমন কোনো অসুস্থতাই ছিল না। তাকে কি বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল? এ প্রশ্নের উত্তর ইতিহাসবিদরা দিতে পারেননি। এর কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে এই সন্দেহ একেবারে উড়িয়েও দেওয়া যায় না। ঠিক সে সময়েই মেসিডোনিয়া থেকে উড়ে এলেন ক্যাসান্ডার, মেসিডোনিয়ায় আলেকজান্ডারের প্রতিনিধি অ্যান্টিপ্যাটারের ছেলে। জানালেন, ক্রমেই ক্ষমতা নিয়ে আলেকজান্ডারের মা অলিম্পিয়াস আর তার বাবা অ্যান্টিপ্যাটারের দ্বন্দ্ব তুঙ্গে উঠেছে। এই সমস্যার সমাধান চাইতে তিনি মেসিডোনিয়া থেকে এখানে এসেছেন।

তবে আলেকজান্ডার এই দ্বন্দ্ব মীমাংসা করার মতো অবস্থায় ছিলেন না, হেফাস্টিওনের শোকে পাথর আলেকজান্ডার টানা দু'দিন ধরে হেফাস্টিওনের মৃতদেহ আঁকড়ে ধরে পড়ে রইলেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তার শোক কিছুটা কমার পর তিনি অবশেষে আবার জনসাধারণের সামনে হাজির হলেন। তারপর ক্যাসান্ডারের হাতে মা অলিম্পিয়ার কাছে চিঠি পাঠিয়ে দিলেন, মেসিডোনিয়ায় তার প্রতিনিধি অ্যান্টিপ্যাটারই থাকছে আর মা অলিম্পিয়াসকে অনুরোধ করলেন, অ্যান্টিপ্যাটারের সাথে কম ঝামেলায় জড়ানোর জন্য।

হেফাস্টিওনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া; Image Source: The World of Alexander

হেফাস্টিওন মারা যাওয়ার পর আলেকজান্ডার এবার তার বাহিনী নিয়ে একবাটানা থেকে ব্যাবিলনের দিকে এগিয়ে গেলেন। ব্যাবিলনে ঢোকার আগে তার সামনে হাজির হলো কয়েকজন পুরোহিত, ব্যাবিলনে এ মুহূর্তে ঢোকা অশুভ বলে আলেকজান্ডারকে ব্যাবিলনে প্রবেশ করতে নিষেধ করলেন তারা। কয়েক বছর আগেও আলেকজান্ডার পুরোহিতদের এসব আশঙ্কা অগ্রাহ্য করেই ঢুকে পড়তেন, কিন্তু আলেকজান্ডার সেই ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন বহু আগেই। ব্যাবিলনের পশ্চিম পাশে বাহিনী নিয়ে ক্যাম্প করার নির্দেশ দিলেন তিনি। কয়েক সপ্তাহ পর আলেকজান্ডার যখন ব্যাবিলনে ঢুকলেন, তখন তার শরীরের অবস্থার আরো অবনতি ঘটেছে। দু-তিন সপ্তাহের মধ্যেই আলেকজান্ডার হাঁটার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেললেন।

মৃত্যুশয্যায় আলেকজান্ডার; Image Source: Helenica World

জুনের প্রথমদিকে আলেকজান্ডার মেসিডোনিয়ান সৈন্যদের সাথে শেষবার দেখা করার ইচ্ছা পোষণ করলেন। সৈন্যরা এক এক করে আসতে থাকলেন আর আলেকজান্ডার মাথা সামান্য নেড়ে কিংবা ভ্রূ কুঁচকিয়ে তাদের সাথে শেষবার মোলাকাত করলেন। আলেকজান্ডার মারা গেলেন জুনের ১০ তারিখ। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে তার কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তার উত্তরাধিকারী কে হবেন? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "আমার পরে শ্রেষ্ঠ যে"। বয়স ৩৩ বছর হওয়ার একমাস আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। আলেকজান্ডারের মৃত্যুর সংবাদ যখন অ্যাথেন্সে পৌঁছুলো, তখন একজন অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো,

"আলেকজান্ডার মৃত! অসম্ভব! তিনি মারা গেলে পৃথিবীর প্রতিটা কোণা থেকে তার মৃত লাশের গন্ধ ভেসে আসত।"

আলেকজান্ডারের সময়ের প্রায় আড়াইশো বছর পরে জন্ম নেওয়া ডিওডোরাসের লেখায় উঠে এসেছে মৃত্যুর কয়েকমাস আগে আলেকজান্ডারের বিশ্বজয়ের পরিকল্পনা। তার মতে, আলেকজান্ডার সুস্থ হয়ে ওঠার পর আরব মরুভূমির উত্তর অংশে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিলেন। তারপর সেখান থেকে ভূমধ্যসাগরে বিশাল নৌবহর নিয়ে একে কার্থেজ আর উত্তর আফ্রিকার বেশ কিছু অংশ দখল করে, সেখান থেকে জিব্রাল্টার হয়ে উত্তর দিকে সমগ্র ইউরোপ দখল করার লক্ষ্যও ছিল তার।

তবে আলেকজান্ডারের শারীরিক অবস্থা তখন এতয়াই খারাপ ছিল যে অনেক ইতিহাসবিদের মতে আলেকজান্ডারের পক্ষে এই পরিকল্পনা করা একপ্রকার অসম্ভবই ছিল। আবার কারো কারো মতে, এই পরিকল্পনা আলেকজান্ডারের উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রমাণ দেয়। 

আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর মুহূর্তের মধ্যেই এই বিশাল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী কে হবে, তা নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়ে গেল। আলেকজান্ডারের পরিষ্কার নির্দেশের অভাবে অনেকেই দাবি করে বসলো, সে-ই আলেকজান্ডারের প্রকৃত উত্তরাধিকার। আলেকজান্ডারের স্ত্রী রোকসানা আর তাদের সন্তান চতুর্থ আলেকজান্ডার সিংহাসন দাবি করে বসলেন, ষড়যন্ত্র করে মেরেও ফেলা হলো আলেকজান্ডারের দ্বিতীয় স্ত্রী বারসিন আর তার নবজাতক সন্তানকে। আলেকজান্ডারের মা অলিম্পিয়াসও আলেকজান্ডারকে হত্যা করার পেছনে অ্যান্টিপ্যাটারের হাত রয়েছে দাবি করে মেসিডোনিয়ার রাজত্ব দাবি করলেন। আলেকজান্ডারের অন্যান্য জেনারেলের মধ্যেও তুমুল দ্বন্দ্ব শুরু হলো, একজনের সাথে হাত মিলিয়ে আরেকজনকে সরিয়ে দেওয়াতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লো সবাই।

একটানা বেশ কিছু যুদ্ধ আর ক্ষমতার হাতবদলের পর অবশেষে খ্রিস্টপূর্ব ৩০১ অব্দে ইপসাসের যুদ্ধের পর মেসিডোনিয়া আর গ্রিসের দায়িত্ব নেন ক্যাসান্ডার, অন্যদিকে মিশর, সিনাই পর্বত, গাজা আর এশিয়া মাইনরের দখল নেন প্রথম টলেমি, থ্রাসিয়া আর এশিয়া মাইনরের পশ্চিম অংশ নিজের দখলে নেন লাইসিম্যাকাস, আর দামাস্কাস, অ্যান্টিওক থেকে শুরু করে পারস্য পেরিয়ে আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের অংশবিশেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যের বাকি বিশাল অংশ নিয়ে নিজের সাম্রাজ্য গঠন করেন নিকাটোরের সেলুসিয়াস, যা পরে রূপ নেয় সেলুসিড সাম্রাজ্যে।

খ্রিস্টপূর্ব ৩০১ অব্দে ইপসাসের যুদ্ধের পর মেসিডোনিয়ান সাম্রাজ্যের মানচিত্র; Image Source: Wikimedia Commons

আলেকজান্ডার যখন জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তখন গ্রিক সংস্কৃতি গ্রিস, ক্রিট আর এর আশেপাশের বেশকিছু এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু আলেকজান্ডার যখন মারা গেলেন গ্রিক সংস্কৃতি তখন মিশর, ভূমধ্যসাগর, পারস্য ছাড়িয়ে ইন্দু নদী পর্যন্ত চলে গিয়েছে। তার মৃত্যুর একশো বছরের মধ্যেই পশ্চিমা শহরগুলোতর হাজার হাজার বিদ্যালয়ে গ্রিক সংস্কৃতি পড়ানো শুরু হয়। মেসিডোনিয়া থেকে ইন্ডিয়া, অক্সাস নদী থেকে নীল নদ সর্বত্র চোখে পড়বে আলেকজান্ডারের গৌরব। মধ্যপ্রাচ্যের বহু শহরে চোখে পড়বে গ্রিক সংস্কৃতির আদলে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি কিংবা তৈজসপত্র।

আফগানিস্তান কিংবা মধ্য এশিয়ার অনেক গোত্রের লোকেরাই তাদের ঘোড়াগুলোকে দাবি করে বুকেফ্যালাসের বংশধর হিসেবে। পারস্যের লোকেরা গর্ব করে বলে এখানে আলেকজান্ডার ঘুমিয়েছিলেন, কিংবা আলেকজান্ডার এই পথ দিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সবচেয়ে বিখ্যাত বোধহয় গ্রিসের জেলেদের কাহিনী।

এজিয়ান সাগরে মাছ ধরতে ব্যস্ত জেলেদের একজনের নৌকা হঠাৎ করে দুলে উঠলো। পাশে ফিরতেই এক মৎস্যকন্যা তাকে ডেকে বললো, "আমার ভাই, গ্রেট আলেকজান্ডার কোথায়?" গ্রিসের জেলেরা জানে, ভুল উত্তর দিলেই মৎস্যকন্যা রেগে তাদের নৌকা ডুবিয়ে দেবে। আর এই প্রশ্নের ঠিক উত্তর একটাই,

গ্রেট আলেকজান্ডার এখনো বেঁচে রয়েছেন, এবং পৃথিবী শাসন করছেন!

 


এ সিরিজের আগের পর্বগুলো-

প্রথম পর্ব:
দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার: রাজপুত্রের উত্থান
দ্বিতীয় পর্ব: দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার: এশিয়ায় পদার্পণ
তৃতীয় পর্ব: দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার: মিশরের নতুন দেবতা
চতুর্থ পর্ব: দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার: প্রাচ্যের প্রাচুর্য
পঞ্চম পর্ব: দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার: পৃথিবীর শেষ প্রান্তে
ষষ্ঠ পর্ব: দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার: দুর্গম ভারত
সপ্তম পর্ব: দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার: বিপদশঙ্কুল যাত্রা

This article is in Bangla language. This article is about Alexander the Great, the King of Macedonia, Lord of Asia.

References:

1. Alexander the Great In His World - Carol G. Thomas - Blackwell Publishing
2. Ancient World Leaders: Alexander The Great – Chelsea House Publications
3. Alexander The Great: Lessons From History's Undefeated General - Bill Yenne

Featured Image: Usama Rafid